বেশি দূরের কথা বলছি না, আশি বা নব্বই দশকে যাঁদের ছেলেবেলা কেটেছে, তাঁরাও জানেন, গোসলের আগে গায়ে জোর করে হলেও গায়ে তেল মাখিয়ে দিতেন বাবা-মায়েরা। শুধু তা-ই নয়, তেল মাখানোর একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল নাভিতে তেল দেওয়া। বুঝে হোক বা না বুঝে, এই অংশটাকে গুরুত্ব দিতেই হতো। অনেকে নাভিতে তেল দেওয়ার ব্যাপারটিকে স্রেফ পরিচ্ছন্নতার অংশ ভাবলেও এর নানান স্বাস্থ্য় উপকারিতা রয়েছে।
প্রাচীন আয়ুর্বেদে নাভিতে ঘি মাখার উপকারিতার কথা বলা রয়েছে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে ঘিকে বলা হয় ‘অমৃত’। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রমতে, নাভি আমাদের শরীরের শক্তি ও প্রাণের কেন্দ্রবিন্দু। তাই প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিতে নাভিতে ঘি দেওয়াকে শরীর নিরাময়ের এক শক্তিশালী মাধ্যম মনে করা হয়। আয়ুর্বেদ মতে, ঘিয়ের পুষ্টিকর উপাদান নাভির মাধ্যমে শরীরের ৭২ হাজার শিরা-উপশিরায় ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘি-এ যাঁদের অ্যালার্জি আছে তাঁরা নাভিতে ঘি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে নাভিতে ২ থেকে ৩ ফোঁটা খাঁটি ঘি মেখে নিজেই যাচাই করে নিতে পারেন এই উপকারগুলো। জেনে নিন নাভিতে ঘি মাখার আয়ুর্বেদিক উপকারিতাগুলো সম্পর্কে—
ঘিয়ের একটি প্রাকৃতিক গুণ হলো এটি শরীর শীতল ও আর্দ্র রাখে। নাভিতে ঘি দিলে তা পিত্ত ভালো রাখে, ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ হরমোন এবং শক্তির ভারসাম্য বজায় থাকে। ফলে রোগ কম হয়।
যাঁরা দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা বা অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য নাভিতে ঘি দেওয়া অত্যন্ত কার্যকরী। ঘি নাভির মাধ্যমে অন্ত্রের দেয়াল পিচ্ছিল ও নরম করে। এটি হজমক্ষমতা বাড়িয়ে মলত্যাগের প্রক্রিয়া সহজ করে তোলে।
আয়ুর্বেদে ত্বক ভেতর থেকে সুস্থ করার ওপর জোর দেওয়া হয়। নাভিতে ঘি দিলে তা সরাসরি ত্বকের কোষগুলোকে পুষ্ট করে। এটি শীত বা গ্রীষ্ম যেকোনো ঋতুতে ত্বকের চরম শুষ্কতা দূর করে। মুখের ব্রণ, কালো দাগ এবং পিগমেন্টেশন কমায়। পাশাপাশি ত্বক ভেতর থেকে নরম, দাগহীন আর উজ্জ্বল করে তোলে।
যাঁদের বারো মাস ঠোঁট ফাটে বা চামড়া ওঠে, নাভিতে ঘি তাঁদের জন্য জাদুর মতো কাজ করে। এটি ঠোঁটের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনে এবং ঠোঁট গোলাপি করে। এ ছাড়া পায়ের গোড়ালি ফাটার সমস্যাও দ্রুত দূর হয়।
বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শরীরের জয়েন্ট বা হাড়ের জোড়ের প্রাকৃতিক লুব্রিকেন্ট শুকিয়ে যায়। নাভিতে নিয়মিত ঘি ম্যাসাজ করলে তা হাড়ের সংযোগস্থলের শুষ্কতা দূর করে। এটি হাঁটুব্যথা, কোমরব্যথা এবং বাতের তীব্রতা কমাতে সহায়ক।
চুল পড়া, অকালে চুল পেকে যাওয়া বা চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ শরীরে পুষ্টির অভাব। নাভির শিরাগুলো মাথার ত্বকের সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত। নিয়মিত ঘি ব্যবহারে চুলের গোড়া শক্ত হয় এবং চুল সিল্কি ও উজ্জ্বল হয়।
আজকাল স্ক্রিন-টাইমিং বেড়ে যাওয়ায় চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া এবং চোখের চারপাশ জ্বালাপোড়া করার সমস্যা খুব সাধারণ। আয়ুর্বেদ মতে, নাভিতে ঘি দিলে তা চোখের অপটিক নার্ভকে পুষ্টি দেয়, চোখের শুষ্কতা কমায় এবং দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে।
সূত্র: অথেনটিক আরবান, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও অন্যান্য