হোম > জীবনধারা > ফিচার

কুসুম গরম পানিতে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে পান করলে যে উপকারগুলো পাওয়া যায়

ফিচার ডেস্ক

ছবি: এআই

সকালে ঘুম থেকে উঠে কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খাওয়াটা যাঁদের কাছে আলসেমির কাজ, তাঁরা সহজ একটি কাজ করতে পারেন; এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে পান করুন। সকালে খালি পেটে কুসুম গরম পানিতে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে পান করলে শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য ঠিক থাকে, হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয়, শরীর থেকে টক্সিন বেরিয়ে যায় এবং বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান হয়। এসব ছাড়া আরও যেসব কারণে এই পানীয় পান করতে পারেন, জেনে নিন।

শরীর হাইড্রেটেড রাখে

লবণে থাকা সোডিয়াম শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রোলাইট উপাদান। এক চিমটি লবণ মেশানো পানি খেলে শরীর দ্রুত পানি শোষণ করতে পারে। সকালে ছাড়া ব্যায়াম এবং অতিরিক্ত ঘামের পরও পান করা যেতে পারে লবণপানি।

হজমপ্রক্রিয়া সক্রিয় করে

লবণ খাবার হজম করার জন্য এনজাইম সক্রিয় করতে সাহায্য করে, যা হজমপ্রক্রিয়া শুরু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সকালে এক চিমটি লবণযুক্ত পানি পান করলে হজমশক্তি বাড়ে এবং শরীর খাবার থেকে সহজে পুষ্টি শোষণ করতে পারে।

শরীর থেকে টক্সিন দূর করে

লবণের জীবাণুনাশক গুণ শরীর থেকে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। এক চিমটি লবণ মেশানো কুসুম গরম পানি পান করলে দেহের ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হয়।

ছবি: পেক্সেলস

হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে

লবণ স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন নিঃসরণের ভারসাম্য বজায় রাখে। তবে এর জন্য রাতে ঘুমানোর আগে এই লবণ মেশানো পানি পান করতে হবে। এতে ঘুমও ভালো হয়।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়

লবণে থাকা ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মতো খনিজ উপাদান ত্বকের জন্য উপকারী। খনিজসমৃদ্ধ লবণযুক্ত পানি পানে শরীর এসব খনিজ শুষে নিতে পারে, যা ত্বক হাইড্রেটেড ও নমনীয় রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বক উজ্জ্বল করে তোলে।

ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ করে

ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রমের কারণে শরীর থেকে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রোলাইট বের হ‌য়ে যায়। এক চিমটি লবণযুক্ত পানি খেলে ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়। তাতে স্নায়ুর কার্যকারিতা, পেশির সংকোচন এবং কোষের স্বাভাবিক কাজ বজায় থাকে। জেনে রাখা ভালো, স্নায়ুতে সঠিক সংকেত পাঠা‌তে এবং পেশির সংকোচনের জন্য অপরিহার্য হলো সোডিয়াম। এক চিমটি লবণযুক্ত পানি পর্যাপ্ত পরিমাণে সোডিয়াম সরবরাহ করতে পারে, যা স্নায়ুর কার্যকারিতা ঠিক রাখে।

রক্তচাপের ভারসাম্য বজায় রাখে

এখানে অনেকেরই প্রশ্ন আসতে পারে, লবণপানি খেলে রক্তচাপ বাড়বে না তো? যদিও অতিরিক্ত লবণ রক্তচাপ বাড়াতে পারে, তবে অল্প পরিমাণ লবণ তরল পদার্থের ভারসাম্য বজায় রেখে রক্তচাপ স্থিতিশীল করতে পারে।

তাৎক্ষণিক শক্তি বাড়ায় ও ক্লান্তি দূর করে

কুসুম গরম পানিতে এক চিমটি লবণ যোগ করলে এই ভারসাম্য বজায় থা‌কে, যা ক্লান্তি দূর করতে পারে এবং সারা দিনের শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।

পানীয় তৈরির সঠিক নিয়ম ও পরিমাণ

এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে মাত্র এক চিমটি হিমালয়ান পিংক সল্ট বা সাধারণ লবণ মেশাতে হবে। সকালবেলা খালি পেটে অথবা ভারী ব্যায়ামের পর এটি পান করা সবচেয়ে ভালো। লবণপানির কার্যকারিতা বাড়াতে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে নিলে এটি ভিটামিন সির জোগান দেয় এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। চাইলে সামান্য মধুও মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে শরীরের শক্তি বাড়বে এবং তাৎক্ষণিক ক্লান্তি দূর হবে।

সতর্কতা

অতিরিক্ত লবণ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনির রোগে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে। তাই লবণযুক্ত পানি সপ্তাহে ৩ দিনের বেশি পান না করাই ভালো। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তারপর এই পানীয় পান করতে হবে।

সূত্র: হেলথশট ও অন্যান্য