ডেটিং অ্যাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সমবয়সীদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করার প্রবণতা অনেক তরুণ-তরুণীর যৌনজীবন নিয়ে অযথা উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশেষ করে জেন-জি প্রজন্মের অনেকে মনে করছেন, বয়স অনুযায়ী তাঁদের যৌন অভিজ্ঞতা কম। ফলে তাঁরা নিজেদের ‘লেট ব্লুমার’ বা যৌনজীবনে দেরিতে শুরু করা মানুষ হিসেবে ভাবছেন এবং ভবিষ্যতে ভালো যৌনসঙ্গী হতে পারবেন কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন।
তবে যৌন বিশেষজ্ঞদের মতে, যৌন অভিজ্ঞতার পরিমাণ কখনোই ভালো যৌনসঙ্গী হওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। যুক্তরাষ্ট্রের কিনসি ইনস্টিটিউটের গবেষক জাস্টিন লেহমিলার বলেন, বিছানায় ভালো হওয়ার সঙ্গে কতজনের সঙ্গে যৌনসম্পর্ক হয়েছে, তার চেয়ে সঙ্গীর সঙ্গে কতটা যোগাযোগ করা যায় এবং তাঁর অনুভূতির প্রতি কতটা সাড়া দেওয়া যায়—তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মনোবিজ্ঞানী র্যাচেল নিডলও মনে করেন, প্রত্যেক মানুষ আলাদা। ফলে অনেক যৌন অভিজ্ঞতা থাকলেও কেউ ‘সব জানে’—এমন নয়। প্রতিটি নতুন সম্পর্কে শুনতে, মানিয়ে নিতে এবং শিখতে হয়। তাই যৌনসঙ্গীর সংখ্যা নয়, বরং পারস্পরিক যোগাযোগ ও মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা ‘লেট ব্লুমার’ শব্দটিকেও খুব একটা পছন্দ করছেন না। কারণ এই শব্দটি যৌনজীবনের একটি নির্দিষ্ট ‘সঠিক সময়’ থাকার ধারণা তৈরি করে। যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের প্রথম যৌন অভিজ্ঞতার গড় বয়স সাধারণত ১৭ থেকে ১৮ বছর হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এই বয়স বাড়ছে। কিনসি ইনস্টিটিউটের এক জরিপে ১৮ থেকে ৯১ বছর বয়সী অবিবাহিতদের ২২ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁদের এখনো কোনো সঙ্গীর সঙ্গে যৌন অভিজ্ঞতা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যৌনজীবনের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। কেউ ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিগত মূল্যবোধ, উদ্বেগ কিংবা সম্পর্কের অভাবের কারণে অপেক্ষা করতে পারেন। তরুণদের দীর্ঘ সময় বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অভাবও যৌনসম্পর্ক দেরিতে শুরু হওয়ার একটি কারণ হতে পারে। আবার কম বয়সে যৌনসম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা অনেকের জন্য সুখকর নাও হতে পারে।
যারা দেরিতে যৌনজীবন শুরু করছেন, তাঁদের সবচেয়ে বড় সমস্যা অভিজ্ঞতার অভাব নয়—আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি। নিজেকে অন্যদের সঙ্গে তুলনা করতে থাকলে উদ্বেগ বাড়ে এবং মানুষ বর্তমান মুহূর্ত উপভোগ করার বদলে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।
বরং অপেক্ষাকৃত বেশি বয়সে যৌনজীবন শুরু করা মানুষের কিছু সুবিধাও থাকতে পারে। তাঁদের মধ্যে আবেগগত পরিপক্বতা, নিজের মূল্যবোধ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা এবং সঙ্গীর কাছে কী চান—সেই বিষয়ে ভালো বোঝাপড়া থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে একাধিক সম্পর্কে জড়ানোর প্রয়োজন নেই। নিজের পছন্দ, সীমা ও আনন্দ সম্পর্কে আগে জানা জরুরি। যৌন সম্পর্কে প্রবেশের পরও নিজেকে ‘সব জানা’ মানুষ হিসেবে উপস্থাপন না করে প্রশ্ন করা, সঙ্গীর কথা শোনা এবং দুজনের জন্য কী ভালো লাগে তা একসঙ্গে আবিষ্কার করাই গুরুত্বপূর্ণ।
আর কোনো সম্ভাব্য সঙ্গীকে নিজের যৌন অভিজ্ঞতার বিস্তারিত হিসাব দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। তবে প্রয়োজন মনে হলে সংক্ষেপে জানানো যেতে পারে যে অভিজ্ঞতা খুব বেশি নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যে সঙ্গী সততা ও অস্বস্তিকে সম্মান করতে পারেন, তাঁর সঙ্গেই নিরাপদ ও আনন্দদায়ক সম্পর্ক গড়ে ওঠার সম্ভাবনা বেশি।
সবশেষে, যৌনজীবন কোনো প্রতিযোগিতা নয়। মানুষের পছন্দ, আকাঙ্ক্ষা ও অভিজ্ঞতা বয়স ও সম্পর্কভেদে বদলায়। তাই ‘আমি পিছিয়ে আছি’—এই ধারণার চেয়ে নিজের স্বাচ্ছন্দ্য, সম্মতি, যোগাযোগ এবং পারস্পরিক আস্থাকে গুরুত্ব দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।