হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

ত্বকের গোপন সুরক্ষাবলয় ভালো রাখবেন যেভাবে

ফিচার ডেস্ক

মডেল: কলি। ছবি: মঞ্জু আলম

সৌন্দর্যচর্চায় আমরা প্রায়ই ত্বকে তাৎক্ষণিক উজ্জ্বলতা পাওয়া কিংবা ব্ল্যাকহেডস বা বলিরেখা কমানোর বিষয়ে মনোযোগী হয়ে পড়ি। কিন্তু স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, কোমল ও দাগহীন ত্বকের মূল চালিকাশক্তি হলো স্কিন ব্যারিয়ার। অনেকে একে বাইরের একটি সাধারণ আবরণ মনে করলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও কার্যকর একটি প্রতিরক্ষামূলক ঢাল। আপনার এই প্রাকৃতিক সুরক্ষা প্রাচীরটি কোনো কারণে দুর্বল বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়লে যত দামি সেরাম বা টোনারই ব্যবহার করুন না কেন, ত্বকের কাঙ্ক্ষিত সৌন্দর্য বা সতেজতা ফিরিয়ে আনা অসম্ভব।

প্রাকৃতিক সুরক্ষাপ্রাচীর ও তার গঠন

ত্বকের একদম উপরিভাগের স্তরটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় স্ট্র্যাটাম কর্নিয়াম বলা হয়। এটিকে একটি মজবুত দেয়ালের কাঠামোর মাধ্যমে সহজে বোঝা যেতে পারে। ত্বকের কোষকে দেয়ালের গাঁথুনির ইট মনে করুন। ত্বকের ওপরের স্তরে ঘনভাবে সাজানো প্রতিটি মৃত ও শক্ত কোষ একেকটি ইটের মতো কাজ করে। এরপর আসে লিপিডের কথা। লিপিডকে তুলনা করা যেতে পারে সিমেন্টের সঙ্গে। কোষগুলোর মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গা পূর্ণ করে রাখে সেরামাইড, কোলেস্টেরল ও প্রাকৃতিক ফ্যাটি অ্যাসিডের সমন্বয়ে তৈরি একপ্রকার ফ্যাট বা লিপিড। এটি উপাদানগুলোকে শক্তভাবে একসঙ্গে ধরে রাখে। এই কোষ ও লিপিডের সমন্বয়ে তৈরি আমাদের স্কিন ব্যারিয়ার। এই প্রাকৃতিক প্রলেপটি মূলত ত্বকের ভেতরের প্রয়োজনীয় পানি ও স্বাভাবিক আর্দ্রতাকে বাষ্প হয়ে উড়ে যেতে দেয় না এবং বাইরের ধূলিকণা, জীবাণু, অ্যালার্জেন ও দূষণকে ত্বকের ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।

স্কিন ব্যারিয়ার বা সুরক্ষাপ্রাচীর ভেঙে পড়ার কারণ ও লক্ষণ

প্রতিদিনের অনিয়ম ও ভুলেই এই প্রাকৃতিক প্রাচীর বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন বা ঘন ঘন কেমিক্যাল স্ক্রাব ব্যবহার, তীব্র ক্ষারযুক্ত ফেসওয়াশ, অতিবেগুনি রশ্মি, অ্যালকোহলযুক্ত প্রসাধনী এবং অত্যধিক মানসিক চাপ ব্যারিয়ারের অভ্যন্তরীণ লিপিড স্তরে ফাটল তৈরি করে।

স্কিন ব্যারিয়ার দুর্বল বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ত্বকে যেসব লক্ষণ দেখা দেয় সেগুলো হলো:

  • ত্বকের নিজস্ব আর্দ্রতা দ্রুত শুকিয়ে যায়। ফলে মুখ ধোয়ার পর চরম শুষ্কতা ও অস্বস্তিকর টানটান ভাব অনুভব হয়।
  • বাহ্যিক ধুলাবালু বা সামান্য প্রসাধনীর স্পর্শেই ত্বক লাল হয়ে যায়, চুলকানি হয় এবং সংবেদনশীলতা বেড়ে যায়।
  • বাইরের অ্যালার্জেন ও জীবাণু সহজে ত্বকের গভীরে ছড়াতে পারায় হঠাৎ করে ব্রণ ও র‍্যাশ দেখা দেয়।

সুরক্ষাপ্রাচীর পুনর্গঠনে কপার পেপটাইডের বিশেষ ভূমিকা

সাম্প্রতিক আধুনিক ডার্মাটোলজি গবেষণায় স্কিন ব্যারিয়ার পুনর্গঠন ও মেরামতে কপার পেপটাইডের ভূমিকা বিশেষভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সাধারণত রেটিনল বা তীব্র কেমিক্যাল অ্যাসিড ব্যবহার করলে অনেক সময় ত্বক সাময়িকভাবে শুষ্ক ও সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। কিন্তু কপার পেপটাইড কোনো প্রদাহ বা সংবেদনশীলতা তৈরি না করেই প্রাকৃতিকভাবে ত্বকে কোলাজেন তৈরিতে উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। এটি ত্বকের সূক্ষ্ম ক্ষত ও টিস্যুর ক্ষতি খুব দ্রুত নিরাময় করে এবং ভেতরের প্রোটিন গঠনকে পুনর্গঠিত করে ত্বক নমনীয় ও সহনশীল করে তোলে।

স্কিন ব্যারিয়ার মেরামতের উপায়

  • মাইল্ড ও পিএইচ ব্যালেন্সড পরিষ্কারক: ত্বক পরিষ্কার করতে সব সময় কম ফেনাযুক্ত এবং পিএইচ ব্যালেন্সড হালকা ফেসওয়াশ বেছে নিন। এটি ত্বকের ক্ষতিকারক ক্ষারীয় ভারসাম্য নষ্ট হতে দেয় না।
  • সেরামাইডযুক্ত ময়শ্চারাইজার: যেসব প্রসাধনী বা ময়শ্চারাইজারে সেরামাইড, কোলেস্টেরল ও ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, সেগুলো সরাসরি ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত লিপিড স্তর মেরামত করতে সাহায্য করে।
  • পেপটাইডের সঠিক ব্যবহার: স্কিন কেয়ার রুটিনে কপার পেপটাইড বা সাধারণ পেপটাইডযুক্ত লাইটওয়েট সেরাম যুক্ত করুন। এটি ত্বকে ভেতর থেকে শক্তি জোগায়।
  • অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন বন্ধ রাখা: কেমিক্যাল স্ক্রাব বা অ্যাকটিভ অ্যাসিড সপ্তাহে ১ থেকে ২ বারের বেশি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। সেই সঙ্গে কৃত্রিম সুগন্ধিযুক্ত ও অ্যালকোহলযুক্ত টোনার বর্জন করুন।
  • দৈনিক সানস্ক্রিনের ব্যবহার: সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের লিপিড ও প্রোটিন-কাঠামো ভেঙে দেয়। তাই ঘর থেকে বের হওয়ার আগে প্রতিদিন সঠিক সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

সূত্র: হেলথলাইন ও অন্যান্য