হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

দুঃস্বপ্নে ঘুম হচ্ছে না? জেনে নিন মুক্তির পথ

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 

দুঃস্বপ্ন আপনার জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ কেড়ে নিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। ছবি: পেক্সেলস

গভীর রাত। হঠাৎ ঘামতে ঘামতে আপনার ঘুম ভেঙে গেল, বুক ধড়ফড় করছে, মনে হচ্ছে কেউ যেন আপনাকে তাড়া করছিল। কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারলেন, আপনি দুঃস্বপ্ন দেখেছেন! কিন্তু সমস্যাটা তখনই শুরু হয়, যখন এই ‘ভয়ংকর স্বপ্ন’ আপনার রাতের ঘুম কেড়ে নেয় এবং দিনের স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণ খারাপ স্বপ্ন আর নাইটমেয়ার ডিসঅর্ডারের মধ্যে এক সূক্ষ্ম কিন্তু ভয়ংকর দেয়াল আছে। বিষয়টি হয়তো আমরা অনেকে জানি না।

সাধারণ দুঃস্বপ্ন নাকি মস্তিষ্কের সংকেত

আমরা সবাই মাঝেসাঝে খারাপ স্বপ্ন দেখি। কিন্তু যদি এই দুঃস্বপ্ন প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার বা তার বেশি দেখেন এবং আপনার মনে ভীতি জাগিয়ে তোলে ‘ঘুমালেই আবার ওই দৃশ্য দেখব’, তাহলে আপনার হয়তো নাইটমেয়ার ডিসঅর্ডার হওয়ার আশঙ্কা আছে। এটি শুধু একটি ‘খারাপ স্বপ্ন’ নয়, বরং একটি চিকিৎসাযোগ্য প্যারাসমনিয়া বা স্লিপ ডিসঅর্ডার। গবেষণা বলছে, আমেরিকার ২ থেকে ৮ শতাংশ মানুষ এই সমস্যায় জর্জরিত; বিশেষ করে যারা পিটিএসডি, বিষণ্নতা বা সামাজিক ভীতিতে ভোগে, তাদের মধ্যে এই প্রবণতা সাধারণ মানুষের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি।

ভয়ের কথা স্মরণ করা

আমাদের মস্তিষ্ক সারা দিনের ভয়ংকর বা নেতিবাচক স্মৃতিগুলোকে ঘুমের মধ্যে প্রসেস করে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে দেয়। একে বলে ফিয়ার এক্সটিংশন। কিন্তু নাইটমেয়ার ডিসঅর্ডারে এই প্রক্রিয়া ঠিকমতো কাজ করে না। ফলে মস্তিষ্ক সেই ভয়ংকর স্মৃতিগুলোকেই বারবার জীবন্ত করে তোলে। এটি অনেকটা একটি আটকে যাওয়া রেকর্ডের মতো, যা বারবার একই ভয়ংকর সুর বেজে চলেছে।

লক্ষণগুলো চিনুন

নাইটমেয়ার ডিসঅর্ডারের দুঃস্বপ্নগুলো সাধারণত ঘুমের দ্বিতীয় ভাগে ঘটে। এর লক্ষণগুলো শুধু মনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। দেখে নিন সেগুলো—

  • ঘুম থেকে ওঠার পর প্রচণ্ড ঘাম হওয়া এবং হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া।
  • স্বপ্নের প্রতিটি ডিটেইল স্পষ্ট মনে থাকা।
  • দিনের বেলা ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ এবং কাজে অমনোযোগ দেখা দেওয়া।
  • আবার ঘুমাতে যাওয়ার প্রতি একধরনের অনীহা বা আতঙ্ক তৈরি হওয়া।

দুঃস্বপ্ন থেকে মুক্তির পথ

অনেকে মনে করেন, ওষুধই এর একমাত্র সমাধান। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। ‘ইমেজারি রিহার্সাল থেরাপি’ বর্তমানে এর সবচেয়ে কার্যকর সমাধান বলে বিবেচিত হচ্ছে।

