প্রচণ্ড গরমের পর বর্ষার আগমন প্রকৃতিতে স্বস্তি ও শীতল পরিবেশ ফিরিয়ে আনে। তারপরেও বর্ষার আগমন অনেকের কাছে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বর্ষায় অনেকের অতিরিক্ত চুল পড়া শুরু হয়। এই মৌসুমে চিরুনি চালালেই দেখা যায় গোছা গোছা চুল উঠে আসছে। আবার গোসলের সময় অতিরিক্ত চুল পড়া এই মৌসুমের একটি সাধারণ সমস্যা। অনেকে এ সময় দামি শ্যাম্পুর ব্যবহার শুরু করে দেন কিংবা নিয়মিত হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করেন। কসমেটোলজিস্ট এবং শোভন মেকওভারের স্বত্বাধিকারী শোভন সাহা জানান, বর্ষায় চুল পড়ার পেছনে সুনির্দিষ্ট পরিবেশগত কিছু কারণ রয়েছে, যা সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, ‘বর্ষার সময় চুল পড়ার প্রধান কারণ হলো বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা।’
দামি কেমিক্যালযুক্ত পণ্যের পেছনে না ছুটে শোভন সাহা মাথার ত্বকের পরিচ্ছন্নতায় সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। সেগুলো হলো—
বর্ষায় সুস্থ চুলের মূল চাবিকাঠি হলো পরিষ্কার মাথার ত্বক। এতে যেন ঘাম, ব্রণ বা ফাঙ্গাস জমতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাইরে থেকে বৃষ্টিতে ভিজে আসার পর দেরি না করে দ্রুত মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলা উচিত, যাতে বৃষ্টির পানি ও ঘাম ঘণ্টার পর ঘণ্টা চুলে বসে না থাকে।
বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় চুলে অতিরিক্ত স্টাইলিং প্রোডাক্ট, কন্ডিশনার, জেল বা হেয়ার স্প্রে ব্যবহার না করা ভালো। এসব পণ্যে ব্যবহৃত রাসায়নিক ঘামের সঙ্গে মিশে মাথার ত্বকে ময়লা তৈরি করে, যা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগাতে হালকা তেল ম্যাসাজ করতে পারেন। এ সময় চুলের যত্নের রুটিন যথাসম্ভব সাধারণ রাখুন।
চুলের প্রধান উপাদান হলো প্রোটিন। তাই বাহ্যিক যত্নের পাশাপাশি ডায়েটে পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিংক এবং ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। সঠিক পুষ্টি চুলের গোড়া ভেতর থেকে মজবুত করে।
বর্ষাকালে চুল শুকাতে সময় বেশি নেয়। তবে ভেজা চুল বেঁধে রাখলে ফাঙ্গাসের সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায়। তাই গোসলের পর ফ্যানের বাতাসে কিংবা নরম তোয়ালে দিয়ে চুল ভালোভাবে শুকিয়ে নিন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋতু পরিবর্তন হওয়ার কারণে এই সময়ে চুল পড়া মূলত একটি সাময়িক প্রতিক্রিয়া। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং সঠিক নিয়মে যত্ন নিলে এই সমস্যা পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
বর্ষাকাল উপভোগ করার পাশাপাশি চুলের বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি। শোভন সাহা জানান, যদি চুল পড়ার হার বেশি হয়, চুল পাতলা হয়ে যায় কিংবা মাথায় টাক পড়তে দেখা যায়, তাহলে এটিকে শুধু মৌসুমি সমস্যা না ভেবে এটি প্রতিরোধ করতে একজন স্ক্যাল্পের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা ট্রাইকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।