হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

রোজ স্কিন স্ন্যাকস খেলেই ফিরবে ত্বকের সৌন্দর্য

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 

অস্বাস্থ্যকর ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত মিষ্টি নাশতার বদলে পুষ্টিগুণে ভরপুর কিছু বিশেষ খাবারকে স্ন্যাকস হিসেবে বেছে নেওয়াই হলো স্কিন স্ন্যাকস। প্রতীকী ছবি এআই দিয়ে তৈরি

কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল বলিউড তারকা আলিয়া ভাটের স্কিন স্ন্যাকস তৈরির উপায়। একটি বাটিতে ঘি, কোরানো নারকেল, চিনাবাদাম ও গুড় মিশিয়ে তিনি একটি স্ন্যাকস তৈরি করেন, যা খেতে দারুণ আবার ত্বকের জন্যও ভালো। এই স্কিন ফুড সম্পর্কে আলিয়া আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছেন, ‘এটা সত্য়িই কাজ করে!’ আজকাল বাজারে যতই আধুনিক প্রসাধনী পাওয়া যাক না কেন, ত্বকের জেল্লা যে আসে ভেতর থেকে, এ কথা মিথ্য়ে প্রমাণ করার সাধ্য কারও নেই।

বাহ্যিক ব্যবহারের দামি প্রসাধনী বা স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট সাময়িকভাবে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে পারে। কিন্তু ত্বকের দীর্ঘস্থায়ী সৌন্দর্য ও সতেজতা আসে ভেতর থেকে। আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাই, তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকে। আর এখানেই দারুণ এক সমাধান হিসেবে কাজ করে স্কিন স্ন্যাকস। অস্বাস্থ্যকর ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত মিষ্টি নাশতার বদলে পুষ্টিগুণে ভরপুর কিছু বিশেষ খাবারকে স্ন্যাকস হিসেবে বেছে নেওয়াই হলো স্কিন স্ন্যাকস। প্রতিদিন নিয়ম করে এই খাবারগুলো খেলে ত্বক হয়ে ওঠে প্রাকৃতিকভাবে লাবণ্যময়। কী এই স্কিন স্ন্যাকস এবং এগুলো কেন ত্বকের জন্য উপকারী? জানতে হলে ঝটপট পড়ে ফেলুন এই লেখা।

স্কিন স্ন্যাকস আসলে কী

যেসব হালকা খাবার ত্বকের কোষ মেরামত করতে, আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে, সেগুলোকে স্কিন স্ন্যাকস বলা যায়। এগুেলাতে থাকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন ও মিনারেল। প্রতীকী ছবি এআই দিয়ে তৈরি

সহজ কথায়, যেসব হালকা খাবার ত্বকের কোষ মেরামত করতে, আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে, সেগুলোকে স্কিন স্ন্যাকস বলা যায়। এগুেলাতে থাকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন ও মিনারেল।

ত্বকের সৌন্দর্য ফেরাতে কার্যকর কয়েকটি স্কিন স্ন্যাকস

বাদাম ও বীজ

আমন্ড বা কাঠবাদাম, আখরোট, চিয়া সিডস এবং কুমড়ার বীজ দুর্দান্ত স্কিন স্ন্যাকস। আমন্ডে থাকা ভিটামিন-ই সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি ও দূষণ থেকে ত্বক রক্ষা করে। অন্যদিকে আখরোট ও চিয়া সিডসে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রেখে একে নরম ও কোমল রাখে।

টক দই

এক বাটি টক দইয়ের সঙ্গে পছন্দের ফল মিশিয়ে নিলে তা হয়ে উঠতে পারে একটি চমৎকার স্কিন স্ন্যাকস। টক দইয়ের প্রোবায়োটিকস অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, যা সরাসরি ত্বকের ব্রণ ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। আর বিভিন্ন ফলে থাকা উচ্চমাত্রার ভিটামিন-সি ত্বকে কোলাজেন তৈরি করে বলিরেখা দূর করতে সহায়ক।

শসা ও তরমুজ

ত্বক সতেজ রাখার প্রধান শর্ত হলো শরীরে পানির ভারসাম্য রাখা। বিকেলের নাশতায় শসা খেলে তা ত্বকের পানিশূন্যতা দূর করে। শসায় থাকা সিলিকা ত্বকের ইলাস্টিসিটি বা স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায় এবং তরমুজের লাইকোপেন ত্বক ভেতর থেকে উজ্জ্বল করে।

ডার্ক চকলেট

মিষ্টি খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা বা সুগার ক্রেভিং মেটাতে ডার্ক চকলেট অতুলনীয়। ৭০ শতাংশ বা তার বেশি কোকোসমৃদ্ধ ডার্ক চকলেটে থাকা ফ্লেভোনল ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। এটি ত্বকে পানির ভারসাম্য বজায় রাখে এবং রোদে পোড়া দাগ থেকে বাঁচায়।

স্কিন ফুড বা ত্বকের মহৌষধ নারকেল। এর প্রতিটি অংশ, অর্থাৎ নারকেলের পানি, দুধ, শাঁস ও তেল; ত্বকের যত্নে অনন্য ভূমিকা পালন করে। প্রতীকী ছবি এআই দিয়ে তৈরি

নারকেল

স্কিন ফুড বা ত্বকের মহৌষধ নারকেল। এর প্রতিটি অংশ, অর্থাৎ নারকেলের পানি, দুধ, শাঁস ও তেল; ত্বকের যত্নে অনন্য ভূমিকা পালন করে। এটি ত্বকে পুষ্টি জোগায় এবং সুরক্ষা দেয়। নারকেলে প্রচুর পরিমাণে লরিক অ্যাসিড থাকে। এটি ত্বকের প্রাকৃতিক লিপিড ব্যারিয়ার বা আর্দ্রতা ধরে রাখার স্তরটিকে শক্তিশালী করে। এটি ত্বকে পানির ভারসাম্য বজায় রেখে তা সতেজ করে। ফলে খসখসে ভাব দূর হয়ে ত্বক নরম ও কোমল হয়। এটি ত্বকের ইলাস্টিসিটি বা স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে। এতে ত্বক সহজে ঝুলে পড়ে না।

ঘি

ভারতীয় আয়ুর্বেদ শাস্ত্রমতে, স্কিন ফুড হিসেবে ঘি অনন্য। এটি শুধু আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যই ভালো রাখে না, বরং ত্বকের কোষে পুষ্টি দিয়ে উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। ঘিতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৯ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। এগুলো প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে, যা ত্বকের গভীরতম স্তরে গিয়ে শুষ্কতা দূর করে। এটি ত্বকের নিজস্ব লিপিড ব্যারিয়ার বা আর্দ্রতা ধরে রাখার স্তর মজবুত করে। ফলে শীত বা গরম যেকোনো আবহাওয়াতেই ত্বক নরম ও মসৃণ থাকে।

যে কারণে প্রতিদিন স্কিন স্ন্যাকস খাওয়া জরুরি

নিয়মিত স্কিন স্ন্যাকস খাওয়ার অভ্যাস করলে ত্বকের অকাল বার্ধক্য বা বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। এটি ত্বকের তেল গ্রন্থিগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রেখে ব্রণের সমস্যা কমিয়ে আনে। বড় বিষয়, এটি কোনো কৃত্রিম উপায় নয়; বরং প্রাকৃতিক পুষ্টির মাধ্যমে ত্বকের আসল টেক্সচার ও গ্লো ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে নিরাপদ মাধ্যম।

সূত্র: টেস্ট, সুপার ইউ স্কিন ও অন্যান্য

ছবি: এআই দিয়ে তৈরি