হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

শরতে অ্যালার্জি দূরে রাখতে ঘর পরিচ্ছন্ন করার উপায় জেনে নিন

ফিচার ডেস্ক

শরৎকালে যেহেতু বাসায় ধুলা-ময়লা বেশি ঢুকে পড়ে, তাই এই সময় সপ্তাহে একবার করে কার্পেট পরিষ্কার করুন। ছবি: পেক্সেলস

শরতে বাতাসে কাশফুলের রেণু ভেসে বেড়ায়। তা ছাড়া এ সময় বাতাস শুষ্ক থাকায় তাতে ধূলিকণাও থাকে প্রচুর। অর্থাৎ এ সময় বাতাসে অ্যালার্জি তৈরির উপাদান অ্যালার্জেনের পরিমাণ বেশি থাকে। যাঁদের ডাস্ট অ্যালার্জি আছে, তাঁরা এ সময়টায় শারীরিক সমস্যায় ভোগেন বেশি। তাই পুরো ঋতুতে বাড়িঘর পরিচ্ছন্ন রাখার দিকে দিতে হয় বাড়তি নজর। কারণ, বিছানা, সোফা, তোশক বা কার্পেটে ধুলাবালু বেশি জমে এ সময়। শরতে ঘরের পরিচ্ছন্নতার জন্য যা করতে পারেন—

কার্পেট

ঘর আকর্ষণীয় করে তোলে কার্পেট। আবার অপরিষ্কার কার্পেট ঘর করে তোলে অস্বাস্থ্যকর। এর ধুলার কারণে হতে পারে হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ নানান সমস্যা। শরৎকালে যেহেতু বাসায় ধুলা-ময়লা বেশি ঢুকে পড়ে, তাই এই সময় সপ্তাহে একবার করে কার্পেট পরিষ্কার করুন। আর বছরে একবার করে লন্ড্রিতে দিয়ে ডিপ ক্লিন করাতে ভুলবেন না। এতে কার্পেট নতুনের মতো হয়ে উঠবে এবং অনেক দিন টিকবে। আর স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।

বিছানার পরিচ্ছন্নতার ওপর আপনার সুস্থতা অনেকাংশে নির্ভরশীল। ছবি: পেক্সেলস

ম্যাট্রেস বা তোশক

বিছানার পরিচ্ছন্নতার ওপর আপনার সুস্থতা অনেকাংশে নির্ভরশীল। ম্যাট্রেস কিংবা তোশকে জন্ম নেয় ডাস্ট মাইট বা ধূলিপোকা। এরা আপাতদৃষ্টে ক্ষতিকর মনে না হলেও এদের জন্য অনেকের অ্যালার্জির ও অ্যাজমার সমস্যা হয়। তাই আপনার বিছানা পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য ম্যাট্রেস বা তোশকের নিচে বেকিং সোডা ছিটিয়ে দিন। আবার মাসে দুবার এক মগ পানিতে ৫ টেবিল চামচ বেকিং সোডা ও দুটি লেবুর রস মিশিয়ে ম্যাট্রেস বা তোশকের ওপর ছিটিয়ে দিন। এতে ডাস্ট মাইট দূরে থাকবে। তা ছাড়া সপ্তাহে দুবার করে চাদর পরিবর্তন করুন এবং নিয়মিত বিছানা ঝাড়ুন। এতে বিছানা পরিষ্কার থাকবে এবং ঘুম ভালো হবে।

শরৎকালে যেহেতু বাতাসে ধুলার পরিমাণ বেশি থাকে, তাই এই সময় নিয়মিত ঘরের শোপিস, টেবিল ল্যাম্প, ফুল, গাছ ও আসবাবগুলো পরিষ্কার করুন। ছবি: পেক্সেলস

বালিশ ও কুশন

বালিশ ও কুশন পরিষ্কার রাখুন। মাথায় তেল দিয়ে ঘুমানোর কারণে দ্রুত বালিশ ময়লা হয়ে যায়। তা ছাড়া বালিশের কভার নিয়মিত পরিষ্কার না করলে ধূলিপোকা বাসা বানায়। এই পোকা অ্যালার্জির অন্যতম কারণ। তাই নিয়মিত বালিশ ও কুশনের কভার পরিবর্তন করুন। সপ্তাহে অন্তত এক দিন ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার জন্য বালিশ রোদে দিন। এতে করে বালিশে থাকা জীবাণু ধ্বংস হবে।

শোপিস ও আসবাব

শোয়ার ঘরে অনেকে শোপিস রাখতে ভালোবাসেন। শরৎকালে যেহেতু বাতাসে ধুলার পরিমাণ বেশি থাকে, তাই এই সময় নিয়মিত ঘরের শোপিস, টেবিল ল্যাম্প, ফুল, গাছ ও আসবাবগুলো পরিষ্কার করুন। তাহলে ঘরের বাতাসের বিশুদ্ধতা বজায় থাকবে।

লাইটের সুইচ

নিয়মিত ব্যবহারের ফলে লাইটের সুইচগুলোতে ময়লা আটকে যায়। তাই মাসে অন্তত দুবার লাইটের সুইচগুলো পরিষ্কার করুন। ঘরের সবকিছু পরিষ্কার থাকলে ঘরময় শান্তি বিরাজ করবে।

ঘরের বাতাস ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ

শরতের এই সময়ে বাতাসে পরাগরেণু বেশি থাকে। তাই যাঁদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাঁরা ঘরের বাইরে থেকে আসা অ্যালার্জেন থেকে বাঁচতে জানালা-দরজা যতটা সম্ভব বন্ধ রাখুন। রান্নাঘর ও বাথরুমের মতো স্যাঁতসেঁতে জায়গায় ছত্রাক বা মোল্ড জন্মাতে পারে। ঘর শুষ্ক রাখতে ডিহিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন এবং কোনো লিকেজ থাকলে তা দ্রুত মেরামত করে ফেলুন।

পোষা প্রাণীর যত্ন ও অন্যান্য সতর্কতা

বাড়িতে পোষা বিড়াল বা কুকুর থাকলে আপাতত তাদের ঘুমানোর জায়গা অন্য ঘরে রাখুন। এ সময় তাদের শোয়ার ঘরের বিছানায় বা সোফায় উঠতে না দেওয়াই নিরাপদ। এ ছাড়া ঘরের ভেতর ধূমপান করা পুরোপুরি বন্ধ করুন। কারণ, তামাকের ধোঁয়া অ্যালার্জির তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

সূত্র: গুড হাউসকিপিং ও অন্যান্য