হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

দুই বছর বয়সী শিশুর সঙ্গে কোন ধরনের আচরণ করবেন ও করবেন না

ফিচার ডেস্ক

ছবি: পেক্সেলস

আপনার বাড়িতে কি দুই বছর বয়সী শিশু আছে? এরা সারা দিন খেলাধুলা, হইচই করে বাড়ি মাতিয়ে রাখে। হুটহাট মন খারাপ, রাগ, দুষ্টুমি করা এই ছোট মানুষটির সঙ্গে কোনো কোনো সময় কী আচরণ করা উচিত, সেটা বেশির ভাগ সময় বুঝে উঠতে পারেন না নতুন বাবা-মায়েরা। বলে রাখি, দুই বছর বয়সী শিশুরা অনুকরণপ্রিয় এবং তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ এই সময়ে দ্রুত ঘটে। এই বয়সে শিশুদের সঙ্গে এমন কোনো আচরণ করা উচিত নয়, যা তাদের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয় বা তাদের মানসিক বিকাশে বাধা দেয়।

এই বয়সটি শিশুর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়, একে বলা হয় টডলার পিরিয়ড। এ সময় শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি এবং মস্তিষ্কের গঠন দ্রুত পরিবর্তিত হয়। ফলে কখন কী আচরণ তার সঙ্গে করা হচ্ছে, আর সেটার প্রভাব কতখানি পড়তে পারে, তা বোঝা জরুরি।

অধ্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া, চিকিৎসক, কাউন্সেলর ও সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার দুই বছর বয়সে শিশুর শরীর ও মস্তিষ্কে যে প্রধান পরিবর্তনগুলো ঘটেশারীরিক পরিবর্তন ও মোটর স্কিলশারীরিক গঠন ও উচ্চতার পরিবর্তন: শিশুর শরীরের মেদ কমে শরীর কিছুটা টানটান হতে থাকে। তাদের উচ্চতা বাড়তে থাকে দ্রুত। সাধারণত এই বয়সে তারা জন্মের উচ্চতার প্রায় দ্বিগুণ হয়।

ভারসাম্য রক্ষা: কোনো কিছুর সাহায্য ছাড়া একা একা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে পারে এবং ছোট আকারের বল পায়ে লাথি মারতে পারে।

হাতের সূক্ষ্ম কাজ: পেনসিল বা রং পেনসিল দিয়ে কাগজে দাগ কাটতে পারে। এক হাত দিয়ে ৪ থেকে ৫টি ব্লক একের ওপর এক সাজিয়ে টাওয়ার বানাতে পারে।

দাঁতের পূর্ণতা: এই বয়সের মধ্যে শিশুর মুখের প্রায় ২০টি দুধদাঁতের বেশির ভাগই গজিয়ে যায়। ফলে তারা বড়দের মতো শক্ত খাবার চিবিয়ে খেতে পারে।

ছবি: পেক্সেলস

মানসিক পরিবর্তন

ভাষার দ্রুত বিকাশ: শিশু একসঙ্গে ২ থেকে ৪টি শব্দের ছোট বাক্য, যেমন ‘মা ভাত দাও’, ‘বাইরে যাব’ ইত্যাদি স্পষ্ট বলতে পারে।

চিন্তা ও অনুকরণ করার ক্ষমতা: এ বয়সের শিশুরা বড়দের কাজ খুব গভীরভাবে খেয়াল করে এবং তা হুবহু অনুকরণের চেষ্টা করে।

নিজের কাজ নিজে করতে আগ্রহী হয়: এই বয়সে শিশুরা সব কাজ নিজে করতে চায়। যেমন নিজে খাওয়া বা জুতা পরা। কোনো কাজে বাধা দিলে তাদের মধ্যে তীব্র জেদ বা কান্নার প্রবণতা দেখা দেয়।

নির্দেশনা বুঝতে পারে: ‘খেলনাটি তোলো এবং টেবিলে রাখো’ এজাতীয় সহজ এবং দুই ধাপের নির্দেশনা সহজে বুঝে করতে পারে।

স্মৃতিশক্তির উন্নতি: পরিচিত মানুষ, খেলনা বা জায়গার নাম তারা দীর্ঘ সময় মনে রাখতে পারে।

সামাজিক ও আবেগীয় পরিবর্তন

আবেগের বহিঃপ্রকাশ: শিশু আনন্দ, রাগ, ভয় বা হিংসা খুব স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে শেখে। দুই বছর বয়সে শিশুরা অন্য শিশুদের পাশে বসে খেলতে পছন্দ করে। তবে একসঙ্গে খেলনা শেয়ার করে খেলার মানসিকতা এই বয়সে পুরোপুরি তৈরি হয় না।

দুই বছর বয়সী শিশুর সঙ্গে যে আচরণগুলো করা উচিত নয়

যেহেতু শিশুটি কয়েক ধরনের পরিবর্তনের মধ্য় দিয়ে যায় এবং ক্রমাগত শিখতে থাকে, তাই এ সময় ভুল করলে মারধর বা জোরে চিৎকার করা যাবে না। এটি শিশুকে জেদি, আক্রমণাত্মক ও ভিতু করে তুলবে।—অধ্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া

