হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

দীর্ঘ ফ্লাইটে শরীর ভালো রাখতে যে অভ্যাসগুলো মেনে চলবেন

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 

একটু সচেতনতা, সঠিক পূর্বপ্রস্তুতি এবং ভ্রমণের প্রতিটি ধাপে নিজের প্রতি সামান্য যত্ন দীর্ঘ ভ্রমণকে করে তুলতে পারে দারুণ প্রশান্তিময়। ছবি: পেক্সেলস

হাজার হাজার ফুট উঁচুতে উড়োজাহাজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় আবদ্ধ থাকা, কেবিনের কৃত্রিম ও শুষ্ক আবহাওয়া, ভিন্ন টাইম জোন এবং শারীরিক দূরত্বের ক্লান্তি আমাদের স্বাভাবিক জীবনকে কিছুটা হলেও ব্যাহত করে। জেটল্যাগ আর শারীরিক অবসাদ অনেক সময় ভ্রমণের আনন্দ ম্লান করে দেয়। অথচ একটু সচেতনতা, সঠিক পূর্বপ্রস্তুতি এবং ভ্রমণের প্রতিটি ধাপে নিজের প্রতি সামান্য যত্ন এই দীর্ঘ আর নিস্তেজ ভ্রমণকে করে তুলতে পারে দারুণ প্রশান্তিময় ও আরামদায়ক। আপনি যেন গন্তব্যে পৌঁছে ক্লান্তির বদলে একরাশ সতেজতা নিয়ে নামতে পারেন, সে জন্য পুরো ভ্রমণ আরামদায়ক করার কিছু কৌশল জেনে নিন।

ভ্রমণের পূর্বপ্রস্তুতি এবং সঠিক পোশাক নির্বাচন

দীর্ঘ উড়োজাহাজে ভ্রমণের আগে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক পোশাক বেছে নেওয়া। উড়োজাহাজে দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হয় বলে ঢিলেঢালা, আরামদায়ক পোশাক পরা উচিত। লেগিংস বা সোয়েটপ্যান্টস এ ক্ষেত্রে সেরা পছন্দ। বিমানে সাধারণত পায়ের পাতা ফুলে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। তাই সহজে খুলে ফেলা যায় এমন জুতা এবং পা গরম রাখার জন্য এক জোড়া সুতি বা উলের মোজা সঙ্গে রাখা ভালো।

প্লেনে দীর্ঘ সময় ভ্রমণের জন্য ঢিলেঢালা, আরামদায়ক পোশাক পরা উচিত। ছবি: পেক্সেলস

ফ্লাইট চলাকালীন নড়াচড়া

একটানা একই জায়গায় বসে থাকা শরীরের রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটায়। তাই ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পরপর উঠে দাঁড়ানো এবং করিডরে কিছুটা হাঁটাচলা করা জরুরি। ওয়াশরুমে যাওয়ার বাহানায় অথবা বিমানের পেছনের দিকে খালি জায়গায় গিয়ে শরীর কিছুটা প্রসারিত করে নেওয়া যায়।

পর্যাপ্ত হাইড্রেশন এবং সঠিক খাবার খাওয়া

বিমানের ভেতরে বাতাস শুষ্ক থাকে বলে দ্রুত শরীর পানিশূন্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ২৫০ মিলিলিটার পানি পান করা উচিত। সিকিউরিটি চেকের পর ব্যবহারের জন্য একটি খালি রিফিলযোগ্য পানির বোতল সঙ্গে রাখলে খুব সহজে বিমানে পানি পান করা যায়। চা, কফি ও অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ, এগুলো শরীর থেকে দ্রুত পানি বের করে দেয় এবং ডিহাইড্রেশন বাড়ায়। তবে টমেটো জুস পান করা যেতে পারে। এটি বিমানে বেশ পুষ্টিকর এবং বারবার ওয়াশরুমে যাওয়ার প্রয়োজন কমায়। খাবারের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াজাত ভারী খাবারের বদলে শসা, আঙুর, আপেল বা তরমুজের মতো পানিসমৃদ্ধ ফল এবং কাঠবাদামের মতো হালকা ও সহজে হজমযোগ্য খাবার বেছে নেওয়া ভালো।

ভ্রমণ আরামদায়ক করার অতিরিক্ত সরঞ্জাম

দীর্ঘ যাত্রায় প্রশান্তি এবং ভালো ঘুমের জন্য সঙ্গে কিছু জরুরি জিনিস রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। যেমন ঘাড়ের জন্য একটি ভালো নেক পিলো, চোখের মাস্ক, কানের ইয়ারপ্লাগ, ময়শ্চারাইজিং ক্রিম ও লিপবাম সঙ্গে রাখতে পারেন। সম্ভব হলে টিকিট কাটার সময় উইন্ডো সিট বা অতিরিক্ত লেগরুম আছে এমন সিট বেছে নিন। এতে হেলান দিয়ে ঘুমানো সহজ হবে এবং অন্য যাত্রীদের চলাচলের জন্য বারবার উঠতে হবে না।

দীর্ঘ যাত্রায় প্রশান্তি এবং ভালো ঘুমের জন্য সঙ্গে কিছু জরুরি জিনিস রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। ছবি: পেক্সেলস

ডিজিটাল ও মানসিক বিনোদনের সঠিক পরিকল্পনা

ফ্লাইটের দীর্ঘ সময় মানসিক একঘেয়েমি কাটাতে বিনোদনের আগাম প্রস্তুতি নেওয়া খুব দরকার। ফ্লাইটে ওঠার আগে মোবাইল বা ট্যাবলেটে আপনার পছন্দের সিনেমা, ওয়েব সিরিজ বা অডিও বুক ডাউনলোড করে রাখুন। কারণ, অনেক সময় বিমানের বিনোদনব্যবস্থায় বিকল্পের পরিমাণ সীমিত হতে পারে। স্ক্রিন টাইম বেশি হলে চোখ ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তাই মাইন্ডফুলনেস মিউজিক বা রিল্যাক্সিং পডকাস্ট শুনে চোখ বন্ধ করে মানসিক বিশ্রাম নিন।

অবতরণের পর শরীর পুনরুদ্ধার

বিমান থেকে নামার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা শরীরে রক্তসঞ্চালন পুনরায় স্বাভাবিক করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিমানবন্দরে এস্কেলেটর বা লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে যাওয়া ভালো। গন্তব্যে বা হোটেলে পৌঁছে বিছানায় শুয়ে পা দুটি সামান্য উঁচুতে তুলে ধরে বাতাসে সাইকেল চালানোর মতো নড়াচড়া করলে পায়ের ক্লান্তি ও ব্যথা দ্রুত দূর হয়। পর্যাপ্ত পানি পান করে এবং হালকা খাবার খেয়ে শরীর নতুন টাইম জোন ও বায়ুচাপের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সময় দিন।

সূত্র: সেইফ অ্যান্ড হেলদি ট্রাভেল