হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

প্রতিদিনের যে ৮ অভ্যাস বাড়াতে পারে আপনার আয়ু

ফিচার ডেস্ক

অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসল হরমোনের নিঃসরণ বাড়ায়। এই হরমোন কোষের ডিএনএ নষ্ট করে অকাল বার্ধক্য এবং ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করে। ছবি: পেক্সেলস

যুগ যুগ ধরে মানুষ কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছে। তার মধ্যে অন্যতম দুটি প্রশ্ন হলো, মানুষ আসলে কত দিন বাঁচে? আর দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের রহস্য কী? যুক্তরাজ্যের প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষের ওপর দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চালানো একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় মাত্র ৮টি সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে একজন মানুষের গড় আয়ু অনায়াসে ১০ বছরেরও বেশি বেড়ে যেতে পারে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্ধারিত এই জীবনযাত্রার মানদণ্ডকে বলা হচ্ছে ‘লাইফ’স এসেনশিয়াল ৮’। আমেরিকান ‘জার্নাল অব প্রিভেনটিভ কার্ডিওলজি’তে প্রকাশিত এই গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যাঁরা এই ৮টি নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলেন, তাঁদের যেকোনো রোগে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি এক-পঞ্চমাংশ কমে যায়। এমনকি যাঁরা পুরোপুরি না পেরে মাঝারিভাবেও এগুলো জীবনে প্রয়োগ করেন, তাঁরাও অন্যদের চেয়ে প্রায় ৮ বছর বেশি বাঁচতে পারেন।

গবেষকেরা যা বলছেন

আশার কথা হলো, আপনার যদি আগে থেকেই টাইপ-২ ডায়াবেটিস বা হৃদ্‌রোগের মতো জটিলতা থাকে, তবুও এই অভ্যাসগুলো আপনার রোগ নিয়ন্ত্রণে রেখে আয়ু বাড়াতে সমানভাবে সাহায্য করবে। চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাসগুলো কেবল জীবনের বছরই বাড়ায় না, বরং বার্ধক্যকে শ্লথ করে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে। লন্ডনের ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা অধ্যাপক ব্রায়ান উইলিয়ামস বলেন, ‘এই গবেষণা প্রমাণ করে, নিজের হৃদ্‌যন্ত্র ও জীবনযাত্রাকে প্রাধান্য দিলে তার ফল হাতেনাতে পাওয়া যায়। এর জন্য জীবন আমূল বদলে ফেলার দরকার নেই। প্রতিদিনের ছোট ছোট কিছু পরিবর্তনই আপনাকে এনে দিতে পারে এক দীর্ঘ, রোগমুক্ত ও আনন্দময় জীবন।’

গুণগত ঘুম ও আদর্শ ওজন

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন ঘুম শরীরের কোষ মেরামত ও হৃদ্‌যন্ত্র ভালো রাখার জন্য অপরিহার্য। যাঁরা নিয়মিত ৫ ঘণ্টার কম ঘুমান, তাঁদের শরীর দ্রুত ভেঙে পড়ে। ঘুমের পাশাপাশি শরীরের আদর্শ ওজন বজায় রাখা জরুরি। অতিরিক্ত ওজন কিংবা প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাস রক্তে কোলেস্টেরল ও শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এটি পরোক্ষভাবে আয়ু কমিয়ে দেয়।

সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি ধরনের ব্যায়াম আপনার আয়ু প্রায় ৭ বছর পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। ছবি: পেক্সেলস

কর্মময় জীবন ও নিয়মিত ব্যায়াম

দীর্ঘায়ু পাওয়ার জন্য জিমে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাম ঝরানোর প্রয়োজন নেই। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি ধরনের ব্যায়াম আপনার আয়ু প্রায় ৭ বছর পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। যেমন দ্রুত হাঁটা, সাঁতার কাটা বা সাইকেল চালানো। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, অলস বা বসে যাপন মানুষের জীবন থেকে ২ থেকে ৪ বছর কেড়ে নেয়। এমনকি অতিরিক্ত টিভি দেখার অভ্যাসও পরোক্ষভাবে ওজন বাড়ায় এবং বিষণ্নতা তৈরি করে। ২৫ বছর বয়সের পর প্রতিদিন গড়ে ১ ঘণ্টা অতিরিক্ত টিভি দেখা আয়ু প্রায় ২২ মিনিট কমিয়ে দেয়।

রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ

লাইফ’স এসেনশিয়ালের একটি বড় অংশজুড়ে আছে কার্ডিওভাসকুলার বা হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্য। নিয়মিত রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা এবং তা নিয়ন্ত্রণে রাখা আবশ্যক। কারণ, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ শরীরের ভেতরের দিক থেকে নিঃশেষ করে এবং জীবনকাল ৪-৫ বছর পর্যন্ত কমিয়ে দেয়।

ধূমপান বর্জন ও ক্ষতিকর আসক্তি থেকে দূরে থাকা

নিকোটিন বা ধূমপান ফুসফুস ও হার্টের বড় শত্রু। যাঁরা কখনো ধূমপান করেননি কিংবা অন্তত ৫ বছর আগে ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন, তাঁদের কোষের বয়স কালানুক্রমিক বয়সের চেয়ে প্রায় ৬ বছর কম থাকে। ধূমপানের পাশাপাশি অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনকাল থেকে ৫-৭ বছর কমিয়ে দেয়।

প্রিয়জনদের সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিলে মানসিক চাপ কমে, যা পরোক্ষভাবে হার্ট ভালো রাখে। ছবি: পেক্সেলস

উদ্ভিজ্জ খাবারের আধিক্য

খাদ্যতালিকায় মাংস পুরোপুরি বাদ না দিলেও শাকসবজি, ফলমূল, গোটা শস্য ও ডালজাতীয় খাবারের পরিমাণ বাড়ানো উচিত। এই ধরনের খাবার শরীরে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জোগায়, যা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কোলন ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি থেকে শরীরকে সুরক্ষা দেয়।

মানসিক চাপ কমানো এবং ইতিবাচক মনোভাব

অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসল হরমোনের নিঃসরণ বাড়ায়। এই হরমোন কোষের ডিএনএ নষ্ট করে অকাল বার্ধক্য এবং ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করে। মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন, ইয়োগা বা গভীর শ্বাসের ব্যায়ামের মাধ্যমে স্ট্রেস বা চাপ কমালে শরীর ভেতর থেকে পুনরুজ্জীবিত হয়। গবেষকদের মতে, জীবন ও সুস্থতা নিয়ে ইতিবাচক মানসিকতা মানুষের দীর্ঘায়ু হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৭৮ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়।

সামাজিক যোগাযোগ ও সম্পর্কের উষ্ণতা

গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে অর্থপূর্ণ সময় কাটানো এবং শক্তিশালী সামাজিক বন্ধন অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেয়। প্রিয়জনদের সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিলে মানসিক চাপ কমে, যা পরোক্ষভাবে হার্ট ভালো রাখে।

প্রতিদিনের কিছু ছোট অভ্যাস

১৫ মিনিটের রোদ: সুস্থ হাড় ও পেশির কার্যকারিতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট গায়ে রোদ লাগানো উচিত। এটি শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন-ডি সরবরাহ করে।

দাঁতের ফ্লস করা: মাড়ির রোগ বা পেরিওডনটাইটিস সারা বিশ্বের একটি বড় সমস্যা। মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া রক্তের মাধ্যমে হার্টে পৌঁছে হার্টের ভাল্ব নষ্ট করতে পারে। তাই প্রতিদিন নিয়মিত দাঁত ফ্লস করার অভ্যাস হার্টের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: বছরে অন্তত একবার পুরো শরীরের চেকআপ করা, বয়স অনুযায়ী প্রেশার-ডায়াবেটিস পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন বা টিকা নেওয়া হলে যেকোনো রোগ প্রাথমিক অবস্থাতেই ধরা পড়ে এবং বড় বিপদ থেকে বাঁচা যায়।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ওয়েব মেড, ডেইলি মেইল

ফুটবল নয়, তবে আর্জেন্টিনার জাতীয় খেলা কী

টাকা ছাড়াই কেনাকাটার সুখ! দক্ষিণ কোরিয়ায় জনপ্রিয় হচ্ছে ‘ডোপামিন সাইট’

ঘুম যেভাবে সুন্দর রাখে ত্বক, জেনে নিন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে

যে দ্বীপে প্রতি দুজনের বিপরীতে আছে একটি ছাগল

প্রসাধনী থেকে হতে পারে কৃমির সংক্রমণ, সাবধান হতে যা করা জরুরি

এই গরমে বডি মিস্ট যেভাবে ব্যবহার করবেন

ব্রাজিলের নারীদের সুন্দর ত্বকের রহস্য

মানসিক চাপে অতিরিক্ত ঘাম হচ্ছে? বিব্রতকর পরিস্থিতি সামাল দিতে যা করবেন

যেসব মাঠ করপোরেট লোগোমুক্ত করেছে ফিফা

চুল কেন লম্বা হতে চায় না, কারণ জেনে প্রতিকার করুন