হোম > জীবনধারা > ফিচার

কোন দেশে বন্ধু পাতানো সহজ আর কোন দেশে কঠিন, জেনে নিন

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর মানুষ ছোটবেলা থেকে যাঁদের সঙ্গে বড় হন, সেই নির্দিষ্ট গণ্ডির বাইরে সহজে নতুন কাউকে জায়গা দিতে চান না। ছবি: পেক্সেলস

নতুন দেশ, নতুন শহর আর একরাশ রোমাঞ্চ নিয়ে আমরা প্রবাসজীবনের স্বপ্ন বুনি। কিন্তু সেখানে অনেক চিন্তার মধ্যে একটি নীরব দুশ্চিন্তা আমাদের মনে সব সময় দানা বেঁধে থাকে। সেটি হলো, ‘সেখানে গিয়ে বন্ধু পাব তো?’ প্রবাসজীবনের বড় চ্যালেঞ্জ হলো পরিচিত গণ্ডি ছেড়ে সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে নিজের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য সামাজিক বলয় সৃষ্টি করা। নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম ‘ইন্টারনেশনস’-এর সাম্প্রতিক এক জরিপ বলছে, বিশ্বজুড়ে ৫০ শতাংশের বেশি প্রবাসী নতুন দেশে বন্ধু খুঁজে পেতে হিমশিম খান। তবে সব দেশের চিত্র এক নয়। কোনো কোনো দেশের মানুষেরা হাসিমুখে বিদেশিদের আপন করে নেন, আবার কোথাও হাজার চেষ্টা করেও স্থানীয়দের মন জয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। জেনে নিন বন্ধু পাতানোর ক্ষেত্রে বিশ্বের ‘সেরা’ ও ‘কঠিন’ দেশগুলোর খতিয়ান।

বন্ধুত্বের স্বর্গরাজ্য যেসব দেশ

তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে মেক্সিকো। এখানকার মানুষের আন্তরিকতা আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি যেকোনো বিদেশিকে দ্রুত আপন করে নেয়। ফলে বছরের পর বছর দেশটি প্রবাসীদের কাছে বন্ধুত্বের জন্য এক নম্বর গন্তব্য হিসেবে পরিচিত হয়ে আছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আমাদের নিকটবর্তী দেশ ফিলিপাইন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর প্রাণখোলা মানুষের কারণে সেখানে বিদেশিদের একাকিত্ব বোধ করার সুযোগ খুব কম।

বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি প্রবাসী নতুন দেশে বন্ধু খুঁজে পেতে হিমশিম খান। তবে সব দেশের চিত্র এক নয়। ছবি: পেক্সেলস

আশ্চর্যের বিষয় হলো, বন্ধুত্বের জন্য শীর্ষ তালিকার অধিকাংশ দেশই এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার। যেমন তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে আছে ইন্দোনেশিয়া। পর্যটক ও ডিজিটাল নোমাডদের জন্য এটি দারুণ এক জায়গা। ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ দেশগুলোতে স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে যাওয়া বেশ সহজ। লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল ও কলম্বিয়ার মতো দেশগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ প্রবাসীদের জন্য বন্ধুত্বের দরজা খুলে দেয়।

কেন ইউরোপ বন্ধুত্বের জন্য কঠিন

জরিপে উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য। ইউরোপের অধিকাংশ উন্নত দেশ, বিশেষ করে নর্ডিক এবং জার্মানভাষী দেশগুলোতে বন্ধু বানানো সবচেয়ে কঠিন। আর বন্ধু বানানো কঠিন দেশের তালিকায় প্রথমে রয়েছে কুয়েত। প্রবাসীরা মনে করেন, অনেক অভিবাসী থাকা সত্ত্বেও স্থানীয়রা সে দেশে খুব একটা বন্ধুত্বপূর্ণ নয়। তালিকার দুই থেকে সাত নম্বরের মধ্যে রয়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর অবস্থান। ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্কের মতো দেশগুলোর মানুষ সামাজিকভাবে অত্যন্ত রক্ষণশীল। তাঁরা ছোটবেলা থেকে যাঁদের সঙ্গে বড় হন, সেই নির্দিষ্ট গণ্ডির বাইরে সহজে নতুন কাউকে জায়গা দিতে চান না। জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডের মানুষের স্বভাব শীতল। বিদেশিদের সঙ্গে এ দেশগুলোর স্থানীয় মানুষের পরিমিত সামাজিকতা প্রবাসীদের মনে একধরনের দূরত্ব সৃষ্টি করে।

