হোম > জীবনধারা > ফিচার

কাজ আমরা কেন পিছিয়ে রাখি

ফিচার ডেস্ক

ল্যাপটপে কাজ করার সময় সেখানে একসঙ্গে অনেকগুলো ট্যাব খোলা থাকলে ল্যাপটপটির গতি ধীর হয়। তেমনি জীবনের নানান কাজ জমিয়ে রাখলে আমাদের মস্তিষ্ক একইভাবে ক্লান্ত বা ধীরগতির হয়ে পড়ে। এভাবে কোনো কাজ জমিয়ে রাখাকে সমাজে আমরা আখ্যা দিই আলসেমি বলে। তবে মনস্তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মূলত ভয়, মানসিক চাপ ও নেতিবাচক অনুভূতি এড়ানোর এক জটিল রূপ।

কেন আমরা কাজ পিছিয়ে দিই

শিকাগোর ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ড. মারা সারিপল্লির মতে, মানুষ যখন কোনো কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও মানসিক ক্লান্তি নিয়ে বেশি চিন্তিত হয়ে পড়ে এবং তাৎক্ষণিক অস্বস্তি এড়াতে চায়, তখনই কাজের জড়তা তৈরি হয়। যুক্তরাজ্যের ডারহাম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. ফুশিয়া সিরোইস বলেন, কাজ পিছিয়ে দেওয়ার মূল কারণ হলো, কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত নেতিবাচক আবেগ নিখুঁত করার মানসিকতা এবং ভুল করার ভয়। এ ছাড়া কোচ ব্রেনডান মাহানের মতে, অতীতে কোনো কাজে ব্যর্থ হয়ে বকা শোনার অভিজ্ঞতা থাকলে তা মস্তিষ্কে একটি মানসিক দেয়াল তৈরি করে, যা পরে একই ধরনের কাজ শুরু করতে বাধা দেয়। আবার এডিএইচডি, উদ্বেগ বা বিষণ্নতার মতো সমস্যা থাকলেও মানুষের মানসিক সহনশীলতা কমে যায়। এই মানসিক চাপ ও অপরাধ বোধ থেকে পেটের ব্যথা, হজমের সমস্যা, বিষণ্নতা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো শারীরিক ক্ষতিও হতে পারে।

এই চক্র থেকে বের হওয়ার উপায়

নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া: ড. ফুশিয়া সিরোইস বলেন, অপরাধ বোধ বা লজ্জা মানুষকে আরও অচল করে ফেলে। তাই নিজেকে দোষ না দিয়ে আবেগগুলো স্বীকার করে নিতে হবে। কারণ, নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া জরুরি।

কাজকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করা: বড় কোনো কাজ দেখে ভয় পেলে সেটিকে একদম ছোট ও সহজ মাইক্রো স্টেপে ভেঙে ফেলা উচিত। এতে কাজ শুরু করা সহজ হয়।

কৌশল ব্যবহার: কোনো কাজে আগ্রহ না থাকলে সেখানে খেলা, নতুনত্ব, চ্যালেঞ্জ কিংবা ডেডলাইন যুক্ত করে অনুপ্রেরণা বাড়ানো যায়। এই কৌশল অবলম্বন করতে পারেন।

ভয় পর্যালোচনা করা: সম্ভাব্য খারাপ পরিস্থিতি সত্যিই কতটা ভয়ানক হতে পারে, তা ঠান্ডা মাথায় বিশ্লেষণ করতে শুরু করুন; যেমন কফির দোকান বা লাইব্রেরিতে পড়ার সময় মোবাইল ফোন দূরে রাখার মতো ছোট পরিবেশগত পরিবর্তন আনলে কাজ শেষ করা সহজ হয়।

সূত্র: সাইকোলজি টুডে, দ্য কনভারসেশন