স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি এখন ব্যক্তিগত তথ্য রাখার ভল্ট। তাই ব্যস্ত রাস্তায় বা গণপরিবহনে চলাচলের সময় মোবাইল ফোনটি হারিয়ে ফেলা মানে শুধু একটি ডিভাইস হারানো নয়, বরং ব্যক্তিগত তথ্য ও গোপনীয়তার ঝুঁকি তৈরি হওয়া। বিশেষ করে বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা কিংবা অন্য কোনো গণপরিবহনে চলাচলের সময় একটু অসতর্ক হলেই মোবাইল ফোন পড়ে যেতে পারে বা চুরি হতে পারে। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে এবং যাতায়াতের সময় কয়েকটি অভ্যাস মেনে চলা জরুরি।
আধুনিক স্মার্টফোনে থাকা ডিভাইস ট্র্যাকিং সুবিধা হারানো মোবাইল ফোন খুঁজে পেতে সহায়তা করতে পারে। বাইরে যাওয়ার আগে যেকোনো ডিভাইসের এই সুবিধা সক্রিয় আছে কি না, তা পরীক্ষা করে নিন। পাশাপাশি কীভাবে মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করতে হয়, সেটিও আগে জেনে রাখা ভালো। এতে মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে দ্রুত সেটির অবস্থান শনাক্ত করার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।
গণপরিবহনে যাতায়াতের সময় মোবাইল ফোন হাতে বা পকেটে রাখার বদলে ব্যাগের ভেতরের নিরাপদ পকেটে রাখা ভালো। ব্যাগের চেইন বন্ধ আছে কি না, সেটিও খেয়াল রাখুন। মোবাইল ফোনটি এমন জায়গায় রাখুন, যেখান থেকে অসাবধানতাবশত পড়ে যাওয়ার বা অন্য কেউ সহজে তুলে নেওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।
ব্যস্ত বাসস্ট্যান্ড, রিকশা বা বাসে চলাচলের সময় দামি মোবাইল ফোন প্রকাশ্যে ব্যবহার না করাই নিরাপদ। বিশেষ করে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলা বা হাতে ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকার সময় আশপাশের বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। প্রয়োজন হলে ফোন ব্যবহার শেষে নিরাপদ জায়গায় রেখে দিন। চোখের সামনে না থাকলে চুরি বা ছিনিয়ে নেওয়ার ঝুঁকিও কিছুটা কমে।
মোবাইল ফোনের জন্য ভালো মানের কভার ব্যবহার করলে সেটি হাত থেকে পড়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে। চাইলে নিরাপত্তা বাড়াতে এমন কভার ব্যবহার করা যায়, যেগুলো ব্যাগের সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত করা যায়। এতে চলন্ত গাড়িতে মোবাইল ফোন হাত থেকে পড়ে যাওয়ার শঙ্কা কম থাকে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মোবাইল ফোনের নিরাপত্তা শুধু প্রযুক্তিনির্ভর নয়, ব্যক্তিগত সচেতনতার ওপরও অনেকটাই নির্ভরশীল। গণপরিবহনে ওঠার আগে ফোন সেট কোথায় রাখছেন, চলার সময় সেটি প্রকাশ্যে আছে কি না এবং যানবাহন থেকে নামার সময় সঙ্গে নিয়েছেন কি না, এই ছোট ছোট বিষয়েও নজর দেওয়া দরকার।
সূত্র: আইফিক্সইট