অনেক সময় সকালে উঠেই ক্লান্ত লাগে। এমনকি সারা দিন ক্লান্তিতে কাটে। এ ধরনের অলস সময় অনেকের যায়। সব সময় ক্লান্ত বা অবসন্ন বোধ করার পেছনে জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস কিংবা নানা শারীরিক কারণ জড়িত থাকতে পারে। অতিরিক্ত ক্লান্তির পেছনে থাকা প্রধান কারণগুলো জানা থাকলে এই ক্লান্তি থেকে মুক্তি মেলা সহজ হয়ে যায়।
পর্যাপ্ত ও ভালো ঘুমের অভাব: শরীর সুস্থ রাখতে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের রাতে অন্তত ৭ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম প্রয়োজন। ঘুমের সময় শরীরে গ্রোথ হরমোন নিঃসৃত হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত হয়। ইনসমনিয়া বা ঘুমের সমস্যা থাকলে মেজাজ খিটখিটে হওয়া ও শারীরিক ক্লান্তি দেখা দেয়।
পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি: শরীরে আয়রন, ভিটামিন ডি, ভিটামিন সি, ম্যাগনেশিয়াম এবং ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সের (বি২, বি৩, বি৫, বি৬, বি৯ ও বি১২) ঘাটতি হলে দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরও ক্লান্তি লাগতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ: অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকে ব্রেনের গঠনগত ও কার্যগত পরিবর্তন ঘটে এবং শরীরে প্রদাহ তৈরি হয়। এর ফলে স্ট্রেস-রিলেটেড এক্সহস্টন ডিজঅর্ডার দেখা দেয়, যা শরীরকে ক্লান্ত করে ফেলে।
শারীরিক অসুস্থতা: ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা (হাইপোথাইরয়েডিজম), ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোম, কিডনির রোগ, স্লিপ অ্যাপনিয়া, ক্যানসার, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, ডিপ্রেশন ও এনজাইটির মতো রোগের অন্যতম প্রধান লক্ষণ দীর্ঘমেয়াদি ক্লান্তি।
ভারসাম্যহীন খাদ্যাভ্যাস: খাদ্যে পর্যাপ্ত ক্যালরি ও প্রোটিন না থাকলে শরীর শক্তি জোগাতে চর্বি ও পেশি ভাঙতে শুরু করে। এ ছাড়া অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও চিনিযুক্ত খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করে, যা ক্লান্তি বাড়ায়।
অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ: সাময়িক শক্তি পেলেও অতিরিক্ত চা-কফি বা এনার্জি ড্রিংক খেলে রাতের ঘুম ব্যাহত হয়। পরদিন সকালে ক্লান্তির কারণে মানুষ আবার ক্যাফেইন পান করে, যা একটি ক্ষতিকর চক্র তৈরি করে।
ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা: শরীরে প্রয়োজনীয় পানির ঘাটতি হলে কাজের মনোযোগ কমে যায় এবং মেটাবলিজম ধীর হয়ে শরীরের শক্তি কমে যায়।
অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা: অতিরিক্ত ওজনের ফলে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া দেখা দেয়, যা রাতের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে দিনে ক্লান্তি ও ঝিমুনি ভাব লেগেই থাকে।
সূত্র: হেলথ লাইন