হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

‘সানবার্ন’ বনাম ‘সান পয়জনিং’—রোদে ত্বকের সুরক্ষায় যা জানা জরুরি

ফারিয়া রহমান খান 

ছবি: পেক্সেলস

আমাদের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশে রোদে পোড়া বা ‘সানবার্ন’ খুবই পরিচিত সমস্যা। তবে আমরা অনেকে জানি না যে সাধারণ এই রোদে পোড়া দাগ যখন চরমে পৌঁছায়, তখন তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘সান পয়জনিং’ বলা হয়। সাধারণ সানবার্ন ঘরোয়া যত্নে সেরে গেলেও সান পয়জনিং একটি মারাত্মক মেডিকেল কন্ডিশন, যা অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হয়। আজকের আয়োজনে থাকছে এই দুইয়ের পার্থক্য, ঝুঁকি এবং মুক্তির উপায়।

মূল পার্থক্য কোথায়

সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি যখন ত্বকের বাইরের স্তরের কোষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তখন সেখানে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। এর ফলে ত্বক লাল হয়ে যায়, জ্বালাপোড়া করে এবং চুলকায়; একেই বলে সানবার্ন। এটি সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে সেরে যায়।

অন্যদিকে সান পয়জনিং সানবার্নের মারাত্মক রূপ। এটি মূলত শরীরের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার একটি অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া বা অ্যালার্জি। যখন অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে মারাত্মক ক্ষতি করে, তখন সান পয়জনিং দেখা যায়। সানবার্ন সাধারণত এক সপ্তাহে সেরে গেলেও সান পয়জনিং সারতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে।

লক্ষণ চেনার উপায়

সানবার্ন হলে ত্বকে লালচে ভাব হয়, চুলকায় এবং আক্রান্ত স্থানটি গরম অনুভূত হয়। কিন্তু সান পয়জনিংয়ের ক্ষেত্রে ত্বকে বড় বড় ফোসকা পড়ে এবং চামড়া উঠে যেতে থাকে। এর পাশাপাশি জ্বর, কাঁপুনি, বমি বমি ভাব, তীব্র মাথাব্যথা, মাথাঘোরা এবং শরীরের জয়েন্ট বা পেশিতে ব্যথা হতে পারে। সান পয়জনিংয়ে পানিশূন্যতার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

কাদের ঝুঁকি বেশি

যাঁদের গায়ের রং ফর্সা বা উজ্জ্বল, যাঁরা নিরক্ষরেখার কাছাকাছি বা উঁচু পাহাড়ে থাকেন বা দিনের অনেকটা সময় রোদে কাজ করেন; তাঁদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া একজিমা বা লুপাস-জাতীয় চর্মরোগ থাকলেও সান পয়জনিং হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

দ্রুত আরাম পাওয়ার ৬টি ঘরোয়া উপায়

আপনার ত্বক যদি রোদে পুড়ে যায় তবে দ্রুত আরাম পেতে নিচের উপায়গুলো অবলম্বন করুন:

অ্যালোভেরা জেল

পোড়া ত্বকের চিকিৎসায় অ্যালোভেরা জাদুর মতো কাজ করে। এটি ত্বকের জ্বালাপোড়া কমিয়ে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে। সরাসরি অ্যালোভেরা পাতার জেল পোড়া স্থানে লাগালে তাৎক্ষণিক আরাম পাবেন।

‘চন্দন ত্বক ঠান্ডা রাখে। পাশাপাশি এটি ত্বক থেকে রোদে পোড়া দাগ ও অন্যান্য কালো দাগ দূর করতেও খুব ভালো কাজ করে। রোদ থেকে ফিরে চন্দনের ফেসপ্যাক ব্যবহারে আরাম পাওয়া যায়। এই ফেসপ্যাক বানানোও সহজ। গোলাপজলের সঙ্গে চন্দনের গুঁড়া মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। এই প্যাক ব্যবহারে ত্বক অনেকটা আরাম পাবে।’
শারমিন কচি, রূপবিশেষজ্ঞ ও স্বত্বাধিকারী, বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ কেয়ার

ঠান্ডা সেঁক

আক্রান্ত স্থানে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিন বা পরিষ্কার কাপড়ে বরফ পেঁচিয়ে সেঁক দিন। তবে সরাসরি ত্বকে বরফ লাগাবেন না; এতে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি পান

রোদে পোড়া ত্বক ভেতর থেকে নিরাময় করতে পানির বিকল্প নেই। পানিশূন্যতা রোধে প্রচুর পানি পান করুন।

ছবি: পেক্সেলস

ওটমিল

ওটমিল গুঁড়া করে পানির সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে ত্বকে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এতে আরাম পাওয়া যায়।

বেকিং সোডা ও মধু

গোসলের পানিতে সামান্য বেকিং সোডা মিশিয়ে নিলে ত্বকের জ্বালা কমে। এ ছাড়া আক্রান্ত স্থানে মধু লাগালেও ত্বক দ্রুত সেরে ওঠে।

ফোসকার যত্ন

ত্বকে ফোসকা পড়লে সেগুলোতে কখনোই হাত দেবেন না। সাবান ও পানি দিয়ে জায়গাটি পরিষ্কার রেখে অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম ব্যবহার করুন। ব্যথা ও ফোলা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন-জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। এ ছাড়া পোড়া জায়গায় কোনো তেল বা পেট্রোলিয়ামসমৃদ্ধ লোশন ব্যবহার করবেন না।

প্রতিরোধ

সুরক্ষার প্রধান উপায় হলো প্রতিরোধ। রোদে বের হওয়ার কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই এসপিএফ-৩০ বা তার বেশি মাত্রার সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন এবং প্রতি ২ ঘণ্টা অন্তর পুনরায় ব্যবহার করুন। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকতে হলে ছাতা, সানগ্লাস ও ফুলহাতা সুতির জামা পরুন। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রোদের তেজ সবচেয়ে বেশি থাকে, তাই এই সময়টা যতটা সম্ভব ছায়ায় থাকার চেষ্টা করুন।

সূত্র: স্টাইলক্রেজ ও অন্যান্য

আঙুলের ডগা থেকে অনবরত চামড়া উঠছে? জেনে নিন, উঠলে কী করবেন

ইতিহাসের সঙ্গে নিজেকে ফ্রেমে বাঁধার দিন

আজকের রাশিফল: চাকরিতে সুখবর আসবে, সঙ্গীকে ‘সরি’ বলতে দ্বিধা করবেন না

একটু হাঁটুন, সুস্থ থাকুন

ঘরে সঠিক লাইটিং করতে যে ১০টি ভুল করবেন না

যে ৪ অমিল দাম্পত্য সম্পর্ক ভাঙার কারণ

একই সম্পর্কে বারবার ফিরে আসা কেন?

আজকের রাশিফল: চোখাচোখি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা, বসের নেক নজরে পড়বেন

কৈশোরের প্রেম ও সহিংসতা নিয়ে সন্তানদের সঙ্গে কথা বলুন

চল্লিশে বাঁচুন প্রাণখুলে