প্রতিটি সংস্কৃতির নিজস্ব সৌন্দর্যচর্চার পদ্ধতি রয়েছে। এগুলো আবার নির্ভর করে প্রতিটি দেশের মানুষের আবহাওয়া, খাদ্যাভ্যাস আর ত্বকের ধরনের ওপর। এই যেমন ব্রিটিশদের কথাই ধরা যাক, দুধসাদা ত্বকে গোলাপি আভা ছড়ানো মানুষের আদৌ রূপচর্চার প্রয়োজন পড়ে কি না, তা নিয়ে আমরা প্রায়ই ভাবি। কিন্তু ব্রিটিশরা মনে করে, তাদের ত্বকও ময়লা হয়, রোদে পোড়ে। ফলে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করে এবং ত্বকে পুষ্টি জোগায়, এমন পণ্যই তাদের জন্য উপযোগী। কী কী ব্যবহার করে তারা? কেনই-বা তাদের এত সুন্দর দেখায়? যতটুকু তথ্য জানা যায় এ ব্যাপারে, আপনাদের জানিয়ে রাখি।
যেকোনো সংস্কৃতিতেই ত্বকের জন্য একটি ক্লিনজিং এবং ময়শ্চারাইজিং পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এতে একাধিক ধাপ এবং নির্দিষ্ট কিছু উপাদান থাকে। ব্রিটিশ নারীরা সাধারণত চার ধাপে ত্বকের যত্ন নিতে ভালোবাসেন। এর মধ্যে রয়েছে এক্সফোলিয়েট, ক্লিনজিং, টোনিং ও ময়শ্চারাইজিং। এই চার ধাপ সম্পন্ন করার জন্য উপকরণগুলো ত্বকের ধরন বুঝে তাঁরা বেছে নেন। ব্যবহৃত হয় দুধ, কফি, চিনির মতো প্রাকৃতিক উপকরণও।
ব্রিটিশ সুন্দরীদের সংগ্রহে একটি হলেও টুকটুকে লাল লিপস্টিক পাবেন। তুষারের মতো শুভ্র ত্বকের মেয়ে লাল লিপস্টিকে ঠোঁট রাঙিয়েছে, এটি দেখলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। ব্রিটিশ নারীরা লাল লিপস্টিককে সৌন্দর্যের নিখুঁততম অনুষঙ্গ ভাবেন। যখন আর কোনো মেকআপ করার সময় তাঁদের হাতে থাকে না, তখন ঠোঁটে লাল লিপস্টিক বুলিয়ে নিলে তাঁরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন।
ব্রিটিশরা সেখানকার নারীর সৌন্দর্যকে ‘ইংলিশ রোজ’ হিসেবে চেনেন। গোলাপি গাল, মসৃণ ত্বক এবং লাল ঠোঁট—অনেক ব্রিটিশ নারী এখনো এই রূপদর্শনকে আদর্শ হিসেবে মানেন। ব্রিটিশদের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা এই মতবাদ অন্যান্য অনেক দেশেও প্রশংসিত হয়েছে। তাই গালে গোলাপি ব্লাশন আর ঠোঁটে লাল লিপস্টিক—এই দুটিকে ব্রিটিশ নারীদের আবেগ বলা চলে।
ব্রিটিশ নারীদের মধ্যে অনেকেই একটি নিজস্ব শৈলী মেনে চলেন। সাধারণ ব্রিটিশ নারীরা কিংবা ব্রিটিশ রাজপরিবারের নারীরা নীল আইশ্যাডো বা কালো লিপস্টিক—এমন ট্রেন্ডি সাজগোজ মন থেকে কখনোই মেনে নেননি। তাঁরা চোখের সাজে সাধারণ উইংড আইলাইনার বা ন্যুড আইশ্যাডো বেছে নিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছেন। এতে সাজটা মার্জিতও থাকে, আভিজাত্য়ও প্রকাশ পায়, আবার নিজেরাও হালকা বোধ করেন।
যদিও অনেকে বন্ধুদের সঙ্গে সন্ধ্যায় পার্টিতে যোগ দিতে জমকালো সাজ পছন্দ করেন, কিন্তু অনেক ব্রিটিশ নারী একটি সাধারণ ও সতেজ লুকই বেশি ভালোবাসেন। সৌন্দর্যচর্চার সাম্প্রতিক ট্রেন্ড বিবি ক্রিম ব্রিটিশ নারীদের কাছেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এটি হালকা কভারেজ দেওয়ার পাশাপাশি ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে তোলে। ইংরেজদের সেই গোলাপি গাল ফুটিয়ে তোলার জন্য এটি নিখুঁত উপায়।
কোমল, মসৃণ ত্বকের জন্য ব্রিটিশ নারীরা প্রাকৃতিক ফেস অয়েলের ওপর ভরসা করেন। প্রতিদিনের রূপচর্চায় রোজহিপ অয়েল যেন তাঁদের কাছে ভরসা।
শুধু বাইরে থেকে মুখে অয়েল নয়, কী ধরনের খাবার খাচ্ছেন, তার ওপরেও ত্বকের ভালো-মন্দসহ অনেক কিছু নির্ভর করে বলে মনে করেন ব্রিটিশ সুন্দরীরা। ফল, শাকসবজির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বাদাম এবং বীজ-জাতীয় খাবার খাদ্যতালিকায় রাখেন তাঁরা। ফলে গালের গোলাপি আভার জন্য কেবল ব্লাশনের ওপর যে তাঁরা ভরসা করেন না, তা বোঝা যায়।
ত্বকচর্চা ও খাওয়াদাওয়ার পাশাপাশি ভালো ঘুমের নিশ্চয়তা যেন থাকে, সেদিকে নজর রাখেন তাঁরা। দাগ, ছোপহীন, উজ্জ্বল ত্বকের জন্য প্রতিদিন অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন রয়েছে। ঘুমের স্বাভাবিক চক্র যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে দিকে লক্ষ রাখেন ব্রিটিশ সুন্দরীরা।
সূত্র: ডায়ামন্ডস ডিজাইনস ইউনিফর্মস