হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

‘ড্রাই বেগিং’ কি সম্পর্কের সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে? যেভাবে সামাল দেবেন

সাজনাত বিনতে হোসেন ছোঁয়া

‘ড্রাই বেগিং’ যেভাবে সামাল দেবেন। ছবি: পেক্সেলস

আপনি কি কখনো এমন কারও মুখোমুখি হয়েছেন, যিনি সরাসরি কিছু না চেয়ে বারবার এমন ইঙ্গিত করেন যে শেষ পর্যন্ত আপনিই তাঁকে সাহায্যের প্রস্তাব দিতে বাধ্য হন? এই আচরণের একটি বিশেষ নাম রয়েছে, তা হলো, ‘ড্রাই বেগিং’।

ড্রাই বেগিং আসলে কী

সহজভাবে বললে ড্রাই বেগিং হলো এমন একধরনের আচরণ, যেখানে সঙ্গী বা কেউ সরাসরি সাহায্য, সমর্থন বা উপহার না চেয়ে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে এমনভাবে কথা বলতে থাকেন, যাতে অপর ব্যক্তি নিজ থেকে এগিয়ে আসেন।

প্রেমের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেকের মধ্যে এটি প্রায়ই দেখা যায়, যেমন সঙ্গী উপহার পাওয়ার আশায় বলতে পারেন, ‘জুতাগুলো হয়তো তাঁর পোশাকের সঙ্গে দারুন মানাবে।’ কিংবা সরাসরি সাহায্য না চেয়ে বলতে পারেন, ‘খুব ক্লান্ত লাগছে, মনে হয় সব কাজ একাই করতে হবে।’ বন্ধুত্বের সম্পর্কের মধ্যেও প্রায়ই ছোটখাটো অভিযোগ বা মজার ছলে বিষয়টি লক্ষ করা যায়। বন্ধুর থেকে পোশাক ধার নেওয়ার আশায় কেউ হয়তো বলছে, এই অনুষ্ঠানে পরার মতো সুন্দর কোনো পোশাক নেই তাঁর। উপহার পাওয়ার আশায় বলতে পারে, জন্মদিনটা তো চলেই এল, এবার সে বিশেষ কিছু করছে না।

কর্মক্ষেত্রেও ড্রাই বেগিং দেখা যায়। অনেক সময় কেউ সরাসরি অনুরোধ না করে নিজের চাপ বা কষ্টের কথা এমনভাবে বলেন যেন সহকর্মীরা নিজে থেকে তাঁকে সাহায্যের প্রস্তাব দেন; যেমন সাহায্যের আশায় কেউ হয়তো বলে বসেন, এই প্রজেক্টে এত কাজ, কোথা থেকে শুরু করবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না। কিংবা প্রশংসা পাওয়ার আশা করে বলতে পারেন, এই প্রেজেন্টেশনের জন্য তিনি খুব পরিশ্রম করেছেন। সঙ্গে সঙ্গে আশপাশ থেকে তাঁর কাজের প্রশংসা করা শুরু করলেন সহকর্মীরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ড্রাই বেগিং আরও বেশি চোখে পড়ে। এখানে অনেকে সহানুভূতি পাওয়ার আশায় ঘন ঘন আবেগীয় পোস্ট করে থাকেন।

চিকিৎসক, কাউন্সিলর ও সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার সানজিদা শাহরিয়া বলেন, এটি অনেক সময় সম্পর্কের গভীর সমস্যার কারণ হতে পারে। কারণ, এটির ফলে এক ব্যক্তি নিজের প্রয়োজন বা চাওয়াগুলো সরাসরি প্রকাশ না করে ইশারা-ইঙ্গিতে বোঝানোর চেষ্টা করেন। যা পরে অপরজনের বিরক্তি ও দুজনের মধ্য়কার ভুল-বোঝাবুঝির কারণ হয়ে উঠতে পারে। এই ড্রাই বেগিং হতাশা এবং মানসিক চাপও তৈরি করতে পারে।

ড্রাই বেগিং কেন করে মানুষ

ডা. সানজিদা শাহরিয়া এ ধরনের আচরণের পেছনে কিছু কারণের কথা উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো–

প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়

অনেকে সরাসরি না বলতে বা শুনতে চান না। তাই সরাসরি মন খুলে কথা না বলে আগে একটু ইঙ্গিত দিয়ে পরিস্থিতি বুঝে নিতে চান। এতে হয়তো প্রত্যাখ্যানের কষ্ট কিছুটা কম মনে হয়।

‘ড্রাই বেগিং’ যেভাবে সামাল দেবেন। ছবি: পেক্সেলস

যোগাযোগ দক্ষতার অভাব

কিছু মানুষ ছোটবেলা থেকে নিজের চাহিদা স্পষ্টভাবে বলতে শেখেন না। ফলে তাঁরা সরাসরি না বলে ঘুরিয়ে কথা বলে অভ্যস্ত হয়ে যান।

আবেগ দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা

এ ক্ষেত্রে কখনো কখনো ব্যক্তির উদ্দেশ্য থাকে অন্য ব্যক্তিকে অপরাধ বোধে ফেলে বা বাধ্য করে তাকে সাহায্য করতে বাধ্য করা।

