বর্ষার দিনে বিছানায় যেন সেই কড়কড়ে সতেজভাবটা থাকে না। কেমন নেতিয়ে পড়া স্যাঁতসেঁতে বা ভেজাভাব থেকে যায়। বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে বিছানা, চাদর ও বালিশে এক ধরনের ঠান্ডা ও আঠালোভাব তৈরি হয়। এর ফলে যেমন ঘুমাতে কষ্ট হয়, স্যাঁতসেঁতে গন্ধ হয়; তেমনি ত্বকের রোগ এবং শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বাড়ে। সহজ কিছু ঘরোয়া উপায় মেনে চললে বৃষ্টির দিনেও বিছানা একদম শুকনো, তরতাজা ও আরামদায়ক রাখা সম্ভব।
বৃষ্টির দিনে মাঝেমধ্য়ে যখনই রোদ উঠবে তখনই শোবার ঘরের দরজা-জানালা খুলে দিন। ঘরে রোদ ঢুকলে স্যাঁতস্যাঁতেভাব অনেকটাই কেটে যায়। যদি সারাদিন কড়া রোদ থাকে তাহলে বারান্দায় বা ঘরের যেখানে বেশি রোদ পড়ে সেখানে বিছানার চাদর, বালিশ ও তোশক মেলে দিন।
সপ্তাহে একবার বিছানার চাদর তুলে তোশকের ওপর ভালো করে বেকিং সোডা ছিটিয়ে দিন। এক ঘণ্টা পর ভ্যাকুয়াম ক্লিনার বা ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। এটি আর্দ্রতা ও দুর্গন্ধ দুটোই কমবে। আলমারি বা খাটের ড্রয়ারে যেখানে চাদর-বালিশ রাখা হয়, সেখানে সিলিকা জেলের প্যাকেট বা সাধারণ লেখার চক রেখে দিন। এগুলো বাতাস থেকে জলীয় বাষ্প শুষে নেয়। ফলে কাপড়ে তরতাজাভাব থাকে
ঘরে এসি থাকলে বর্ষাকালে তা ড্রাই মোডে চলতে দিন। এটি ঘরের স্যাঁতসেঁতেভাব দূর করতে সবচেয়ে দ্রুত কাজ করে। এছাড়া ঘরের সিলিং ফ্যান বা টেবিল ফ্যান মাঝারি গতিতে চালিয়ে রাখুন, যেন বাতাস চলাচল সচল থাকে।
ধোয়া বেডশিট বা বালিশের কভার সামান্য ভেজা মনে হলে ব্যবহারের আগে গরম ইস্ত্রি করে নিন। গরম ইস্ত্রির তাপে কাপড়ের ভেতরের সব আর্দ্রতা বাষ্প হয়ে উড়ে যায় এবং বিছানায় সতেজভাব থাকে হয়।
বর্ষাকালে সিনথেটিক বেডশিট এড়িয়ে চলুন। সুতি বেডশিট ব্যবহার করুন, কারণ এটি সহজে স্যাঁতসেঁতে হয় না।
ইনডোর প্ল্যান্ট বা ঘরের ভেতরের গাছপালা বর্ষায় ঘরের আর্দ্রতা বাড়িয়ে দেয়। এগুলো বর্ষাকালে বারান্দায় বা ছাদে রাখুন। বর্ষায় অনেককেই ঘরের ভেতর বা খাটের হেডবোর্ডে কাপড় শুকাতে দেখা যায়। অনেক সময় উপায় থাকেনা বলেই এভাবে কাপড় শুকাতে হয়। সে ক্ষেত্রে চেষ্টা করুন ইস্ত্রি করে কাপড়গুলো খানিকটা শুকিয়েতারপর ঘরে দড়ি টাঙিয়ে শুকাতে। এতে বিছানা ও ঘর কোনোটাই স্যাঁতস্যাঁতে হবে না।
তোশক বা ম্যাট্রেসে ছাতা এই ঋতুতে ফাঙ্গাস পড়তে পারে। ফাঙ্গাসের জীবাণু শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি এবং ত্বকের নানা রোগের কারণ হতে পারে। এসব ফাঙ্গাস দূর করতে কয়েকটি কাজ করা যেতে পারে।
সাদা ভিনেগার একটি স্প্রে বোতলে নিয়ে ফাঙ্গাসের ওপর সরাসরি স্প্রে করুন। ভিনেগারের অ্যাসিড ফাঙ্গাস মেরে ফেলতে সাহায্য করে। এটি এক ঘণ্টা রেখে দিন। একঘণ্টা পর ওই ভেজা জায়গার ওপর একটু বেশি পরিমাণে বেকিং সোডা ছিটিয়ে দিন। এটি ভেজাভাব দূর করবে ও দুর্গন্ধ পুরোপুরি শুষে নেবে। এবারআরও এক-দুই ঘণ্টা পর বেকিং সোডা শুকিয়ে গেলে ব্রাশ বা ভ্যাকুয়াম দিয়ে তা তুলে ফেলুন।
সামান্য তরল ডিটারজেন্ট পানির সঙ্গে মিশিয়ে ঘন ফেনা তৈরি করুন। শুধু ফেনা টুকু একটি স্পঞ্জ বা নরম ব্রাশে নিয়ে ফাঙ্গাসের দাগের ওপর আলতো করে ঘষুন। শেষে পানিতে সামান্য অ্যান্টিসেপ্টিক মিশিয়ে কাপড় দিয়ে জায়গাটি মুছে জীবাণুমুক্ত করুন। পরিষ্কার করার পর তোশকটি অবশ্যই কড়া রোদে কয়েক ঘণ্টা রাখুন। রোদের অতিবেগুনি রশ্মি ফাঙ্গাস পুরোপুরি ধ্বংস করে। রোদ না থাকলে ঘরের ফ্যান চালিয়ে দিন এবং সম্ভব হলে একটি হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করে ভেজা জায়গাটি দ্রুত শুকিয়ে নিন। সম্পূর্ণ শুকানোর আগে বিছানার চাদর পাতবেন না।
সূত্র: মেটিলাস মরফিয়া ও অন্যান্য