হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

সম্পর্কের সমীকরণ: কীভাবে চিনবেন বন্ধুত্বের আসল-নকল

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 

মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, সুস্থ ও খাঁটি বন্ধুত্ব মানুষের মানসিক চাপ কমায় এবং আয়ু বাড়াতে সাহায্য করে। ছবি: পেক্সেলস

মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, সুস্থ ও খাঁটি বন্ধুত্ব মানুষের মানসিক চাপ কমায় এবং আয়ু বাড়াতে সাহায্য করে। বিপদে-আপদে কিংবা আনন্দের মুহূর্তে একজন সত্যিকারের বন্ধু পাশে থাকা মানে বড় এক মানসিক শক্তি। কিন্তু সব মানুষ কি মন থেকে বন্ধুত্ব বজায় রাখে? আমাদের আশপাশে এমন অনেক মানুষ থাকেন, যাঁরা বন্ধুর মতো আচরণ করলেও ভেতরে শুধু নিজেদের স্বার্থকেই বড় করে দেখেন। তাঁদেরকেই বলা হয় ফেক ফ্রেন্ড বা ভুয়া বন্ধু। মনস্তত্ত্ব ও জীবনযাত্রাবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সুযোগসন্ধানী বা নকল বন্ধুদের চেনার কিছু স্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে। সম্পর্কের শুরুতে এই সংকেতগুলো ধরতে পারলে নিজেকে বড় ধরনের মানসিক আঘাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

শুধু প্রয়োজন বা সুবিধাতেই তাঁদের উপস্থিতি

নকল বন্ধুদের চেনার অন্যতম প্রধান উপায় হলো তাঁদের যোগাযোগ করার সময়। তাঁরা কখনো আপনার সুবিধা-অসুবিধা জানতে ফোন করবে না। কিন্তু কোনো কাজে আপনাকে দরকার, অমনি তাঁরা হাজির! আপনার কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁরা অজুহাতের পাহাড় দাঁড় করাবেন এবং অলৌকিকভাবে উধাও হয়ে যাবেন।

আমাদের আশপাশে এমন অনেক মানুষ থাকেন, যাঁরা বন্ধুর মতো আচরণ করলেও ভেতরে শুধু নিজেদের স্বার্থকেই বড় করে দেখেন। তাঁদেরকেই বলা হয় ফেক ফ্রেন্ড বা ভুয়া বন্ধু। প্রতীকী ছবি: পেক্সেলস

একপক্ষীয় যোগাযোগ ও কথোপকথন

যেকোনো সুস্থ সম্পর্ক চলে আদান-প্রদানের ভিত্তিতে। কিন্তু নকল বন্ধুর সঙ্গে কথা বলার সময় খেয়াল করবেন, পুরো আলোচনাটিই ঘুরপাক খাচ্ছে তাঁদের জীবন, সমস্যা এবং মতামত ঘিরে। আপনার কেমন দিন কাটল, আপনি কেমন আছেন, তা জানার ব্যাপারে তাঁদের বিন্দুমাত্র আগ্রহ থাকে না।

পরচর্চা ও গোপনীয়তা ভঙ্গ

যে মানুষটি আপনার সামনে বসে অন্য কোনো বন্ধুর গোপন কথা ফাঁস করে দিচ্ছে বা তাঁদের নামে ‘গিবত’ করছে, আপনার অনুপস্থিতিতে তিনি আপনার নামেও একই কাজ করছেন অন্যদের কাছে। নকল বন্ধুরা প্রায়শই পিঠের পেছনে মিথ্যা ছড়ায় কিংবা আপনার বিশ্বাস ভেঙে অন্যদের কাছে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করে দেয়।

সাফল্য দেখে ঈর্ষা ও প্রতিযোগিতা

একজন সত্যিকারের বন্ধু আপনার ছোট থেকে ছোট অর্জন বা সাফল্যেও আনন্দিত হবেন। অন্যদিকে, নকল বন্ধুরা আপনার সাফল্যে বিষণ্ন বা নীরব হয়ে পড়েন। তাঁরা বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন অথবা আপনার সাফল্য খাটো করে দেখান। আপনার সঙ্গে একটি অদৃশ্য প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠাই তাঁদের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।

সততার অজুহাতে অপমান করা

সবাইকে হাসানোর জন্য জনসমক্ষে আপনাকে খাটো করা, কটূক্তি করা বা হেয় করা নকল বন্ধুদের একটি সাধারণ স্বভাব। তাঁরা কোনো ক্ষতিকর কথা বা কাজ করার পর প্রায়ই বলবেন, ‘আমি তো তোমার ভালোর জন্যই সত্যি কথাটা সোজা বলে দিলাম!’ আসলে এর পেছনে থাকে আপনাকে মানসিকভাবে ছোট করার প্রবণতা।

মানসিক ক্লান্তি ও আত্মবিশ্বাসে আঘাত

কিছু মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর পর মন চাঙা হওয়ার বদলে এক অদ্ভুত মানসিক শূন্যতা বা ক্লান্তি অনুভূত হয়। তাঁরা হলেন এনার্জি ভ্যাম্পায়ার। এ ছাড়া তাঁরা প্রতিনিয়ত এমন আচরণ করবেন, যা আপনাকে নিজের যোগ্যতা নিয়েই সংশয়ে ফেলে দেবে।

নকল বন্ধু থেকে নিজেকে রক্ষা করবেন যেভাবে

মানসিক শান্তির জন্য এ ধরনের বিষাক্ত বা স্বার্থপর সম্পর্ক ধরে রাখার প্রয়োজন নেই। এ ক্ষেত্রে প্রথম কাজ হলো নিজের মনের ভেতরের অনুভূতির ওপর ভরসা রাখা। যদি কারও সঙ্গে মেশার পর বারবার আপনার মনে হতে থাকে, সম্পর্কটি খাঁটি নয়, তবে তা এড়িয়ে যাবেন না। তাঁদের সঙ্গে নিজের সীমানা নির্ধারণ করুন, অহেতুক সাহায্য করা বন্ধ করুন এবং প্রয়োজনে ধীরে ধীরে যোগাযোগ কমিয়ে আনুন। মনে রাখবেন, ১০০ জন সুযোগসন্ধানী বন্ধুর চেয়ে ২ জন বিশ্বস্ত ও আন্তরিক বন্ধু থাকা অনেক বেশি মূল্যবান।

সূত্র: ভেরি ওয়েল মাইন্ড, মিডিয়াম