সম্পর্ক যাচাইকরণ

কেউ কেউ নিরীক্ষা করতে চান, তাঁদের কাছের মানুষেরা তাঁদের কতটা খেয়াল রাখেন। তাঁরা মনে করেন, সত্যিকারের ভালোবাসা বা বন্ধুত্ব থাকলে অনেক কিছু মুখে না বললেও অন্যরা সেটি বুঝে নেবেন। অবশ্য এই ধারণা সব সময় ঠিক নয়, এটাও সত্য।

সাহায্য পাওয়ার সহজ উপায়

সরাসরি কিছু চাইলে সেটি অনুগ্রহ হিসেবে মনে হতে পারে। কিন্তু ইঙ্গিতের মাধ্যমে সাহায্য পেয়ে যাওয়ার মাধ্যমে সেই অস্বস্তিবোধের মুখোমুখি হতে হয় না।

সামাজিক প্রভাব

সমাজে অনেক সময়, সরাসরি কিছু চাওয়াকে অভদ্রতা বলে মনে করা হয়। ফলে পরোক্ষভাবে ইচ্ছা প্রকাশ করার প্রবণতা তৈরি হয়।

ড্রাই বেগিং যেভাবে সম্পর্কের ক্ষতি করে

ডা. সানজিদা শাহরিয়া বলেন, ‘এই সমস্যা অনেক সময় কেবল বিরক্তিকরই নয়, সম্পর্কের সুস্থতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। যেমন এটি সম্পর্কের খোলামেলা যোগাযোগে বাধা দেয়।’

সানজিদা শাহরিয়া জানান, একটি সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি হলো স্বাভাবিক ও স্পস্ট যোগাযোগ। সেটি কমে গেলে নিজেদের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝির মাত্রা বেড়ে যায়। নিজের চাহিদা সঠিকভাবে প্রকাশ না করলে অনেক সময় আবেগগত সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। আবার সঙ্গীর অপরাধবোধ তৈরি করে সাহায্য আদায়ের চেষ্টা সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট করে।

মোটকথা সব সময় কারও মনের কথা বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপালে তা ক্লান্তিকর হয়ে উঠতে পারে। সরাসরি কিছু না চেয়ে, মনে মনে আশা করে থেকে ‘আমি তো কিছু চাইনি’ বললে হয়তো নিজের দায় এড়িয়ে যেতে পারবেন বলে মনে করেন কেউ কেউ। সম্পর্কের মধ্যে একজন সঙ্গী সব সময়ই দিচ্ছেন আর অন্যজন নিচ্ছেন, এমন পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকারক। এই ধরনের ভারসাম্যহীনতা মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও হতাশার কারণ হতে পারে।

ড্রাই বেগিংয়ের সম্মুখীন হলে আপনার করণীয়

  • ইঙ্গিত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়বেন না।
  • ভদ্রভাবে প্রশ্ন করতে পারেন, ‘তোমার কি কোনো সাহায্য প্রয়োজন?’
  • পরিষ্কারভাবে অনুরোধটি জানার পর সিদ্ধান্ত নিন আপনি সাহায্য করতে চান কি না।
  • নিজের সীমারেখা বজায় রাখুন। প্রয়োজনে বিনয়ের সঙ্গে ‘না’ বলতে শিখুন।
  • নিজের মধ্যে সমস্যাটি থাকলে যেভাবে নিজেকে বদলাতে পারেন
  • নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি আসলে কী চাইছেন?
  • ইঙ্গিত না করে যা বলতে চান তা সরাসরি বলার অভ্যাস করার চেষ্টা করুন।
  • ‘না’ শোনার মানসিকতা তৈরি করুন। প্রত্যাখ্যান মানেই অসম্মান নয়।
  • নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর চেষ্টা করুন।
  • প্রয়োজনে থেরাপিস্টের পরামর্শ নিতে পারেন।

কেন পালিত হয় আন্তর্জাতিক গোসল দিবস? জেনে নিন গোসলের সঠিক নিয়ম

বয়সের ছাপ রুখতে কী খাবেন, কী খাবেন না

জেনে নিন, গরমে ত্বকের সমস্যা সমাধানে কতভাবে গোলাপজল ব্যবহার করা যায়

ফিটনেস রুটিনে পরিবর্তন আনার আগে জেনে নিন

ঘরে আম পাকানোর ৫টি প্রাকৃতিক উপায়

নিজের সৌন্দর্য নিয়ে চিন্তায় আছেন? দেখে নিন, এ থেকে বাঁচতে কী করবেন

কর্মক্ষেত্রে কীভাবে ভিন্নমত জানাবেন? জানুন ৬ ম্যাজিক্যাল কৌশল

দাম্পত্য সম্পর্ক এবং সন্তানের মানসিক বিকাশ

ব্যবহৃত টি ব্যাগ না ফেলে যা করবেন

রাতে ঘুমানোর আগে পানি পানে আছে স্বাস্থ্যঝুঁকি