হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

জীবনে চিঠির দিনগুলো ফিরিয়ে আনতে যা করতে পারেন

ফিচার ডেস্ক

ছবি: এআই

আজ ১ সেপ্টেম্বর। আন্তর্জাতিক চিঠি দিবস। মিলেনিয়ালরা চিঠির দিনগুলোর কথা ভেবে আজও নস্টালজিয়ায় ভোগেন। আহা, প্রিয় মানুষের হাতের লেখায় একটা চিঠি পাওয়া জন্য কত অপেক্ষা, কত চোখের জল আর কত আকুতি। প্রয়োজন, প্রেম, চাওয়া-পাওয়া সবটাই তখন লেখা হলো কাগজের বুকে। চিঠি পাওয়ার পরও যেন সহজে খাম খুলতে মন চাইত না। বিকেলবেলায় পুকুরপাড়ে বসে পড়ার জন্য, কেউ আবার রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর কুপির আলোয় পড়ার জন্য সেগুলো রেখে দিতেন। সেসব চিঠি রাখা হতো সিন্দুকে, তোশকের নিচে, বুকের ভাঁজে ট্রাংকে অথবা ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে। শুধু কি তাই? একবার পড়ে মন ভরত না। বারবার শুরু থেকে পরম আবেগ নিয়ে পড়া হতো আকাঙ্ক্ষিত সেসব চিঠি।

আজকের ডিজিটাল যুগে মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা ই-মেইলের কল্যাণে যোগাযোগ হয়েছে মুহূর্তের। কিন্তু এই দ্রুতগতির যুগে হারিয়ে গেছে চিঠির সেই চেনা আবেগ, খামের গন্ধ আর অপেক্ষার আনন্দ। প্রিয় মানুষের হাতের অক্ষরে লেখা একটি চিঠি যে গভীর অনুভূতি প্রকাশ করতে পারত, তা একটি যান্ত্রিক টেক্সট মেসেজে পাওয়া অসম্ভব। যান্ত্রিকতার এই ভিড়ে আপনিও যদি চান সেই সোনালি চিঠির দিনগুলো আবার ফিরিয়ে আনতে, তবে ছোট ছোট কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে তা শুরু করতে পারেন।

সুন্দর লেটারপ্যাড ও কলম সংগ্রহ করুন

চিঠি লেখার প্রথম আনন্দই লুকিয়ে থাকে এর উপকরণের মাঝে। মনে আছে, আগে চিঠি লেখার জন্য বিভিন্ন বই-খাতার দোকানে লেটারপ্যাড পাওয়া যেত। দারুণ সুগন্ধ বের হতো সেসব প্যাডের পাতা থেকে। বাজার থেকে কিছু মানসম্মত, রঙিন বা ভিন্টেজ ডিজাইনের লেটারপ্যাড, সুন্দর খাম এবং একটি ভালো মানের কলম কিনে নিন। সুন্দর কাগজে লিখতে বসার অনুভূতিটাই আপনাকে চিঠির প্রতি আগ্রহী করে তুলবে। এগুলো এখন বিভিন্ন অনলাইন পেজেও কিন্তু কিনতে পাওয়া যায়।

বিশেষ দিনগুলোতে প্রিয় মানুষকে হাতে লেখা চিঠি দিন

প্রিয়জনের জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী কিংবা বিশেষ কোনো সাফল্যে দামি উপহারের সঙ্গে একটি সুন্দর চিঠি দিন। আপনার মন থেকে লেখা কয়েকটি লাইন উপহারকে আরও বেশি মূল্যবান ও স্মরণীয় করে তুলবে।

চিঠিপ্রেমী বন্ধুদের খোঁজ করুন

পরিচিতদের মাঝে এমন কাউকে খুঁজে নিন যিনি আপনার মতোই চিঠি লিখতে পছন্দ করেন। দূর দেশের বা ভিন্ন শহরের কোনো বন্ধুকে সময় নিয়ে চিঠি লিখতে পারেন। কারও মাধ্যমে বা তাঁর সঙ্গে দে হলে নিজেই তাঁর হাতে চিঠি পৌঁছে দিন। চিঠিটি কখন পড়বে সেসময়ও বলে দিতে পারেন। আর হ্যাঁ, চিঠিতে লেখা কথাগুলো গল্পের ফাঁকে মুখে বলে ফেলবেন না যেন।

পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের চিঠি লিখুন

আপনার দাদা-দাদি, নানা-নানি বা বাবা-মাকে চিঠি লিখুন। তাঁরা জীবনের একটি বড় সময় চিঠি লিখে পার করেছেন। আপনার কাছ থেকে আকস্মিক একটি চিঠি পেলে তাঁরা যেমন আনন্দিত হবেন, তেমনি তাদের চিঠির উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে আপনিও ফিরে পাবেন খাঁটি চিঠির স্বাদ।

মনের ভাব প্রকাশের একটি নিজস্ব সময় রাখুন

সপ্তাহে বা মাসে অন্তত একটি দিন বেছে নিন, যেদিন সমস্ত গ্যাজেট বা মোবাইল স্ক্রিন থেকে দূরে থাকবেন। শান্ত হয়ে বসে কোনো ডায়েরি বা কাগজে নিজের অনুভূতিগুলো প্রিয় মানুষের উদ্দেশে লিখে ফেলুন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একধরনের থেরাপির মতো কাজ করে, যা মানসিক চাপ কমায়।

ডিজিটাল দুনিয়ার গতি হয়তো আমাদের সময় বাঁচিয়ে দিয়েছে, দূরবর্তী মানুষকেও প্রতিদিন ভিডিওকলে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। কিন্তু এর ফাঁকেই আমরা চিঠির মতো আবেগকে হারিয়ে ফেলেছি। সেই আবেগকে আবারও কাগজের ভাঁজে রেখে প্রিয় মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এই অভ্যাসগুলো তো আপনি করতেই পারেন।

সূত্র: মিডিয়াম, সাইকি ও অন্যান্য