হোম > জীবনধারা > ফ্যাশন

জেন-জিদের মুড বোর্ডে বলিউড ডিভাদের সাজপোশাক

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 

জেন-জি প্রজন্ম নিজেদের ছেলেবেলার নস্টালজিয়ার কারণে বলিউডের বিভিন্ন চরিত্র থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের রোজকার পরিধেয় বেছে নিচ্ছেন। প্রতীকী ছবি: পেক্সেলস

পিন্টারেস্টের মুড বোর্ড বা পোশাকের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অ্যাস্থেটিক তকমা চালু হওয়ার অনেক আগেই; এমনকি মব ওয়াইফ, কোকেট বা ওল্ড মানির মতো শব্দগুলো ফ্যাশন বিশ্বে আসার বহু আগে বলিউডের সিনেমায় এই স্টাইলগুলো দেখা গেছে।

একুশ শতকের শুরুর দিকের ভারতীয় সিনেমার কাল্পনিক নারী চরিত্রগুলো কেবল সিনেমার গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তাঁরা ছিলেন জীবন্ত ট্রেন্ড-সেটার বা স্টাইলের এমন সব উদাহরণ, যা একটি প্রজন্মের পছন্দ-অপছন্দ ও আত্ম-উপলব্ধি গড়ে দিয়েছিল। এককথায় নিজেরা কিছু বলার আগেই তাঁদের পোশাক বলে দিত চরিত্রটি কেমন। ২০২৬ সালে যখন জেন-জিদের মধ্যে সেই ফ্যাশন পুরোদমে ফিরে এসেছে, তখন এই প্রজন্ম ফ্যাশনধারার সেই মূল উৎসের সন্ধানে নেমেছে। এর সন্ধান পাওয়া গেছে টেলিভিশন পর্দায়, যে সময়টায় জেন-জি তাদের ‘ছেলেবেলা’ পার করছিল। জেনে নিন, জেন-জি কোন নস্টালজিয়া এবং বলিউডের কোন চরিত্রগুলো থেকে নিজের রোজকার পরিধেয় বেছে নিচ্ছেন।

পূজা, ‘কাভি খুশি কাভি গম’ (২০০১)

কারিনা কাপুর ‘কাভি খুশি কাভি গম’ সিনেমার পূজা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ছবি: ফেমিনা

পর্দায় তাঁর প্রবেশমাত্রই একুশ শতকের নব্য ফ্যাশনের পুরো ধারণাটি যেন স্পষ্ট হয়ে উঠত। রাইনস্টোন বসানো ক্যামিসোল, ভেলোর ট্র্যাকস্যুট, প্রজাপতির মোটিফ এবং বডিকন ড্রেস ইত্যাদি পোশাকে পূজার মধ্যে এমন এক আত্মবিশ্বাস ও ভাবভঙ্গি ফুটে উঠত, যেন তাঁর নিজেকে প্রমাণ করার কোনো তাগিদই নেই! কারিনা কাপুর চরিত্রটিকে এমনভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন, যেন আত্মবিশ্বাসই তাঁর ফ্যাশনের মূল উপাদান; আর চকচকে ঠোঁট, ফ্রস্টেড আইশ্যাডো, ব্রোঞ্জড গাল ও নিখুঁতভাবে সাজানো ভ্রু; সব মিলিয়ে তাঁর পোশাকের সেই বার্তাটিই যেন আরও জোরালো হয়ে উঠত। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন যে পূজার স্টাইল ফিরে আসার জোয়ার দেখা যাচ্ছে, তা কেবল নস্টালজিয়া নয়; এটি একধরনের স্বীকৃতি। জেন-জি যখন বেবি টি বা ছোট আকারের টি-শার্ট, ম্যাচিং কো-অর্ড সেট, প্রজাপতির নকশা, প্ল্যাটফর্ম হিল এবং ছোট ব্যাগের প্রতি টান অনুভব করতে লাগল, খোঁজ নিয়ে জানা গেল, কারিনা আসলে ২৫ বছর আগেই এসবের সূচনা করেছিলেন।

সানজানা, ‘ম্যায় হুঁ না’ (২০০৪)

‘ম্যায় হুঁ না’ সিনেমায় সানজানা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অমৃতা রাও। ছবি: ফেমিনা