বন্ধুত্বের আড়ালে আড়াল

বহু সংস্কৃতির দেশ হওয়া সত্ত্বেও কানাডা বন্ধুত্বের তালিকায় বেশ কঠিন। তালিকায় এর অবস্থান অষ্টম। এর কারণ হিসেবে দেখা গেছে, কানাডিয়ানরা সৌজন্যমূলক আচরণে বেশ দক্ষ হলেও ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব গড়ার ক্ষেত্রে খুব একটা উদার নন। একই অবস্থা জাপানের। তালিকায় দেশটির অবস্থান ১৫তম। এ দেশের মানুষ শৈশবের বন্ধুদের সঙ্গে সারা জীবন কাটাতে পছন্দ করেন। ফলে প্রবাসীরা সেখানে অনেক সময় একাকিত্বে ভোগেন।

বন্ধুত্ব ও বাস্তবতা

বাঙালিরা সাধারণত আড্ডাপ্রিয় এবং অতিথিপরায়ণ। তাই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যাঁরা উচ্চশিক্ষা বা কাজের জন্য বাইরে যাওয়ার কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য এই তালিকা দিকনির্দেশক হতে পারে। মেক্সিকো, পানামা বা ওমানের মতো দেশগুলো আপনার জন্য মানসিক প্রশান্তি বয়ে আনলেও, ইউরোপের দেশগুলোতে পা রাখার আগে নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। সেখানে হয়তো আপনি উন্নত জীবন পাবেন; কিন্তু স্থানীয়দের সঙ্গে মনের মিল ঘটাতে আপনাকে অনেক বেশি ধৈর্য ধরতে হবে। বন্ধুত্ব কোনো গাণিতিক ফর্মুলা নয়, এটি নির্ভর করে আন্তরিকতা আর পরিস্থিতির ওপর। তবে আপনি কোন দেশে যাচ্ছেন, তার ওপর ভিত্তি করে আপনার সামাজিক জীবনের রূপরেখা অনেকটা বদলে যেতে পারে। তাই দেশ নির্বাচনের আগে সেখানকার ‘সোশ্যাল স্কিল’ বা বন্ধুত্বের সংস্কৃতি সম্পর্কে জেনে নেওয়া আপনার প্রবাসজীবন অনেক বেশি সহজ করে তুলবে।

সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, দ্য আইরিশ টাইমস, অরিজিনাল ট্রাভেল

আজ ‘ব্লা ব্লা ব্লা ডে’: প্রিয়জনের ‘ঘ্যানঘ্যানানি’ শোনার দিন!

আমাদের নববর্ষের আয়োজন শুরু হতো চৈত্র থেকে

বিদায় মধুমাস, স্বাগত বৈশাখ

ঘুমের প্যারামিটারে কোন মহাদেশের অবস্থান কোথায়, কারা কম ঘুমায়, কারা বেশি

কেন বড়বেলায় সময় দ্রুত ফুরিয়ে যায়, কারণ জেনে নিন

খাবারের জন্য রক্ত বিক্রি করা এই বিলিয়নিয়ারের জীবনের ৬ শিক্ষা

এ সময় খুশকি ও চুলকানির সমস্যা সমাধানে

দিন কাটুক ফুরফুরে

শিশুকে সফল হিসেবে দেখতে চান? শুরু হোক ঘরের কাজ দিয়ে

৩৫ বছরে সাফল্য চান? জেনে নিন উপায়