রাজধানী থেকে জেলা শহর; অফিস, দোকানপাট, চায়ের দোকান এমনকি রান্নাঘরেও এই মুহূর্তে একটাই আলোচনা—‘বিশ্বকাপ ফাইনাল’। কোন দলের হাতে উঠবে এবারের বিশ্বকাপ—এ নিয়েই যত জল্পনা-কল্পনা।
৯০ মিনিটের টান টান উত্তেজনা, অতিরিক্ত সময়ের চিন্তার চাপ কিংবা টাইব্রেকারের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের শেষে যখন আপনার প্রিয় দলটি বিশ্বকাপ জিতে নেবে, তখন কী করবেন ভেবেছেন? আনন্দে আত্মহারা হবেন, আর? ফুটবলপ্রেমীদের কাছে প্রিয় দলের বিশ্বকাপ জয় মানে নিজেদেরই জয়। এই আনন্দে কেউ খুশিতে বন্ধুদের জড়িয়ে ধরেন, কেউ রাস্তায় নেমে পতাকা ওড়ান আবার কেউবা রাতভর প্রাণোচ্ছ্বল আড্ডায় মেতে ওঠেন। সেই আড্ডায় যদি কোনো বন্ধু বলে বসেন পার্টি দেওয়ার কথা, তখন কী করবেন? আর সেই বন্ধু যদি হয় খেলায় পরাজিত দলের সমর্থক, তবে তো পার্টি দিতেই হয়!
প্রিয় দলের জয়কে আরও স্মরণীয় করে রাখতে পরিবার বা বন্ধুদের জন্য যদি কেউ আগামীকাল পার্টি দেওয়ার কথা ভেবে থাকেন, তাহলে এই বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে পারেন।
যেকোনো আনন্দ-উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ হয়ে থাকে খাবার। তাই আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের জন্য রাখতে পারেন এমন কিছু, যা সহজেই পরিবেশন করা যায় এবং সবাই পছন্দ করবে। স্যান্ডউইচ, পিৎজা, বার্গার, চিকেন ফ্রাই, চিপস, ফল কিংবা মজাদার দেশীয় নাশতা হতে পারে দারুণ পছন্দ।
যদি আপনার জয়ী দলের জার্সিতে নীল রঙ থাকে, তবে নীল রঙের মকটেল বা পানীয়। আবার জয়ী দলের জার্সিতে যদি লাল রঙ থাকে, তাহলে স্ট্রবেরি বা তরমুজের জুস কিংবা লাল রঙের মকটেল থাকবে—এই থিমে পানীয় সাজাতে পারেন।
জয়ী দলের পতাকা, জার্সি, ব্যানার বা রঙিন লাইট দিয়ে সাজিয়ে তুলতে পারেন আপনার ঘর। টেবিল সাজাতে পারেন জয়ী দলের পতাকার রঙের কাপ, প্লেট, প্লেসম্যাট ও ন্যাপকিন দিয়ে। ছোট্ট এই আয়োজনেই তৈরি হতে পারে উৎসবের আবহ।
যেকোনো পার্টির আমেজ গানের ওপরও অনেকটা নির্ভর করে। তাই পার্টির সময়টায় সবার পছন্দ হতে পারে, এমন কিছু গানের প্লে-লিস্ট তৈরি করে রাখতে পারেন। ফুটবল, উৎসব ও আনন্দের মুহূর্তের সঙ্গে মানানসই এমন গান বেছে নিতে পারেন।
অতিথিদের জন্য রাখতে পারেন জয়ী দলের পতাকার ছোট ব্যাজ, রিস্টব্যান্ড, স্টিকার বা বিশেষভাবে সাজানো কাপকেক বা ছোট কোনো উপহার।
সবাই যেন স্বাচ্ছন্দ্যে আড্ডা দিতে পারে, সেটি খেয়াল রাখুন। খাবার বা পানীয় এমন জায়গায় পরিবেশন করুন, যাতে সবাই সহজে নিতে পারে।
প্রিয় দল জিতেছে, আনন্দ ও উদ্যাপন হবেই। তবে, এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যাতে প্রতিবেশীদের অসুবিধা হয় বা কষ্ট পায় তারা। কারণ, উদ্যাপন তখনই সুন্দর, যখন সেটি কারও ক্ষতি করে না।
আয়োজন শেষে ঘর গুছিয়ে ফেলুন সবাই মিলে। আগে থেকেই ময়লার ব্যাগ, টিস্যু ও পরিষ্কার করার কিছু সামগ্রী হাতের কাছে রাখলে কাজ অনেকটা সহজ হবে।
ফুটবল কোটি কোটি ফুলবলপ্রেমীর আবেগকে এক সুতায় গেঁথে দেয়। তাই প্রিয় দলের জয় সবাই মিলে উদ্যাপন করতেই পারেন। তবে ভদ্রতা ও পারস্পারিক সম্মান বজায় রাখার চেষ্টা করুন। কারণ, বিশ্বকাপের আনন্দ শুধু ট্রফি জেতায় নয়, সেই আনন্দ সবাই মিলে ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেও থাকে।
সূত্র: উইকিহাউ ও অন্যান্য