চকলেটকে ধ্রুপদি উপহার বলা যেতে পারে। তবে উপহার দেওয়ার সময় মনে রাখা জরুরি, সবার পছন্দ এক নয়। কেউ পছন্দ করেন টফি বা ক্যারামেল ঠাসা আমেরিকান ঘরানার মিষ্টি, আবার কেউ পছন্দ করেন খাঁটি ডার্ক চকলেটের ‘গানাশ’। যাঁর ভালো লাগা যেমনই হোক, মনে রাখবেন, চকলেট শুধু একটি মিষ্টি খাবার নয়, এটি ভালোবাসা, আভিজাত্য এবং আবেগের বহিঃপ্রকাশ।
সেরা চকলেটের সন্ধানে
অলরাউন্ডার: রিকিউটি কনফেকশনস ব্ল্যাক বক্স
যাঁরা সৃজনশীল এবং ঐতিহ্যগত স্বাদের মেলবন্ধন খুঁজছেন, তাঁদের জন্য রিকিউটির ১৬ পিসের এই ব্ল্যাক বক্স আদর্শ। এর প্রতিটি চকলেট দেবে অনন্য স্বাদের অভিজ্ঞতা। এতে থাকা বার্নট ক্যারামেল বা পিডমন্ট হ্যাজেলনাট তিতা এবং মিষ্টির এক অসাধারণ ভারসাম্য তৈরি করে। আবার যাঁরা একটু অন্য রকম স্বাদ খুঁজছেন, তাঁদের জন্য রয়েছে ট্যারাগন গ্রেপফ্রুট বা স্টার অ্যানিস অ্যান্ড পিংক পেপারকর্ন। বিশেষ করে তিল ও ক্যারামেলের মিশ্রণে তৈরি সেসেমি নুগাটের টেক্সচার এবং ডার্ক চকলেটের আবরণ মুগ্ধ করার মতো। এর প্যাকেজিং অত্যন্ত অভিজাত। ম্যাট ব্ল্যাক বক্সের ভেতরে প্রতিটি চকলেটের বিবরণসহ একটি ইলাস্ট্রেটেড বুকলেট থাকে, যেটি চকলেট চিনে নিতে সাহায্য করে। কিন্তু অনেকের কাছে এই চকলেটের স্বাদ একটু বেশিই অদ্ভুত মনে হতে পারে। এর প্রতিটি প্যাকেটের দাম বাংলাদেশি টাকায় ৬ হাজার ৮০০ টাকার বেশি।
আমেরিকান ক্ল্যাসিক: ভ্যালেরি কনফেকশনস বেবি গ্র্যান্ড অ্যাসোর্টমেন্ট
যাঁরা মাখনের মতো নরম ক্যারামেল বা মচমচে টফি পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক এই ব্র্যান্ড সেরা। এটি চকলেট তৈরির শৈল্পিক সারল্যের একটি অনন্য উদাহরণ। স্যাটিন ফিনিশড উপরিভাগ এবং কামড় দিলেই টফির যে নিখুঁত শব্দ, তা চকলেটপ্রেমীদের তৃপ্ত করবে। এতে যেমন ক্ল্যাসিক গ্যানাশ আছে, তেমনি আছে পুদিনা বা গোলমরিচের ঝালের মতো চমকপ্রদ ফ্লেভার। গোল্ডেন রিবন দেওয়া ক্রিম রঙের বক্সটি দেখতে অনেকটা জুয়েলারি বক্সের মতো বিলাসবহুল। বক্সের ভেতরে কোন চকলেট কী স্বাদের, তা বোঝার জন্য কোনো গাইড বা লেজেন্ড দেওয়া থাকে না। অ্যালার্জি থাকলে এটি কিছুটা সমস্যা হতে পারে। এর প্রতি প্যাকেটের দাম ৭ হাজার ৩০০ টাকার বেশি।
উজ্জ্বল স্বাদ ও শৈল্পিক রূপ: স্টিক উইদ মি সুইটস
