হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

না জেনেই কি কন্ডিশনার ব্যবহার করছেন? ভুল হলে হতে পারে চুলের ক্ষতি

ফিচার ডেস্ক  

ছবি: পেক্সেলস

চুলের যত্নে যদি আর কিছু নাও করেন, তবু শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার মাখা হয়। আর চুলের এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে শ্যাম্পুর পাশাপাশি কন্ডিশনার ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। শ্যাম্পু যেখানে চুলের ময়লা ও অতিরিক্ত তেল পরিষ্কার করে, কন্ডিশনার সেখানে চুলে আর্দ্রতা ফিরিয়ে এনে একটি সুরক্ষাকবচ তৈরি করে। তবে অনেকেই ভাবেন কন্ডিশনার মানেই শুধু শ্যাম্পু করার পর চুলে মেখে ধুয়ে ফেলা। কন্ডিশনার কেবল চুল মসৃণ ও নরমই রাখে না। এর আরও অনেক কাজ রয়েছে, যা আমরা অনেকেই জানি না। চুলের ধরন ও প্রয়োজন ভেদে কন্ডিশনার ব্যবহারের রয়েছে নানান উপায়। আরেকটা কথা, কন্ডিশনার তো আমরা কেবল ব্র‍্যান্ড দেখেই কিনি। কিন্তু বোতলের গায়ে লেখা থাকে এটি কী ধরনের কন্ডিশনার, তা কি দেখে নেই? এবার তাহলে জেনে নিন।

ছবি: পেক্সেলস

রিনজ অফ কন্ডিশনার

এটি আমাদের কন্ডিশনারের সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি। শ্যাম্পু করার পর নিয়মিত ব্যবহারের জন্য এটি আদর্শ। শ্যাম্পু করার পর চুলের অতিরিক্ত পানি হালকা চেপে ঝরিয়ে নিন। এরপর চুলের মাঝামাঝি অংশ থেকে আগা পর্যন্ত এই ধরনের কন্ডিশনার লাগান। মাথার ত্বকে বা স্ক্যাল্পে এটি লাগানো যাবে না। ১ থেকে ৩ মিনিট রেখে হালকা গরম বা সাধারণ পানি দিয়ে খুব ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।

ছবি: পেক্সেলস

লিভ ইন কন্ডিশনার

এগুলো স্প্রে বা ক্রিম ফর্মুলায় থাকে। যাদের চুল অতিরিক্ত রুক্ষ, কোঁকড়া বা সহজেই জট পাকিয়ে যায়, তাঁদের জন্য এটি দারুণ কার্যকরী। নাম শুনেই বোঝা যায়, এই কন্ডিশনার ব্যবহারের পর চুল ধুয়ে ফেলার প্রয়োজন হয় না। গোসল শেষে তোয়ালে দিয়ে চুলের অতিরিক্ত পানি মুছে নিন। চুল যখন হালকা ভেজা থাকবে, তখন অল্প পরিমাণে লিভ ইন কন্ডিশনার পুরো চুলে সমানভাবে মেখে নিন। এটি চুলকে সারাদিন নরম রাখে এবং রোদ ও দূষণ থেকে বাঁচায়।

ছবি: পেক্সেলস

ডিপ কন্ডিশনিং বা হেয়ার মাস্ক

কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট, কালারিং বা অতিরিক্ত হিট স্টাইলিংয়ের কারণে চুল যখন একদম প্রাণহীন ও ড্যামেজ হয়ে পড়ে, তখন প্রয়োজন হয় গভীর পুষ্টির। সপ্তাহে অন্তত একবার শ্যাম্পু করার পর সাধারণ কন্ডিশনারের বদলে ডিপ কন্ডিশনার বা হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করুন। এটি চুলে লাগিয়ে একটি শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন। কার্যকারিতা বাড়াতে ক্যাপের ওপর একটি গরম তোয়ালে জড়িয়ে নিতে পারেন। ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর প্রচুর পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

প্রয়োজন বুঝে ব্যবহারের উপায়েও বদল রয়েছে রিভার্স ওয়াশিং বা প্রি-কন্ডিশনিং

যাদের চুল অত্যন্ত পাতলা বা সিল্কি, তারা শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার লাগালে চুল আরও বেশি লেপ্টে বা চ্যাপ্টা হয়ে যায়। তাদের জন্য রিভার্স ওয়াশিং একটি আধুনিক ও জনপ্রিয় পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে চুল ভেজানোর পর শ্যাম্পু করার আগেই কন্ডিশনার মেখে ২ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। এরপর হালকা ধুয়ে নিয়ে পুরো চুলে শ্যাম্পু করতে হয়। এতে চুল কন্ডিশনিংয়ের সব গুণ পায়, অথচ চুলের ভলিউম বা বাউন্সি ভাব কমে না।

ছবি: পেক্সেলস

কো-ওয়াশিং

অতিরিক্ত শুষ্ক এবং কোঁকড়া চুলের টেক্সচার ধরে রাখতে এই পদ্ধতি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এতে শ্যাম্পু সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে কেবল কন্ডিশনার দিয়েই চুল ধোয়া হয়। কন্ডিশনারে থাকা মৃদু ক্লিনজিং উপাদান চুলের প্রাকৃতিক তেল না কেড়ে নিয়েই আলতোভাবে ময়লা পরিষ্কার করে। তবে সপ্তাহে বা ১৫ দিনে অন্তত একবার ক্ল্যারিফাইং শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করা উচিত, যাতে চুলে কোনো প্রোডাক্ট জমে না থাকে।

আরও কিছু জরুরি টিপস

  • কন্ডিশনার কখনোই মাথার ত্বকে বা গোড়ায় লাগাবেন না, এতে চুল চটচটে হয়ে যায় এবং চুল পড়ার সমস্যা বাড়তে পারে।
  • ছোট চুলের জন্য একটি কয়েন আকৃতির এবং লম্বা চুলের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী কন্ডিশনার নিন।
  • কন্ডিশনার লাগানোর পর একটি মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিলে প্রতিটি চুলে তা সমানভাবে পৌঁছায় এবং জটও সহজে খোলে।
  • চুলের ধরন ও দৈনন্দিন জীবনজাপনের ওপর ভিত্তি করে সঠিক পদ্ধতিটি বেছে নিন। নিয়মিত ও সঠিক নিয়মে কন্ডিশনিং আপনার চুলকে রাখবে সিল্কি, মজবুত ও আকর্ষণীয়।

সূত্র: বিউটি ইনসাইডার মালয়েশিয়া ও অন্যান্য