বন্ধুত্ব উদ্যাপনের কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। তবে পোশাকের মাধ্যমে এই আত্মিক সম্পর্ক ফুটিয়ে তোলার আমেজ একেবারেই ভিন্ন। প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে মনের মিল থাকাটা যেমন আনন্দের, তেমনি পোশাকের স্টাইলেও যদি সেই মিল ফুটিয়ে তোলা যায়, তবে তা চমৎকার একটা বিষয় হয়। বিশেষ করে ফ্রেন্ডশিপ ডে বা বন্ধু দিবসে প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে মিল রেখে একই রঙের বা ধাঁচের পোশাক পরা কিংবা ‘টুইনিং’ করা ইদানীং তরুণদের মাঝে বেশ জনপ্রিয় ট্রেন্ড হয়ে উঠেছে। বন্ধুর সঙ্গে আউটফিটের মিল নিজেদের মধ্যকার বিশেষ মেলবন্ধন এবং ভালোবাসা প্রকাশের অনন্য উপায় হতে পারে।
জাতিসংঘ ৩০ জুলাই দিনটিকে বিশ্ব বন্ধু দিবস ঘোষণা করেছে। তবে বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আগস্টের প্রথম রোববার বন্ধু দিবস পালিত হয়। আপনি যেদিনই বন্ধু দিবস পালনের কথা ভাবুন না কেন, দিনটি উদ্যাপনের জন্য কেমন পোশাক পরবেন, তা আগেভাগেই ঠিক করে রাখা চাই। ওয়ার্ডরোব খোলার আগে তাই পড়ে নিতে পারেন লেখাটি।
বন্ধু দিবসে বন্ধুর সঙ্গে মানানসই পোশাক পরার পেছনে রয়েছে বেশ কিছু চমৎকার মনস্তাত্ত্বিক ও ফ্যাশনভিত্তিক কারণ। যেমন—
রঙ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী সৌমিক দাস বলেন, একই ধরনের পোশাক পরা বা টুইনিং সফল করতে কাপড়ের গুণমান ও ধরন নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। আবহাওয়া ও অনুষ্ঠানের ওপর ভিত্তি করে পোশাকের ফ্যাব্রিকস বেছে নেওয়া উচিত। যেমন—
আপনার সাধারণ টুইনিং পোশাক আরও অনন্য করে তুলতে নিজেদের হাতে তৈরি কিছু সৃজনশীল নকশা যুক্ত করতে পারেন। যেমন প্লেইন ডেনিম জ্যাকেটে নিজেদের পছন্দের কোনো ফান টেক্সট, প্রতীক কিংবা ফ্রেন্ডশিপ অ্যানিভারসারির তারিখসংবলিত আয়রন-অন প্যাচ লাগিয়ে নিতে পারেন।
এ ছাড়া প্লেইন টি-শার্ট বা সুতির ব্যাগে নিজেদের প্রিয় কোনো উক্তি কিংবা একে অন্যের নাম সুতা দিয়ে সুন্দর করে সেলাই করে নিলে তা সারা জীবনে এক অমূল্য স্মৃতি হয়ে থাকবে। পাশাপাশি আড্ডার ফাঁকে দুজনে মিলে নিজেদের পছন্দমতো রঙের পুঁতি ও সুতা দিয়ে বন্ধুত্বের বিশেষ ব্রেসলেট বানিয়ে হাতে পরলেও দারুণ দেখাবে।
সময়টাই এখন নিজেদের ভাবনা ছড়িয়ে দেওয়ার। হাতে আছে সোশ্যাল মিডিয়া। এর মাধ্যমে বন্ধুদের একত্র করুন। তারপর পৃথিবী, পরিবেশ, নদী কিংবা পছন্দের যেকোনো বিষয় সামনে রেখে নিজেদের জন্য একটি স্লোগান কিংবা ট্যাগ লাইন ঠিক করুন। একটি লোগোও তৈরি করে নিতে পারেন। সেই ট্যাগ লাইন ও লোগো প্রিন্ট করে নিন নির্দিষ্ট রং আর ডিজাইনের কোনো টি-শার্টে। তারপর সবাই মিলে পরে বন্ধু দিবসে ছবি ছড়িয়ে দিতে পারেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।
বয়স যা-ই হোক না কেন, আইডিয়া যদি সুন্দর হয়, তা ছড়িয়ে যাবে বিশ্বময়। এটি একই সঙ্গে আপনাদের ফ্যাশন স্টেটমেন্ট এবং নির্দিষ্ট কোনো কিছুর জন্য আপনাদের চূড়ান্ত অঙ্গীকারের কথা জানিয়ে দেবে সবাইকে।