নৃত্যশিল্পী হিসেবে পথচলা শুরু, এরপর অভিনয় আর সংগীতে একের পর এক সাফল্য জেনিফার লোপেজের ক্যারিয়ার যেন নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের গল্প। ১৯৯১ সালে ‘ইন লিভিং কালার’ শো-এর নৃত্যশিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করা জেনিফার ১৯৯৫ সালে ‘মাই ফ্যামিলি’ সিনেমার মাধ্যমে হলিউডে পা রাখেন। তবে ১৯৯৭ সালের প্রয়াত গায়িকা সেলেনার জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘সেলেনা’ তাঁকে এনে দেয় আন্তর্জাতিক খ্যাতি। এই সিনেমার জন্য প্রথম ল্যাটিন অভিনেত্রী হিসেবে ১০ লাখ ডলার পারিশ্রমিক পাওয়ার রেকর্ড গড়েন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি ১৯৯৯ সালে ‘অন দ্য সিক্স’ অ্যালবামের মাধ্যমে সংগীতজগতে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। ২০০১ সালে ‘জে. লো’ অ্যালবাম এবং ‘দ্য ওয়েডিং প্ল্যানার’ সিনেমার সাফল্যে একই সপ্তাহে মিউজিক চার্ট ও বক্স অফিস দুই জায়গাতে শীর্ষে থাকা প্রথম শিল্পী হিসেবে ইতিহাস গড়েন জেনিফার লোপেজ। এত সাফল্য, এত ব্যস্ততার ভিড়ে তাঁর তারুণ্যদীপ্ত ত্বক সবাইকে মুগ্ধ করে। চলুন জেনে নেওয়া যাব তাঁর স্কিনকেয়ার রুটিন।
জেনিফার লোপেজের স্কিনকেয়ার রুটিনে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হলো সানস্ক্রিন। সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বক রক্ষা করতে তিনি নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন। জেনিফার জানিয়েছেন, ছোটবেলায় একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ তাঁকে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিলেন। তখন বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেননি জেনিফার। পরে বুঝেছেন, প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস তাঁর ত্বক দীর্ঘদিন সতেজ রাখতে সাহায্য করেছে।
জেনিফার লোপেজের সৌন্দর্যচর্চার সঙ্গে যে উপাদান সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেটি হলো অলিভ অয়েল। তাঁর মা ছোটবেলা থেকে তাঁকে অলিভ অয়েল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। তাই ছোটবেলা থেকে জেনিফার ত্বক, চুল বা নখ শুষ্কতা দেখা দিলে নিয়মিত অলিভ অয়েল ব্যবহার করতেন। এই অভ্যাসের ফলে তিনি পরবর্তীকালে তাঁর নিজস্ব স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডের মধ্যেও অলিভ অয়েলসমৃদ্ধ পণ্য যোগ করেন। ২০২১ সালে জেনিফারের চালু করা জেলো বিউটির পণ্যগুলোতে অলিভসমৃদ্ধ উপাদান রয়েছে।
ফিটনেসের প্রতিও বেশ সচেতন জেনিফার লোপেজ। নিয়মিত ব্যায়াম করেন তিনি, ফলে ঘাম হওয়া তাঁর নিত্যদিনের বিষয়। আর তাই ব্যায়ামের পর তিনি নিয়মিত মুখ পরিষ্কার করেন। জেনিফারের মতে, ব্যায়ামের পর মুখ ধুয়ে নেওয়া তাঁর ত্বকের পোরস পরিষ্কার রাখে।
সারা দিনের ব্যস্ততা শেষে যতই ক্লান্ত থাকুন না কেন, মেকআপ না তুলে ঘুমাতে যান না জেনিফার। রাতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ক্লিনজার দিয়ে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কারের পর, ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে নাইট ক্রিম ব্যবহার করেন তিনি। ঘুমের প্রতি বেশ গুরুত্ব দেন জেনিফার। সুযোগ পেলে ৯-১০ ঘণ্টা ঘুমান তিনি। তবে অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করেন নিয়মিত।
জেনিফারের রুটিনে রয়েছে একটি সিরাম, যা ত্বক টান টান ও মসৃণ দেখাতে সাহায্য করে। এটিও অলিভ অয়েলসমৃদ্ধ উপাদান দিয়ে তৈরি।
উজ্জ্বল ত্বকের জন্য জেনিফারের পছন্দের উপাদানগুলোর একটি হলো গ্লাইকোলিক অ্যাসিড। ত্বকের ওপরে জমে থাকা মৃত কোষ সরাতে সাহায্য করে এটি। ফলে ত্বক আরও সতেজ দেখায়।
জেনিফারের রুটিনে সকাল ও রাতে আই ক্রিমের ব্যবহার রয়েছে। তাঁর পছন্দের আই ক্রিমে রয়েছে বিশেষ উপাদান, যা চোখের ডার্ক সার্কেল ও বয়সের ছাপ কমাতে সাহায্য করে।
খাবার ও পানীয়ের ক্ষেত্রেও বেশ সচেতন জেনিফার। অ্যালকোহল, ধূমপান এবং ক্যাফেইন এড়িয়ে চলেন তিনি। তাঁর খাবারে থাকে প্রচুর সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করেন তিনি। দিনের শুরুতে সবুজ শাকসবজি দিয়ে তৈরি গ্রিন জুস পান করার কথাও জানিয়েছেন তাঁর শেফ। সকালে পালংশাক ও শসা দিয়ে তৈরি একধরনের পানীয় পান করেন জেনিফার।
কাজের প্রয়োজনে ভারী মেকআপ করলেও ছুটির দিনে জেনিফার থাকেন একেবারে সাদাসিধে লুকে। নিজের প্রতিদিনের স্কিনকেয়ারকে তিনি সাধারণ রাখতে পছন্দ করেন। শুটিং বা অনুষ্ঠানের বাইরে কম মেকআপ ব্যবহার করে ত্বক সতেজ রাখেন তিনি।
নিয়মিত স্কিনকেয়ারের পাশাপাশি বিশেষ সময় বা অনুষ্ঠানের আগে পেশাদার ফেশিয়াল নেন জেনিফার। ঘরোয়া ও প্রতিদিনের যত্নের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী পেশাদার ট্রিটমেন্টও তাঁর স্কিনকেয়ারের অংশ।
জেনিফার লোপেজের দীর্ঘদিনের সৌন্দর্যচর্চা থেকে জন্ম নেয় তাঁর নিজস্ব স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ড জেলো বিউটি। ২০২১ সালে যাত্রা শুরু করা এই ব্র্যান্ডের মূল দর্শন—জটিল নয়, নিয়মিত ও কার্যকর স্কিনকেয়ার। ব্র্যান্ডটির অন্যতম প্রধান বিষয় অলিভ অয়েলসমৃদ্ধ স্কিনকেয়ার। ক্লিনজার, সিরাম, ময়েশ্চারাইজার, আই ক্রিম ও সানস্ক্রিনসহ নানা পণ্য পাওয়া যায় এখানে।
সূত্র: গ্রাজিয়া ম্যাগাজিন, ট্রুলি বিউটি