সানজানা ভেতরে-ভেতরে ছিলেন পাশের বাড়ির সাধারণ মেয়ের মতো এক চরিত্র। কিন্তু তাঁর সাজপোশাকে এমন এক আকর্ষণ ও রঙের ছোঁয়া ছিল, সেই লুকটি সাধারণ না হয়ে বরং অনেকের কাছে কাঙ্ক্ষিত বা অনুকরণীয় হয়ে উঠেছিল। এমব্রয়ডারি করা কুর্তি বা প্রিন্টেড সালোয়ার-কামিজের কথা এখানে ভুলে যান। তাঁর বেবি টি-শার্ট, ফ্লেয়ার্ড জিনস, টুপি, বাটারফ্লাই ক্লিপ, রঙিন চুড়ি এবং স্টাইলিশ ব্যাগ—এই সবকিছু একসঙ্গে পরার ভঙ্গিটি এমন সাবলীল ছিল যে বেমানান মনে হতো না। অমৃতা রাও এই সানজানা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। জেন-জিদের মধ্য়ে মিষ্টি মেয়েটিও যখন রঙিন কুর্তা, ঐতিহ্যবাহী গয়না, রং করা কোঁকড়া চুলে হেয়ার অ্যাকসেসরিজকে সাদরে গ্রহণ করছে, তখন সানজানাকে মনে না করে উপায় নেই। নীরবে এই আলোচনার অন্যতম প্রাসঙ্গিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন ‘ম্যায় হুঁ না’ চলচ্চিত্রের সানজানা চরিত্রটি।

ভেরোনিকা, ‘ককটেল’ (২০১২)

‘ককটেল’ সিনেমায় ভেরোনিকা চরিত্রটিতে অভিনয় করেছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন। ছবি: ফেমিনা

ভেরোনিকা ছিল সেই মেয়েটি, যাকে নিয়ে সিনেমাটির দর্শক খানিকটা হতাশ হলেও ভেতরে-ভেতরে ঠিকই সমর্থন করেছেন। তাঁর পোশাকের সংগ্রহে ছিল বডিকন ড্রেস, সিকুইন, মেটালিক ফ্যাব্রিকস, লেদার জ্যাকেট, মিনিস্কার্ট, ফিটেড জাম্পস্যুট এবং নজরকাড়া হিল। তিনি এমন এক প্রাণবন্ত ভঙ্গিতে এগুলো পরতেন, যেন জীবনে একবারও কোনো পোশাক বাছাই নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবেননি। স্মোকি আই মেকআপ, ন্য়ুড লিপকালার, ব্রোঞ্জড স্কিন আর এলোমেলো বিচ ওয়েভস হেয়ারস্টাইল। ব্যক্তিত্বের মোড়কে একটি সম্পূর্ণ নান্দনিক। এই ভেরোনিকা ছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন। ২০২৬ সালে যখন বিশ্বে পার্টি-কোর, আফটার-ডার্ক গ্ল্যামার এবং নাইট লাইফ ড্রেসিং পুরোপুরি ফিরে আসছে, তখন ভেরোনিকার পোশাক কোনো পুরোনো ফ্যাশন নয়। বরং এটি বর্তমান সময়েরই একটি নিদর্শন। বর্তমানে প্রতিটি ফ্যাশন ফিডে ছেয়ে থাকা সাটিন স্লিপ ড্রেস, মেটালিক সেপারেটস এবং মসৃণ মনোক্রোম পোশাকগুলো সরাসরি তাঁর আলমারি থেকেই এসেছে বলে মনে হতে পারে!

আয়েশা, ‘আয়েশা’ (২০১০)

সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড হওয়ার অনেক আগেই আয়েশা ওল্ড মানি স্টাইল অনুসরণ করতেন। ‘আয়েশা’ সিনেমায় আয়েশা চরিত্রটিতে অভিনয় করেছিলেন সোনম কাপুর। ছবি: ফেমিনা

সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড হওয়ার অনেক আগেই আয়েশা ওল্ড মানি স্টাইল অনুসরণ করতেন। তিনি তা এমন নিখুঁত স্টাইলিংয়ের সঙ্গে করতেন, যা অনুকরণ করার চেষ্টা আজও বেশির ভাগ আধুনিক মুড বোর্ড করে থাকে। প্যাস্টেল রঙের ড্রেস, প্লিটেড স্কার্ট, ঝকঝকে সাদা শার্ট, মুক্তার গয়না, ব্যালে ফ্ল্যাট এবং হ্যান্ডব্যাগ। প্রতিটি পোশাক দেখে মনে হতো, সেগুলো নিয়ে দীর্ঘ সময় ভাবা হয়েছে এবং তারপর এমনভাবে পরা হয়েছে যেন এর জন্য কোনো চিন্তাভাবনারই প্রয়োজন হয়নি। এই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সোনম কাপুর। যিনি বাস্তবেও এই আয়েশার মতোই—নিঃশব্দ বিলাসিতা, নিখুঁত টেইলারিং এবং ক্ল্যাসিক ইউরোপীয় ধাঁচের পোশাকের পুনরুজ্জীবন আয়েশার পোশাক-পরিচ্ছদকে সন্তোষজনক উপায়ে আবার আলোচনায় ফিরিয়ে এনেছেন।

সূত্র ও ছবি: ফেমিনা