কর্মব্যস্ত জীবনে শরীরচর্চার জন্য সময় বের করা অনেকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ভোরের আলসেমি কাটিয়ে ঘুম থেকে ওঠা কিংবা কাজের ফাঁকে ব্যায়াম করার মতো সময় অনেকের হয়ে ওঠে না। এই পরিস্থিতিতে তাদের মনে প্রশ্ন জাগে, রাতে বা সন্ধ্যায় ব্যায়াম করা কি আদৌ স্বাস্থ্যকর? দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণা ছিল, রাতের শরীরচর্চা ঘুম নষ্ট করে। তবে আধুনিক গবেষণা ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, সবার জন্য এই ধারণা সত্য নয়; বরং সঠিক নিয়ম মেনে চললে সন্ধ্যাকালীন শরীরচর্চা শরীর ও মন—দুটোর জন্যই অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে।
দিন শেষে শরীরচর্চা করার বেশ কিছু চমৎকার উপকারিতা রয়েছে, যা দিনের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা।
মানসিক চাপ ও ক্লান্তি দূর করে
সারা দিনের কাজের চাপ, ট্রাফিক জ্যাম বা মানসিক অস্থিরতার পর শরীরচর্চা এক দারুণ দাওয়াই হিসেবে কাজ করে। ব্যায়ামের সময় শরীরে এনডোরফিন নামক ফিল-গুড হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন মেজাজ ভালো করে এবং সারা দিনের পুঞ্জীভূত মানসিক চাপ নিমেষে দূর করে।
শারীরিক সক্ষমতা ভালো রাখে
বিকেলের পর বা সন্ধ্যায় মানুষের শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকে। ফলে পেশির নমনীয়তা এবং শক্তি এ সময় সর্বোচ্চ থাকে। তাই সন্ধ্যায় ব্যায়াম করলে সকালে ব্যায়াম করার চেয়ে পেশির সহনশীলতা ও দক্ষতা বেশি পাওয়া যায়।
ভালো ঘুমের নিশ্চয়তা
বহু মানুষের ধারণা, রাতে ব্যায়াম করলে ঘুম আসে না। কিন্তু আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে যদি হালকা বা মাঝারি মানের ব্যায়াম করা হয়, তবে তা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় না। যেমন হালকা হাঁটা, ইয়োগা বা স্ট্রেচিং। এগুলো গভীর ঘুম বা সলো-ওয়েভ স্লিপ বাড়াতে সাহায্য করে।
জিম বা সরঞ্জামের সহজলভ্যতা
যাঁরা জিমে যান, তাঁরা জানেন, সেখানে সকাল বা বিকেলে কতটা ভিড় থাকে। রাত ১০টার পর বা সন্ধ্যার শেষ ভাগে জিম অনেকটাই ফাঁকা থাকে। এতে পছন্দের সরঞ্জাম নিয়ে কোনো ঝামেলা ছাড়াই নিজের মতো ব্যায়াম করার সুযোগ পাওয়া যায়।
শরীর শিথিল বা রিলাক্স করে
সারা দিন ডেস্কে বসে কাজ করা বা ভারী খাটুনির পর সন্ধ্যার হালকা ব্যায়াম ও স্ট্রেচিং পেশির টান এবং জয়েন্টের ব্যথা কমায়। এটি শরীরকে রাতের বিশ্রামের জন্য সুন্দরভাবে তৈরি করে।
উপকারিতার পাশাপাশি রাতের ব্যায়ামে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা না থাকলে কিছু সমস্যা হতে পারে।
শরীরচর্চার কোনো নির্দিষ্ট আদর্শ সময় নেই। আসল বিষয় হলো নিয়মিত ব্যায়াম করা। আপনার শরীরের ছন্দ ও দৈনন্দিন রুটিনের সঙ্গে যদি রাতের সময়টিই সবচেয়ে ভালো মেলে, তবে নির্দ্বিধায় সন্ধ্যা বা রাতে শরীরচর্চা বেছে নিতে পারেন। নিজের শরীরের ভাষা শুনুন এবং সেই অনুযায়ী ব্যায়ামের মাত্রা নির্ধারণ করুন। রাতে শরীরচর্চা আনন্দদায়ক ও স্বাস্থ্যকর করতে কিছু সহজ কৌশল মেনে চলা যায়।
হালকা ও মাঝারি ধরনের ব্যায়াম
রাতের জন্য ইয়োগা, গভীর শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম, ধীরগতির হাঁটা কিংবা হালকা ওয়েট লিফটিং সবচেয়ে উপযোগী।
সময় নির্বাচন
ঘুমানোর ১ থেকে ২ ঘণ্টা আগে ব্যায়াম শেষ করা ভালো।
কুল ডাউন ও হাইড্রেশন
ব্যায়াম শেষ করার পর হালকা স্ট্রেচিং করুন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন, যাতে রাতে পেশিতে টান না ধরে।
সূত্র: ভেরি ওয়েল ফিট, হেলথ