এ ছাড়া আরও যে আচরণগুলো করা থেকে বিরত থাকতে হবে, সেগুলো হলো—

অন্য শিশুর সঙ্গে তুলনা: ‘সে কত ভালো, তুমি কেন তার মতো নও?’—এমন কথা বলা যাবে নয়। এতে শিশুর আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাস কমে যায়।

সব কাজে না বলা: সবকিছুতে ‘না’ বলা বন্ধ করতে হবে। এটা ধরো না, ওটা করো না, ওখানে যেয়ো না—সারাক্ষণ এসব বললে ‘না’ শব্দটির গুরুত্ব সে অনুভব করতে পারবে না; বরং কেন কাজটি করা উচিত নয়, সেটা তাকে সুন্দর করে বুঝিয়ে বলুন। সবই যে বুঝতে পারবে এমন নয়, তবে বলার অভ্যাস করুন।

ছবি: পেক্সেলস

অমূলক ভয় দেখানো: ‘খেয়ে নাও, নয়তো ভূত আসবে’ বা ‘জুতা না পরলে পুলিশ ধরবে’ ইত্যাদি বলে ভয় দেখানো যাবে না। এতে শিশুর মনে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ভীতি তৈরি হয়। এসবের পরিবর্তে কেন খাওয়াটা জরুরি বা জুতা পরাটা দরকার, সেটা তাকে ব্যাখ্যা করুন। এতে বোঝো ধীরে ধীরে তৈরি হবে।

দীর্ঘ সময়ে স্ক্রিনে রাখা: এই বয়সে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন, ট্যাব বা টিভি একদমই দেখানো উচিত নয়। এটি শিশুর কথা বলা শেখা এবং মস্তিষ্কের বিকাশে মারাত্মক ক্ষতি করে। এর পরিবর্তে শিশুকে সেন্সরি খেলনা দিন। বাড়িতে থাকা চাল, ডাল, আটা, ময়দাও দিতে পারেন খেলতে। সুযোগ পেলে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যান। শিশুর মানসিক বিকাশে ঘুরে বেড়ানো খুবই জরুরি।

জোর করে খাওয়ানো: বাটি নিয়ে শিশুর পেছনে ছোটা বা জোর করে মুখে খাবার গুঁজে দেওয়া একেবারেই উচিত নয়। এতে খাবারের প্রতি তার চিরতরে অনীহা তৈরি হতে পারে।

শিশুর সার্বিক বিকাশে যা করতে পারেন

শিশুর সঙ্গে স্পষ্ট ভাষায় কথা বলুন: ডা. সানজিদা শাহরিয়া বলেন, ‘অনেক শিশু আধো আধো কথা বললে তার সঙ্গে সেভাবেই কথা বলেন। সেটা করবেন না; বরং আপনি যত বেশি স্পষ্ট উচ্চারণে সাবলীলভাবে শিশুর সঙ্গে কথা বলবেন, সে তত দ্রুত কথা বলা শিখবে।’

ছোট ছোট কাজ করতে দিন: খেলনা গোছানো বা নিজে খাওয়ার মতো ছোট কাজ তাকে নিজে করতে দিন। সব কাজ আপনি করে দিলে সে পরনির্ভরশীল হয়ে পড়বে।

রুটিন তৈরি করুন: শিশুর মানসিক বিকাশে দৈনিক রুটিনের ভূমিকা অনেক। সারা দিনে খাওয়া, ঘুমানো, গোসল, খেলা—সবকিছু একটা নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে দিন। সে এতে অভ্যস্ত হলে অভিভাবক ও টডলার—দুজনেরই জীবন সহজ হবে।

সূত্র: ব্রাইট হরাইজনস, রাইজিং চিলড্রেন নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য

সারা দিন ত্বক মসৃণ ও কোমল রাখবেন যেভাবে

বিউটি বার্ন আউট; রূপচর্চা করাই যখন চাপের হয়ে ওঠে

চিয়া সিডের পর এবার ঈষদুষ্ণ পানিতে ঘি মিশিয়ে পান করছেন অনেকে, কী উপকার তাতে জেনে নিন

রুপালি পর্দায় নিউইয়র্ক, নেপথ্যে যুক্তরাজ্য: স্পাইডার-ম্যানের নতুন অভিযানের পেছনের গল্প

বৃষ্টির দিনে বিছানার স্যাঁতসেঁতে ভাব দূর করবেন যেভাবে

ট্রেন্ডে আছে ‘ফ্রিজস্কেপিং’, যেভাবে সাজিয়ে তুলতে পারেন আপনার ফ্রিজ

দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট ক্ষয় করে স্মৃতিশক্তি

রাতের রুটিন যেভাবে বাড়ায় ঘুমের মান, কমায় ডিমেনশিয়া ও আলঝেইমারের ঝুঁকি

বয়স বিশ হলেই কি বদলে যায় বন্ধুত্বের ধরন, জেনে নিন বিশেষজ্ঞ কী বলছেন

টিকটকের মর্নিং শেড ট্রেন্ড কেন বিপজ্জনক