হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

ঘরে আম পাকানোর ৫টি প্রাকৃতিক উপায়

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের মধ্যে আম অনেকের কাছেই এক পরম স্বস্তির নাম। মিষ্টি স্বাদ, রসালো গঠন আর চমৎকার সুগন্ধের জন্য আমকে ফলের রাজা বলা হয়। তবে বাজারের অধিকাংশ আম পরিবহনের সুবিধার্থে এবং পচন রোধ করতে পাকার আগেই গাছ থেকে পেড়ে ফেলা হয়। অনেক সময় অসাধু ব্যবসায়ীরা এসব কাঁচা আম দ্রুত পাকাতে ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহার করেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এবং আমের আসল স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিগুণ বজায় রাখতে ঘরেই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে আম পাকানো সবচেয়ে নিরাপদ সমাধান। কোনো প্রকার রাসায়নিক ছাড়াই ঘরের সাধারণ কিছু জিনিস ব্যবহার করে মাত্র কয়েক দিনে সহজেই আম পাকানো সম্ভব।

কেন প্রাকৃতিক উপায়ে আম পাকানো উচিত?

কৃত্রিম উপায়ে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম দেখতে আকর্ষণীয় হলেও তা ভেতরের পুষ্টিগুণ ও আসল স্বাদ নষ্ট করে দেয়। অন্য দিকে, প্রাকৃতিক উপায়ে আম পাকলে তার ভেতরের মিষ্টি রস ধীরে ধীরে এবং সমানভাবে তৈরি হয়। এটি ফলের নিজস্ব সুবাস ও পুষ্টি ধরে রাখতে সাহায্য করে, যা পরিবারের বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।

আম পেকেছে কি না বুঝবেন যেভাবে

আম পেকেছে কি না তা বোঝার জন্য কয়েকটি সহজ লক্ষণ খেয়াল করা যেতে পারে:

সুগন্ধ: পাকা আমের বোঁটার কাছ থেকে একটি মিষ্টি ও চেনা সুগন্ধ ছড়াবে।

স্পর্শ বা চাপ: আমটি আলতো করে চাপ দিলে যদি সামান্য নরম অনুভূত হয়, তবে বুঝতে হবে এটি পেকেছে। তবে খুব জোরে চাপ দেওয়া যাবে না, এতে ফল নষ্ট হতে পারে।

রঙের পরিবর্তন: জাতভেদে আম পাকার পর এর গায়ের রঙে পরিবর্তন আসে। তবে কেবল রং দেখে নয়, গন্ধ ও স্পর্শের মাধ্যমে পাকা আম চেনা সবচেয়ে সহজ।

আম পুরোপুরি পেকে যাওয়ার পর তা তাজা রাখতে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যেতে পারে।

ঘরে আম পাকানোর ৫টি সহজ ও প্রাকৃতিক পদ্ধতি

কাঁচা বা আধপাকা আম ঘরে এনে নিচের যেকোনো একটি পদ্ধতি অনুসরণ করে সহজেই পাকিয়ে নেওয়া সম্ভব:

১. কাগজের ব্যাগ পদ্ধতি

আমগুলোকে একটি ব্রাউন পেপার ব্যাগে রেখে ব্যাগের মুখটি আলতো করে মুড়ে দিন। আম থেকে স্বাভাবিকভাবে নিঃসৃত ইথিলিন গ্যাস এই ব্যাগের ভেতরে আটকে যায়, যা আমকে প্রাকৃতিকভাবে দ্রুত পাকতে সাহায্য করে।

সময়: ২ থেকে ৪ দিন।

২. চালের ড্রাম বা পাত্রে রাখা

এটি বাঙালি গৃহস্থালির একটি অত্যন্ত পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি। কাঁচা আমগুলোকে চালের পাত্র বা ড্রামের ভেতরে চালের নিচে সম্পূর্ণ ডুবিয়ে রাখুন। চালের ভেতরের উষ্ণতা এবং আমের নিজস্ব ইথিলিন গ্যাস মিলে খুব দ্রুত আম পাকাতে সাহায্য করে।

সময়: ২ থেকে ৩ দিন।

৩. খবরের কাগজে মুড়িয়ে রাখা

প্রতিটি কাঁচা আম আলাদাভাবে খবরের কাগজে ভালো করে মুড়িয়ে কোনো অন্ধকার, উষ্ণ ও শুকনো জায়গায় রেখে দিন। এই পদ্ধতিতে আম অত্যন্ত নিখুঁত ও সমানভাবে পাকে।

সময়: ৩ থেকে ৫ দিন।

৪. পাকা ফলের সংস্পর্শে রাখা

একটি ঝুড়িতে কাঁচা আমগুলোর সঙ্গে কয়েকটি পাকা কলা বা পাকা আম রেখে দিন। পাকা কলা বা আম থেকে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক ইথিলিন গ্যাস নির্গত হয়, যা পাশের কাঁচা আমগুলোকে দ্রুত পাকিয়ে তোলে।

সময়: ২ থেকে ৪ দিন।

৫. ঘরের উষ্ণ কোণে রেখে দেওয়া

আম পাকাতে তাড়াহুড়ো না থাকলে, একটি পরিষ্কার ঝুড়িতে আমগুলো রেখে সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে না এমন একটি সাধারণ উষ্ণ স্থানে রেখে দিন। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আম প্রাকৃতিকভাবে সবচেয়ে সুন্দরভাবে পাকে।

সময়: ৪ থেকে ৭ দিন।

পরিবারের পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে বাজার থেকে কাঁচা আম কিনে এনে এই সহজ ঘরোয়া পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে পাকিয়ে নেওয়া কেবল নিরাপদই নয়, বরং আমের আসল স্বাদ পাওয়ার সর্বোত্তম উপায়।

ফিটনেস রুটিনে পরিবর্তন আনার আগে জেনে নিন

নিজের সৌন্দর্য নিয়ে চিন্তায় আছেন? দেখে নিন, এ থেকে বাঁচতে কী করবেন

কর্মক্ষেত্রে কীভাবে ভিন্নমত জানাবেন? জানুন ৬ ম্যাজিক্যাল কৌশল

দাম্পত্য সম্পর্ক এবং সন্তানের মানসিক বিকাশ

ব্যবহৃত টি ব্যাগ না ফেলে যা করবেন

রাতে ঘুমানোর আগে পানি পানে আছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

ইমোশনাল সোব্রাইটি: জেনে নিন, কীভাবে মনের শক্তি অর্জন করবেন

গোসলের পানিতে এক চিমটি লবণ দিয়ে চমক দেখুন

দীর্ঘ সময় বসে থাকার ১০টি প্রধান স্বাস্থ্যঝুঁকি, জেনে নিন প্রতিকার

কেন মশা শুধু আপনাকেই কামড়াচ্ছে, জেনে নিন পরিত্রাণের উপায়