ইমেজারি রিহার্সাল থেরাপি অনেকটা সিনেমার চিত্রনাট্য বদলে দেওয়ার মতো। আপনি আপনার দুঃস্বপ্নটি লিখবেন, কিন্তু এর শেষটা বদলে দেবেন একটি সুন্দর বা ইতিবাচক পরিণতি দিয়ে। প্রতিদিন জেগে থাকা অবস্থায় এই নতুন স্ক্রিপ্ট মনে মনে রিহার্সাল করলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে দুঃস্বপ্নটিকে ওভাবেই গ্রহণ করতে শুরু করে।

স্লিপ হাইজিন মেনে চলুন। ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ডিজিটাল স্ক্রিন বন্ধ রাখুন। অ্যালকোহল বা ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করা মস্তিষ্ক শান্ত রাখতে সাহায্য করে।

শিশুর দুঃস্বপ্নকে উড়িয়ে দেবেন না

৩ থেকে ৬ বছরের শিশুদের মধ্যে দুঃস্বপ্ন খুব সাধারণ। অনেক অভিভাবক এটাকে ‘ভূত-প্রেতের গল্প’ বলে উড়িয়ে দেন। কিন্তু মনে রাখবেন, শিশুর কাছে সেই ভয়টি বাস্তব। তাকে আশ্বস্ত করুন, সে নিরাপদ আছে। তার ঘরে একটি হালকা নাইটলাইট জ্বালিয়ে রাখা বা তার প্রিয় কোনো খেলনা সঙ্গে রাখা তাকে মানসিক নিরাপত্তা দিতে পারে।

দুঃস্বপ্ন মানেই ভয় নয়

দুঃস্বপ্ন অনেক সময় আমাদের অবদমিত আবেগ বা মানসিক চাপের প্রতিফলন। একে ভয় না পেয়ে বরং মূল কারণ খোঁজা জরুরি। যদি আপনার দুঃস্বপ্ন আপনার জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ কেড়ে নেয়, তাহলে বুঝতে হবে আপনার মস্তিষ্ক সাহায্য চাইছে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ এবং সঠিক থেরাপির মাধ্যমে আপনি আপনার রাতের সেই হারানো শান্তি পুনরায় ফিরে পেতে পারেন। মনে রাখবেন, অন্ধকার যত গভীরই হোক, সকালের আলোয় তার কোনো অস্তিত্ব থাকে না।

সূত্র: স্লিপ ফাউন্ডেশন, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক

আপনি ইনট্রোভার্ট, নাকি সামাজিক ভীতির শিকার? জেনে নিন

আজকের রাশিফল: স্বাস্থ্যের একটু টালমাটাল অবস্থা যাবে, গোপন কথা পেটে রাখুন

সারা দিন শরীর ম্যাজম্যাজ আর ক্লান্তি? জেনে নিন কে আপনার এনার্জি চুরি করছে

আজকের রাশিফল: বাবার চটি থেকে পিঠ বাঁচবে না, কর্মক্ষেত্রে দাপট বজায় থাকবে

ওজন কমাতে ট্রাই করুন ‘প্রতিদিন একই খাবার’ ফর্মুলা!

উৎসবের আগে ঘরদোর ঝকঝকে করে তুলবেন যেভাবে

আজকের রাশিফল: পকেটে শনির নজর, ঝগড়া করলে পরে পস্তাবেন

প্রতিদিন ১৫ মিনিট ‘বিরক্ত’ থাকলে নতুন আইডিয়া আসবে মাথায়, বলছে গবেষণা

তপ্ত গরমে ত্বক ও চুল সতেজ রাখতে গোসলের টিপস

আজকের রাশিফল: ‘ভেটো’ দেওয়ার চেষ্টা করলে ‘বিচ্ছেদের’ প্রস্তাব পাস হয়ে যাবে