হোম > জীবনধারা > ফিচার

ঘুমের সময় ফোন কোথায় রাখবেন

ফিচার ডেস্ক

ছবি: পেক্সেলস

ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোনে একটু চোখ বুলিয়ে নেওয়া এখন আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটু স্ক্রল করা, মেসেজের উত্তর দেওয়া কিংবা পরদিনের অ্যালার্ম সেট করে ফোনসেট বালিশের পাশে রেখে ঘুমিয়ে পড়ি অনেকে। কিন্তু ঘুমের সময় ফোনটি শরীরের এতটা কাছে রাখা কতটা নিরাপদ?

রেডিয়েশন কতটা ঝুঁকিপূর্ণ

মোবাইল ফোন থেকে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি নির্গত হয়। মোবাইল নেটওয়ার্ক, ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ সংযোগের ক্ষেত্রে এসব তরঙ্গ কাজ করে। অবশ্য এক্স-রে বা গামা রশ্মির মতো ডিএনএ ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা এর নেই। বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক ব্যবহারে মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন থেকে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘদিন ফোন পাশে নিয়ে ঘুমালে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে।

মোবাইল ফোন যত কাছে, এক্সপোজারও তত বেশি

মোবাইল ফোনের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি এক্সপোজার বোঝাতে স্পেসিফিক অ্যাবসর্পশন রেট ব্যবহার করা হয়। ফোনের মডেলগুলো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা মান মেনে তৈরি করা হয়। তবে ফোন শরীরের যত কাছে থাকে, এক্সপোজার তত বেশি হতে পারে। তাই অপ্রয়োজনে সারা রাত মোবাইল ফোন মাথার পাশে রাখার অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত।

ঘুম নষ্ট করছে ফোনের স্ক্রিনও

ফোন পাশে রাখার ক্ষেত্রে রেডিয়েশনের চেয়ে বেশি বাস্তব সমস্যা হতে পারে এর ব্যবহার। ঘুমানোর ঠিক আগে ফোনে দীর্ঘ সময় স্ক্রল করা, ভিডিও দেখা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার মস্তিষ্ককে সক্রিয় করে তুলতে পারে। ফোনের স্ক্রিন থেকে আসা আলোও ঘুমের স্বাভাবিক নিয়মে প্রভাব ফেলে।

মেলাটোনিন কমিয়ে দিতে পারে রাতের স্ক্রিন

মেলাটোনিন ঘুমের জন্য শরীর প্রস্তুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাতে উজ্জ্বল স্ক্রিনের দিকে দীর্ঘ সময় তাকিয়ে থাকলে মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণে বাধা সৃষ্টি হয়। রাতে উজ্জ্বল স্ক্রিনের দিকে দীর্ঘ সময় তাকিয়ে থাকলে মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণে বাধা সৃষ্টি হয়। মেলাটোনিন শরীরকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে ঘুম আসতে দেরি হওয়া, ঘুমের সময় কমে যাওয়া কিংবা ঘুমের মান খারাপ হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

নোটিফিকেশনের শব্দেও ভাঙতে পারে ঘুম

ফোনের নোটিফিকেশনও রাতের ঘুমে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। হঠাৎ শব্দ, কম্পন বা স্ক্রিনের আলো ঘুম ভেঙে দিতে পারে। অনেক সময় পুরোপুরি জেগে না উঠলেও এসব ছোটখাটো বিষয় ঘুমে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

ছবি: পেক্সেলস

ঘুমের সময় মোবাইল ফোন রাখবেন কোথায়

ঘুমানোর সময় মোবাইল ফোনটি মাথার পাশে বা বালিশের নিচে না রেখে বিছানা থেকে কিছুটা দূরে রাখা ভালো। সম্ভব হলে প্রায় এক মিটার দূরে কোনো টেবিল বা চার্জিং স্ট্যান্ডে রাখতে পারেন। এতে ফোনের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারও কমবে এবং ঘুমের মধ্যে বারবার মোবাইল ফোন হাতে নেওয়ার প্রবণতাও কমতে পারে।

এয়ারপ্লেন মোড হতে পারে সহজ সমাধান

রাতে ফোনের ওয়্যারলেস সংযোগ প্রয়োজন না হলে এয়ারপ্লেন মোড চালু করে রাখা যেতে পারে। এতে মোবাইল নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন ওয়্যারলেস সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। অ্যালার্ম ব্যবহারের প্রয়োজন হলে ফোনের সেটিংস অনুযায়ী সেটি কাজ করবে কি না, আগে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

ঘুমের আগে মোবাইল ফোন থেকে রাখুন দূরত্ব

ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করার চেষ্টা করতে পারেন। একান্ত প্রয়োজন হলে নাইট মোড ব্যবহার করা যায়। তবে শুধু ফিল্টার চালু করলেই সমস্যার সমাধান হবে এমন নয়, ঘুমের আগে স্ক্রিন ব্যবহারের সময় কমানোই বেশি উপযোগী।

নোটিফিকেশনের শব্দ ও কম্পন বন্ধ করতে ডু নট ডিস্টার্ব মোড ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে আলাদা অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার করতে পারেন।

মোবাইল ফোন নিয়ে আতঙ্ক নয়, দরকার সচেতনতা

মোবাইল ফোন ঘুমের সময় কাছে রাখলেই ক্যানসার বা অন্য কোনো গুরুতর রোগ হবে—এমন নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। একইভাবে ফোনের রেডিয়েশন নিয়ে সব ধরনের আশঙ্কা সত্য ধরে নেওয়ারও কারণ নেই। তবে ভালো ঘুমের জন্য রাতে মোবাইল ফোন থেকে দূরত্ব তৈরি করা উপকারী। তাই ঘুমানোর সময় সেটি বালিশের নিচে বা মাথার একেবারে পাশে না রেখে কিছুটা দূরে রাখুন। স্ক্রিনের ব্যবহার কমান, নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন এবং ঘুমের আগে ফোনের বদলে বই পড়া, হালকা গান শোনা কিংবা কিছুক্ষণ নীরবে বিশ্রাম নেওয়ার অভ্যাস করুন।

প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে। তবে রাতের ঘুমের সময় সেটিকে একটু দূরে রাখাই হতে পারে শরীর ও মনের জন্য ভালো।

সূত্র: আমেরিকান অনকোলজি