হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

ত্বক সুরক্ষায় ম্যাগনেশিয়াম কতটা জরুরি, যেভাবে ত্বকে ম্যাগনেশিয়ামের জোগান দেবেন

ফিচার ডেস্ক 

এআই দিয়ে তৈরি

সুন্দর ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বকের জন্য আমরা কত কিছুই না করি! ভিটামিন সি, রেটিনল বা হায়ালুরনিক অ্যাসিডের নাম এখন কম-বেশি সবার মুখে শোনা যায়। কিন্তু আপনি কি জানেন, নিখুঁত ত্বকের অন্যতম গোপন চাবি লুকিয়ে আছে ম্যাগনেশিয়ামে? শারীরবৃত্তীয় নানা কাজের পাশাপাশি আমাদের ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষায় ম্যাগনেশিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ম্যাগনেশিয়াম কেন এতটা গুরুত্বপূর্ণ, জেনে নিন।

ম্যাগনেশিয়ামকে বলা হয় শরীরের ‘মাস্টার মিনারেল’। ত্বক কোষের পুনর্গঠনসহ বাহ্যিক বিভিন্ন ক্ষতি থেকে ত্বক সুরক্ষায় এটি কাজ করে। নিচে এর মূল উপকারিতাগুলো আলোচনা করা হলো–

প্রদাহ ও ব্রণ কমায়

ম্যাগনেশিয়াম ত্বকের প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমাতে দারুণ কার্যকরী। এটি শরীরে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। কর্টিসলের মাত্রা ঠিক থাকলে ত্বকে সিবাম উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা ব্রণের সমস্যা দূর করতে সহায়ক।

ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে কোলাজেন তৈরি কমে যায়। ফলে চামড়া ঝুলে পড়ে এবং বলিরেখা দেখা দেয়। ম্যাগনেশিয়াম কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে ত্বক টানটান ও তরুণ রাখে।

ত্বকের সুরক্ষাপ্রাচীর শক্তিশালী করে

আমাদের ত্বকের ওপরের স্তরে একটি লিপিড ব্যারিয়ার থাকে, যা আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং ধুলাবালু-জীবাণু থেকে ত্বককে রক্ষায় সহায়ক। ম্যাগনেশিয়াম ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করতে সাহায্য করে, যা এই স্কিন ব্যারিয়ারকে মজবুত করাসহ ত্বক শুষ্ক হতে দেয় না।

অ্যালার্জি এবং একজিমা উপশম করে

যাঁদের ত্বক অতিরিক্ত সংবেদনশীল কিংবা যাঁরা একজিমা, সোরিয়াসিসের মতো সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের ত্বকের লালচে ভাব এবং চুলকানি কমাতে ম্যাগনেশিয়াম জাদুর মতো কাজ করে।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি

এটি কোষের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া বাড়িয়ে দেয়। ফলে ত্বকের মৃত কোষ দ্রুত ঝরে পড়ে এবং ভেতর থেকে একটি সুস্থ, উজ্জ্বল আভা প্রকাশ পায়।

ত্বকে ম্যাগনেশিয়াম ব্যবহারের বিভিন্ন উপায়

ম্যাগনেশিয়াম শুধু খাবারের মাধ্যমেই নয়, ত্বকের ওপর সরাসরি বা টপিক্যাল উপায়ে ব্যবহার করলেও সুফল পাওয়া যায়। জেনে নিন কিছু সহজ উপায়–

ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

ম্যাগনেশিয়াম অয়েল

এটি আসলে কোনো তেল নয়, তা মূলত ম্যাগনেশিয়াম ক্লোরাইডের একটি ঘনীভূত জলীয় দ্রবণ, যা দেখতে তেলের মতো লাগে। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে হাত-পা, চাইলে পুরো শরীরের ত্বকে এটি স্প্রে করে হালকা ম্যাসাজ করতে পারেন। এটি সরাসরি ত্বকের মাধ্যমে রক্তে শোষিত হয়। তবে সংবেদনশীল ত্বক হলে ব্যবহারের পর ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে পারলে ভালো।

এপসম লবণ দিয়ে গোসল

এপসম লবণ হলো মূলত ম্যাগনেশিয়াম সালফেট। ক্লান্তিকর একটি দিন শেষে ত্বকের যত্ন ও মানসিক প্রশান্তির জন্য এটি চমৎকার। বাথটাব বা বালতির হালকা গরম পানিতে ১-২ কাপ এপসম লবণ মিশিয়ে নিন। এবার সেই পানিতে ১৫-২০ মিনিট শরীর ডুবিয়ে রাখুন বা গোসল করুন। এটি পুরো শরীরের ত্বককে ডিটক্সিফাই করে, পেশির ক্লান্তি দূর করে এবং ত্বক নরম ও মসৃণ রাখে।

ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ স্কিন কেয়ার পণ্য

আজকাল বাজারে ম্যাগনেশিয়াম যুক্ত বিভিন্ন ময়শ্চারাইজার, সেরাম, ফেস ক্রিম এবং বডি লোশন পাওয়া যায়। আপনার দৈনিক ত্বকচর্চার রুটিনে ম্যাগনেশিয়াম যুক্ত একটি ভালো মানের ময়শ্চারাইজার বা সেরাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে দীর্ঘ সময় সাহায্য করবে।

ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

ম্যাগনেশিয়ামযুক্ত ফেসপ্যাক

ঘরোয়া উপায়েও আপনি ম্যাগনেশিয়াম ফেস প্যাক তৈরি করতে পারেন। ১ চা-চামচ এপসম লবণ ভালোভাবে গুঁড়া করে নিন। এর সঙ্গে এক চা-চামচ মধু এবং সামান্য টক দই মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট রাখুন, তারপর হালকা গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের স্ক্রাব হিসেবে কাজ করে মরা কোষ দূর করবে।

সতর্কতা

ম্যাগনেশিয়াম ত্বকের জন্য নিরাপদ হলেও সবার ত্বকের ধরন এক নয়। তাই মুখে সরাসরি ম্যাগনেশিয়াম অয়েল বা নতুন কোনো প্রোডাক্ট ব্যবহারের আগে অবশ্যই কবজিতে বা কানের পেছনে প্যাচ টেস্ট করে নিন। আপনার কোনো গুরুতর চর্মরোগ থাকলে ব্যবহারের আগে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

সূত্র: নেটমেডস ও অন্যান্য