মেহমানদারি হোক কিংবা ঘরের সাধারণ রান্না—একটু এলাচি ছড়িয়ে দিলে যেন বদলে যায় পুরো স্বাদ। চা কিংবা বিরিয়ানির সুবাসেই সীমাবদ্ধ নয় এলাচি। প্রাচীনকাল থেকে এই মসলা রাজত্ব করে আসছে আমাদের রূপচর্চা ও ভেষজ চিকিৎসা জগতে। প্রাচীন মিসরে দাঁত পরিষ্কারের উপাদান থেকে শুরু করে প্রাচীন গ্রিস ও রোমে সুগন্ধি হিসেবে এর ব্যবহার ছিল ব্যাপক। কিন্তু জানেন কি, রান্নায় অপূর্ব স্বাদ ও অ্যারোমা যোগ করার পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞানও এলাচির নানাবিধ স্বাস্থ্য উপকারিতার সত্যতা খুঁজে পেয়েছে। এলাচির ১০ গুণ জেনে নিন এখান থেকে।
বিজ্ঞান ও গবেষণায় এলাচির বেশ কিছু চমৎকার স্বাস্থ্যগুণের কথা উঠে এসেছে। এই উপাদানগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এনে দিতে পারে স্বস্তি।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহকারী: ‘ইন্ডিয়ান জার্নাল অব বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড বায়োফিজিকসে’ প্রকাশিত এক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়মিত নির্দিষ্ট পরিমাণে এলাচির গুঁড়া গ্রহণের ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিকের কাছাকাছি আসতে শুরু করে। এতে থাকা উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দেওয়ার ক্ষমতা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে।
মুখের দুর্গন্ধ দূর ও দাঁতের সুরক্ষা: ভারী খাবার খাওয়ার পর মুখে একটি এলাচি পুরে নেওয়ার অভ্যাস বহুকালের। এতে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান মুখের ভেতরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে, দাঁতের ক্ষয় বা ক্যাভিটি রোধ করে এবং মুখের পিএইচ লেভেল বজায় রেখে এনে দেয় মিন্ট-সদৃশ সজীব অনুভূতি।
হজমশক্তি বৃদ্ধি ও আলসার প্রতিরোধ: হাজার বছর ধরে এলাচি পেটের নানান সমস্যার ভেষজ দাওয়াই। এটি বদহজম ও বমি ভাব দূর করতে সাহায্য করে। ল্যাব পরীক্ষায় দেখা গেছে, এলাচির নির্যাস পেটের আলসারের আকার ও ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমাতে পারে।
ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি: অ্যারোমাথেরাপি বা এলাচির সুবাস নিলে ফুসফুসে অক্সিজেন গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ে। এটি শ্বাসনালিকে শিথিল করে, যা বিশেষ করে অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টে ভোগা মানুষদের জন্য আরামদায়ক হতে পারে।
প্রদাহ ও ক্রনিক ডিজিজ দূরীকরণে: এলাচিতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি শরীরের কোষগুলোকে ফ্রি-র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এলাচি শরীরের ভেতরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কমায়, যা ভবিষ্যতে হৃদ্রোগ বা ডায়াবেটিসের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।
রান্নায় বা চায়ে এলাচি ব্যবহার সবার জন্যই অত্যন্ত নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর। নিয়মিত সবজিতে বা মিষ্টি খাবারে সামান্য এলাচি যোগ করা এর উপকারিতা পাওয়ার স্বাভাবিক উপায়।
কৃত্রিম কোনো দাওয়াই নয়, প্রকৃতির সুবাসিত এই উপাদানই হতে পারে আপনার দৈনন্দিন সুস্থতার সহজ সঙ্গী। তাই আজই আপনার খাবারের প্লেটে বা চায়ের কাপে এক চিমটি এলাচির জাদু ছড়িয়ে দিন।
সুবাসিত এলাচি চা
স্বাদ ও সুবাসে অনন্য এলাচি চা সহজে ঘরে তৈরি করা যায়। ঝটপট রিফ্রেশমেন্টের জন্য এটি চমৎকার পানীয়।
উপকরণ
পানি ২ কাপ, হালকা থেঁতো করে নেওয়া এলাচি ৪টি, চিনি বা গুঁড়। এলাচি থেঁতো করে নিলে সুবাস ভালো পাওয়া যায়।
প্রস্তুত প্রণালি
প্রথমে একটি চায়ের কেটলি বা ছোট সসপ্যানে ২ কাপ পানি নিয়ে চুলায় ফুটিয়ে নিন। পানি ফুটতে শুরু করলে তাতে ৪টি এলাচি দিয়ে দিয়ে চুলার আঁচ কমিয়ে দিন। হালকা আঁচে চা ৫ থেকে ৮ মিনিট সময় নিয়ে ভালোভাবে ফুটতে বা লিকার হতে দিন। নির্দিষ্ট সময় পর চা ছাঁকনি দিয়ে কাপে ছেঁকে নিন। এরপর রুচি অনুযায়ী লাল চিনি বা অ্যাগাভে মিশিয়ে গরম-গরম পরিবেশন ও উপভোগ করুন এলাচি চা।
সূত্র: হেলথ লাইন, ওয়েবমেড