জীবনের জটিল সমীকরণে যখন চারপাশের সবকিছু অন্ধকার মনে হয়, তখন আত্মহত্যার মতো একটি ক্ষণিকের সিদ্ধান্ত নিভে দেয় বহু সম্ভাবনাময় দীপ। এটি কেবল একজন ব্যক্তির জীবনাবসান নয়, বরং এক গভীর বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সংকট। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতি ৪০ সেকেন্ডে পৃথিবী থেকে ঝরে যায় একটি মূল্যবান প্রাণ। আর প্রতিবছর বাংলাদেশেই অকালে ঝরে যাচ্ছেন হাজারো তরুণ-তরুণী ও শিক্ষার্থী। অথচ নিউরোসায়েন্স ও সাইকিয়াট্রি বলছে—আত্মহত্যার তীব্র তাড়না মূলত এক ক্ষণস্থায়ী আবেগীয় ঝড়, যার শারীরিক আয়ু মাত্র '৯০ সেকেন্ড'। সময়মতো বুঝতে পারা, প্রিয়জনের উপস্থিতি কিংবা মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় বাড়ানো হাত এই সংকটময় মুহূর্তগুলোকে জয় করতে পারে। আজ বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস। 'আত্মহত্যা নিয়ে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন' ও 'আলোচনা শুরু করুন'—এই বৈশ্বিক আহ্বানকে সামনে রেখে আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক নীরবতা ভাঙার।
আত্মহত্যার তাড়না কেন '৯০ সেকেন্ড' থাকে
আত্মহত্যার অনেক ঘটনাই দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফল নয়; বরং এটি অত্যন্ত ক্ষণিকের ও আবেগতাড়িত একটি সিদ্ধান্ত। হঠাৎ করে তৈরি হওয়া এই তীব্র তাড়নার পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ কাজ করে–
যেভাবে এই ভাবনা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে
আত্মহত্যার তাড়না সাধারণত কিছুক্ষণের জন্য খুব চরম আকার ধারণ করে। নিজেকে বলুন, ‘আমি আপাতত ১৫ মিনিট অপেক্ষা করছি, এরপর সিদ্ধান্ত নেব।’ এ সময়ে পরিবেশ বদলে ফেলুন—ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ুন, ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিন। '৫-৪-৩-২-১' পদ্ধতি ব্যবহার করুন। চোখের সামনে পাঁচটি জিনিস দেখুন, চারটি জিনিস স্পর্শ করুন, তিনটি শব্দ শুনুন, দুটি গন্ধ শুঁকুন ও একটি জিনিস স্বাদ নিন।
মনে রাখবেন, আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান নয়। আপনার অস্তিত্ব অমূল্য। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘আত্মহত্যা নিয়ে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন’ এবং এর মূল আহ্বান ‘আলোচনা শুরু করুন’—যা আমাদের প্রত্যেককে মনে করিয়ে দেয় যে, খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমেই আমরা এই সমস্যা মোকাবিলা করতে পারি।
লেখক: চিকিৎসক, কাউন্সেলর ও সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার বিডি