পুরুষ মানেই যে অগোছালো আর খামখেয়ালি—এ ব্যাপারটা বোধ হয় এখন আর সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। ২০২৬-এ এসে পুরুষেরা অনেক বেশি রূপ ও ফ্যাশন সচেতন হয়েছেন। অফিসে, শপিং মলে বা যাওয়া-আসার পথে আশপাশে তাকালেই টের পাবেন, চলতি সময়ের পুরুষেরা নিজেদের ত্বক ও চুল নিয়ে কতটা ভাবেন। ত্বক, চুলসহ শরীরের যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে নিজেকে পরিপাটিভাবে উপস্থাপন করতে আজকাল প্রায় সব পুরুষই পারদর্শী। আসছে শরৎকাল। বাড়তি ঘাম এই ঋতুতে পুরুষদের একটু ঝামেলায় ফেলবে বৈকি! কিন্তু সমাধানও তো রয়েছে। নিতে হবে ঋতু উপযোগী ব্যবস্থা। রূপ সচেতন পুরুষেরা জেনে নিন কী করে শরতে সুন্দর থাকবেন।
সাধারণত পুরুষেরা দিনের বড় একটি অংশ বাইরে কাটান। তাঁদের পা জুতোর ভেতরে মোজা সমেত বদ্ধ অবস্থায় থাকে। আর খোলা স্যান্ডেল পরলে রাস্তার ধুলোবালিতে মাখামাখি হয়। এভাবে ধীরে ধীরে পায়ের ত্বক নোংরা হতে থাকে এবং নখে ময়লা জমে যায়। তাই নিয়মিত নখ কাটার পাশাপাশি পায়ের যত্নে পেডিকিওর করা জরুরি। এতে পা যেমন পরিষ্কার হবে, তেমনি পায়ের ত্বকও সতেজ হবে।
সরাসরি রোদ লাগলে ত্বক কালচে হয়ে যায়, যা সহজে দূর হয় না। যারা নিয়মিত রোদে চলাফেরা করেন, রোদে তাঁদের ত্বক পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য ত্বকে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।
পছন্দের পারফিউমটি কেনার আগে ভালো করে বুঝে নিন, তা শরতে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত কি না। এ সময় দীর্ঘসময় থাকে এমন সুগন্ধিই ভালো। শুধু সুগন্ধি ব্যবহার করলেই চলবে না। ভালো সুগন্ধযুক্ত বডি ওয়াশ দিয়ে গোসল করে, সুগন্ধযুক্ত লোশন ও ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করে তারপর সুগন্ধি মাখলেই সারা দিন তরতাজা থাকা যাবে।
অনেকেই চুলের স্টাইলের সঙ্গে চুলের যত্নকে গুলিয়ে ফেলেন। শরতে তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। চুল কালো হওয়ায় বেশি পরিমাণে তাপ শোষণ করে বা ধরে রাখে। তাই মোটের ওপর মাথা বেশি গরম হয়। এমন আবহাওয়ায় চুলের স্টাইল করার চেয়ে যত্ন নেওয়া জরুরি। চুলের স্টাইল করার প্রোডাক্ট না কিনে বরং নিয়মিত চুলের যত্ন নেওয়ার জন্য কুলিং শ্যাম্পু আর মাইল্ড লিভ ইন কন্ডিশনার কিনুন এবং ব্যবহার করুন।
এক্সফোলিয়েশন এমন একধরনের পদ্ধতি, যা ত্বক থেকে ময়লার স্তর অপসারণ করে ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। পুরুষেরা বিভিন্ন কাজে দিনের বেশির ভাগ সময় বাইরে থাকেন। আর বাইরে বের হওয়া মানেই ধুলোবালিতে ডুবে যাওয়া। তাই পুরুষের ত্বকের যত্ন নেওয়ার জন্য এক্সফোলিয়েশন অত্যন্ত জরুরি। এতে ত্বকের ওপরে জমা তেল ও ময়লা পরিষ্কার হয়ে ত্বক উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।
ঘাম বন্ধ করার তেমন উপায় নেই। তবে কিছু সাধারণ পদক্ষেপ নিলে এর তীব্রতা কমানো যেতে পারে। সিনথেটিক কাপড় বাদ দিয়ে সুতি কাপড়ে তৈরি পোশাক পরুন, তুলনামূলক ঢিলেঢালা পোশাক পরুন, সারা দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং একটি মানসম্মত ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করুন যেন আপনার গা থেকে দুর্গন্ধ না ছড়ায়।
শরতে শেভ করার আগে মুখমণ্ডলে একবার ময়শ্চারাইজার মেখে নিন, শেভ করার পর টোনার ব্যবহার করুন যেন সারাটা দিন ত্বক অটল এবং পরিষ্কার থাকে। চাইলে এরপর আফটার শেভ ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। এতে আপনার ত্বক থাকবে ময়শ্চারাইজার এবং জ্বালাপোড়া মুক্ত।
যদি আপনার মাথার ত্বক অতিরিক্ত তেলতেলে হয়ে যায় তাহলে এক দিন পরপর শ্যাম্পু করুন। না হলে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার শ্যাম্পু করুন। এতে মাথার চুল পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং মাথার ত্বকে থাকা তেল ও ময়লা দূর হবে। প্রতিদিন চুল দুই থেকে তিনবার ভালোভাবে ব্রাশ করতে হবে। এতে চুলের জেল্লা বাড়বে।
পরামর্শ দিয়েছেন: কসমেটোলজিস্ট ও স্বত্বাধিকারী, শোভন মেকওভার