ঈদের পোশাক মানুষের কাছে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার অন্যতম মাধ্যম। ঈদে নতুন হোক আর পুরোনো, পছন্দের পোশাক পরা হয়। কোনো কারণে এ পোশাকে দাগ লেগে গেলে মন খারাপ হবেই। আর এই ঈদে পোলাও, রেজালা কিংবা কাবাব খাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত কাপড়ে তেল-ঝোল লেগে যাওয়া খুব স্বাভাবিক বিষয়। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ঘরোয়া কিছু সাধারণ উপাদান ব্যবহার করে পোশাকের দাগ তুলে ফেলা সম্ভব।
ঈদের দিন কাপড় দাগমুক্ত রাখার প্রধান সূত্র হলো, সময় নষ্ট না করা। দাগ লাগার পর যত বেশি সময় ফেলে রাখবেন, কাপড় পরিষ্কার করা তত কঠিন হবে। কারণ, সময় ও তাপ এই দুটি জিনিস কাপড়ে দাগ স্থায়ীভাবে বসিয়ে দেয়। ঈদের ব্যস্ততায় তাৎক্ষণিকভাবে কাপড় ধুয়ে ফেলা সম্ভব নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দ্রুত দাগের জায়গাটি পানি দিয়ে ধুয়ে একটু লবণপানিতে ভিজিয়ে রাখুন। লবণ দাগ সরাতে সাহায্য করবে এবং কাপড় শুকিয়ে দাগটি স্থায়ী হতে দেবে না।
মাংসের রস বা ঝোল মূলত প্রোটিনজাতীয় দাগ। এই ধরনের দাগ পরিষ্কার করার সময় একটু বাড়তি যত্ন নিতে হয়। যা করবেন—
মাংসের ঝোলে থাকা তেল বা চর্বির দাগ কাপড়ের বড় শত্রু। রান্না বা খাওয়ার সময় কাপড়ে তেল লাগলে তা তুলতে কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করুন—
লেমন এসেনশিয়াল অয়েল প্রাকৃতিক দাগ রিমুভার হিসেবে চমৎকার কাজ করে। এটি ব্যবহার করে নিজেই তৈরি করতে পারেন মিশ্রণ। এর জন্য এক কাপ ভিনেগারের সঙ্গে ১০ ফোঁটা লেমন এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে দাগে স্প্রে করুন। কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন। অথবা লেমন এসেনশিয়াল অয়েল সরাসরি দাগের ওপর লাগিয়ে কোনো সময় নষ্ট না করে সঙ্গে সঙ্গে ওয়াশিং মেশিনে ধুয়ে ফেলুন। বেশি সময় রাখলে কাপড়ের রং চটে যেতে পারে। মনে রাখবেন, লেবু প্লাস্টিক ক্ষয় করে, তাই এই মিশ্রণ কাচের বোতলে রাখুন।
সব চেষ্টা করার পরেও যদি মাংসের দাগের হালকা ছোপ থেকে যায়, তবে কাপড়টি ধুয়ে সরাসরি কড়া রোদে শুকাতে দিন। প্রাকৃতিক আলো ব্লিচের মতো কাজ করে কাপড়ের দাগ সম্পূর্ণ হালকা করে দেয়। তবে মনে রাখবেন, দাগ পুরোপুরি দূর হওয়ার আগে কাপড় ইস্ত্রি করবেন না বা ড্রায়ারে শুকাবেন না।
সূত্র: ক্লিনিং. টিপস