নিউইয়র্কভিত্তিক এই চকলেট সুসানা ইউন তাঁর মিশেলিন-স্টার রেস্তোরাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তৈরি করেন। প্যাশনফ্রুট থেকে শুরু করে বোরবন ম্যাপেলের স্বাদ পাওয়া যাবে প্রতিটি চকলেটে। বিশেষ করে তাঁদের ভেগান চকলেটগুলো (যেমন ইউজু ট্রাফল বা কোকোনাট ক্যাশু) সাধারণ চকলেটের চেয়ে বেশি সুস্বাদু। ‘কালামাসি মেরিঙ্গু পাই’ চকলেটে তিনটি ভিন্ন স্তর থাকে, যা মুখে দিলে আসল পাইয়ের স্বাদ পাওয়া যায়। এগুলো দেখতে হাতে আঁকা মার্বেলের মতো চকচকে। টারখোয়ায়েশ ও মেটালিক রঙের ছোঁয়া একে অনন্য করে তোলে। এ চকলেটের ৬ পিসের বাক্সের দাম ৩০ থেকে ৩৫, ১২ পিসের দাম ৬০ থেকে ৬৫ এবং ২৪ পিসের দাম ১০০ ডলারের বেশি।
র্যাগড কোস্ট মিল্ক অ্যান্ড ডার্ক চকলেট ট্রাফলস
যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যের একটি ছোট কারখানায় তৈরি এই চকলেটগুলো মূলত গুণগত উপকরণ এবং সোর্সিংয়ের জন্য পরিচিত। এতে অর্গানিক চিনি এবং স্থানীয় ডেইরি পণ্য ব্যবহার করা হয়। আদা, ল্যাভেন্ডার বা কফির স্বাদে পাওয়া যায় এসব চকলেট। এ ছাড়া গরমমসলার সুবাসযুক্ত চকলেট জিঞ্জারব্রেড ট্রাফল বেশ জনপ্রিয়। এটি দেখতে কিছুটা রাস্টিক বা গ্রাম্য ঘরানার। ক্রাফট পেপার বক্সে সাধারণ ফিতার বাঁধন এটিকে ঘরোয়া কিন্তু রুচিশীল রূপ দিয়েছে। বিভিন্ন সেটের বাক্সে এটি বিক্রি হয়। এর ১৮ পিস চকলেটের গিফট বক্সের দাম সাধারণত বাংলাদেশি টাকায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা।
ডেজার্ট যখন চকলেট: মেলিসা কোপেল বনবন
যাঁরা চকলেটের ভেতরে জটিল স্তরের কাজ এবং অত্যন্ত উজ্জ্বল রং পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য মেলিসা কোপেল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এখানে থাকা একেকটি চকলেট যেন আস্ত ডেজার্ট! যেমন একটি চকলেটের ভেতরে পিনাট বাটার গ্যানাশের সঙ্গে রাস্পবেরি জেলি এবং ব্রায়োশ টোস্টের টুকরো থাকতে পারে। এর ক্রস-সেকশন বা ভেতরের স্তরগুলো অবিশ্বাস্যভাবে নিখুঁত। তাঁদের ১২ পিসের ভেগান সেট মূল চকলেটের মতো সুস্বাদু। একে স্পেস মার্বেল বলা হয়। কারণ, এগুলো আয়নার মতো চকচকে। গ্যালাক্সি থিমের বক্সে এগুলো সুন্দরভাবে সাজানো থাকে। ভেগান ও ননভেগান ৬, ১২ ও ২৪ পিসের সেট পাওয়া যায় এই চকলেটের। সেট অনুসারে দামও আলাদা। ৩ হাজার ৯০০ থেকে ১১ হাজার ৯৫০ টাকায় পাওয়া যায় এসব চকলেট বক্স। আর এদের প্রিমিয়াম বেনটো বক্সের দাম প্রায় ১৫ হাজার ৩০০ টাকা।
এসব ব্র্যান্ডের বাইরেও শত শত ব্র্যান্ড আছে চকলেটের। সেগুলোও কিনতে পারেন ইচ্ছেমতো। চকলেট বলে কথা।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস