শরতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতিতে যে বদল আসে, তা সবার মনে প্রশান্তি আনে। প্রতিটি ঋতুর আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ফলে শ্রাবণের গৃহসজ্জা বদলে ফেলার সময় এসেছে। শরতে আপনার ঘর ঝলমলে এবং আরামদায়ক করে তোলার জন্য অন্দরসজ্জায় কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। শরতের শুরুতে যে বদলগুলো আনতে পারেন, সেগুলো দেখে নিতে পারেন একঝলকে—
প্রকৃতিতে এখন কাশফুল দোলা দেওয়ার সময়। আকাশও জানান দিয়ে যাচ্ছে শরতের আগমনের কথা। বাইরের এই স্নিগ্ধতা আর চনমনে আমেজ ঘরের ভেতরেও ফুটিয়ে তুলতে চান অনেকে। যদিও সামান্য কিছু পরিবর্তনে আপনার চেনা ঘরটি হয়ে উঠতে পারে শরতের মতো শান্ত, মনোরম। শরতের আকাশ আর মেঘের রং তাহলে ঘরে নিয়ে আসুন। দেয়ালের রং বদলানো যদি সম্ভব না হয়, তাহলে পর্দা, কুশন কভার কিংবা বিছানার চাদরে বেছে নিন সাদা, অফ হোয়াইট, আকাশি বা গাঢ় নীল রং। এই ঋতুতে পূজা আসবে। তাই উৎসবের আমেজ আনতে নীল-সাদার পাশাপাশি হালকা হলুদ, বাসন্তী বা গেরুয়া রঙের ব্যবহার করা যেতে পারে।
শ্রাবণে ঘরে যে স্যাঁতসেঁতে ভাব সৃষ্টি হয়েছে, তা ভাদ্রের রোদে কেটে যেতে দিন। তাই ঘরের ভারী পর্দা বদলে ফেলুন। সুতি, লিনেন বা নেটের হালকা পর্দা ব্যবহার করুন, যা দিয়ে সহজে আলো-বাতাস চলাচল করতে পারে। বিছানার চাদর বা সোফার কভারে লিনেন কিংবা তাঁতের কাপড়ের ছোঁয়ায় ঘর হয়ে উঠবে আরও নান্দনিক।
শরতের আসল সৌন্দর্য তার ফুলে। বসার ঘরের টেবিলে মাটির পাত্রে পানি দিয়ে কিছু শিউলি ফুল ভাসিয়ে রাখতে পারেন। ঘরের কোণে সিরামিকের লম্বা ফুলদানিতে কিছু কাশফুল রাখলে শরতের আবহ পুরোপুরি ফুটে উঠবে। ঘরের কোণগুলোতে মানিপ্ল্যান্ট, ফার্ন বা পিস লিলির মতো ইনডোর প্ল্যান্ট রাখুন। এটি ঘরের আর্দ্রতা ঠিক রাখবে, এর পাশাপাশি চোখের শান্তি দেবে।
প্লাস্টিক বা মেটালের শোপিস সরিয়ে ঘরের সাজে বাঁশ, বেত, চট কিংবা মাটির তৈরি জিনিস ব্যবহার করুন। মেঝেতে বিছিয়ে দিতে পারেন পাটের তৈরি কার্পেট অথবা শতরঞ্জি। দেয়ালে টেরাকোটার ফ্রেম বা টেবিলে মাটির তৈরি প্রদীপ ও পাত্র রাখলে ঘরে ঐতিহ্যবাহী এক উৎসবের ছোঁয়া আসবে।
ঘরের পরিবেশ শান্ত ও আরামদায়ক করতে কড়া সাদা আলো বদলে নরম হলুদ বা ওয়ার্ম লাইট ব্যবহার করুন। সন্ধ্যায় ঘরের কোণে ল্যাম্পশেড বা মোমবাতি জ্বালাতে পারেন। বর্ষার ভ্যাপসা গন্ধ দূর করতে এবং ঘর সতেজ রাখতে জুঁই, শিউলি বা চন্দনের সুগন্ধি ডিফিউজার কিংবা সুগন্ধি মোম ব্যবহার করুন।
সূত্র: প্রিটি লিটল হোস অবলম্বনে