বিশ্বব্যাপী স্কিন কেয়ারে শীর্ষস্থানীয়দের কথা ভাবলে, সম্ভবত সবার আগে আমাদের মনে আসে কে-বিউটি বা কোরিয়ান বিউটির কথা। হয়তো আপনি ফরাসি নারীদের চিরাচরিত সৌন্দর্যচর্চার নিয়মগুলোর সঙ্গেও পরিচিত, যেমন মাইসেলার ওয়াটারের কার্যকারিতা বা গাঢ় লাল লিপস্টিকের প্রভাব! কিন্তু সৌন্দর্যের জগতে প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায় ইউরোপের আরেকটি দেশ জার্মানি। মজার বিষয় হলো, দেশটির রয়েছে স্কিন কেয়ারের প্রাচীন ইতিহাস। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। অন্যান্য জার্মান শিল্পের মতো খুঁটিনাটি বিষয়ে মনোযোগ এবং প্রযুক্তির ব্যবহার ত্বকের যত্নের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বিশ্বব্যাপী সৌন্দর্যচর্চার যে ট্রেন্ড চলছে, তার কয়েকটি এসেছে জার্মান থেকে। জেনে নিন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে ওঠা জার্মান স্কিন কেয়ারের ৪টি ট্রেন্ড সম্পর্কে।
আপনি যদি হায়ালুরনিক অ্যাসিডের কার্যকারিতা ও উপকারিতা সম্পর্কে আগে থেকে পরিচিত না হন, তবে অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রায় সব অ্যান্টি-এজিং স্কিন কেয়ারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা এবং তা পূরণ করা। এর কারণটি খুব সহজ, ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গেলে, ফাইন লাইন এবং বলিরেখার মতো বার্ধক্যের লক্ষণগুলো বেশি প্রকট হয়ে উঠতে পারে। জার্মান স্কিন কেয়ার ইন্ডাস্ট্রি ত্বক হাইড্রেট করার ক্ষেত্রে হায়ালুরনিক অ্যাসিডের শক্তিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটি দ্রুত শোষিত হয় এবং ত্বকে অতিরিক্ত আর্দ্রতা যোগ করে। এর ফলে নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক আরও তারুণ্যময় ও সতেজ দেখায়।
এটি ব্যবহার করতে, চোখের চারপাশের অংশ এড়িয়ে আপনার পরিষ্কার মুখ ও ঘাড়ে দুই থেকে তিন ফোঁটা হায়ালুরনিক লাগান। আপনার রূপ রুটিনে হায়ালুরনিক অ্যাসিড যুক্ত করার আরেকটি উপায় হলো, এই শক্তিশালী উপাদান দিয়ে তৈরি ফেশিয়াল ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করা।
জার্মানির নারীরা দিনের শেষে পুরোপুরি ত্বক পরিষ্কার করার গুরুত্ব বোঝেন। সারা দিন ধরে ত্বক ফ্রি র্যাডিক্যাল এবং বায়ুদূষণের সংস্পর্শে আসে। এটি ত্বকের অক্সিডেশন ঘটায় এবং অকালবার্ধক্যের কারণ হতে পারে। যদিও আমরা প্রতিদিন যে বায়ুবাহিত দূষণ এবং ধূলিকণার সংস্পর্শে আসি, তা সব সময় নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। তবে আমরা দিনের শেষে সেসব ময়লা পরিষ্কার করে নেওয়ার ব্যাপারটি নিশ্চিত করতে পারি। জার্মান নারীরা সব সময় মনে রাখেন দিন শেষে পরিষ্কার ত্বক নিয়ে ঘুমাতে যাওয়ার কথা, যার মধ্যে মেকআপ ভালো করে তুলে ঘুমিয়ে পড়াও অন্তর্ভুক্ত। প্রতি সন্ধ্যায়, মাইসেলার ওয়াটারের মতো একটি মৃদু মেকআপ রিমুভার দিয়ে তাঁরা মেকআপ তুলে ফেলেন।
আমাদের সবার মাঝে মাঝে একটু বিশ্রাম ও আরামের প্রয়োজন হয়। আর জার্মান নারীরা বিশ্বাস করেন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম রূপের জাদুর কাঠি। জার্মানিতে, নিজের রূপচর্চার জন্য সময় বের করাকে দৈনন্দিন কাজেরই অংশ মনে করা হয়। ঘরে বসে জার্মান নারীরা স্পা সেরে ফেলতে পারদর্শী। তাঁরা একটি ব্যস্ত দিন বা সপ্তাহের পর নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করে নেন। এ সময়টায় তাঁরা গরম পানিতে গোসল করেন, মোমবাতি জ্বালান এবং মুখে বা চুলে মাস্ক লাগান। পাশাপাশি ত্বকে কমফোর্ট ফেস মাস্ক ব্যবহার করেন, যা সামুদ্রিক শৈবাল দিয়ে তৈরি এবং ত্বকে আরাম দিতে সাহায্য করে। জার্মান নারীরা মনে করেন, নিজের যত্ন নেওয়া এবং নিজের স্কিন কেয়ার রুটিন উপভোগ করাটা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি একটি স্বাস্থ্যকর ও সুখী জীবনধারার অংশ!
এই নিয়ম সম্ভবত আপনি আগেও শুনেছেন এবং এটি এমন একটি নিয়ম, যা জার্মান নারীরাও দৃঢ়ভাবে মেনে চলেন। ত্বক ময়শ্চারাইজড রাখার গুরুত্ব বলে শেষ করা যাবে না। গোসল থেকে বের হওয়ার ঠিক পরেই একটি পুষ্টিকর বডি ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করার পাশাপাশি, প্রতিদিন সকালে এবং সন্ধ্যায় একটি হাইড্রেটিং ফেশিয়াল ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করেন তাঁরা। পুষ্টিকর প্রাকৃতিক তেল দিয়ে তৈরি এমন একটি ফেশিয়াল ময়শ্চারাইজার তাঁরা বেছে নেন, যা ত্বকে কার্যকরভাবে পুষ্ট ও সুরক্ষিত করে তোলে।
সূত্র: ল’রিয়েল প্যারিস ইউএসএ