হোম > জীবনধারা > সাজসজ্জা

রুটি দিয়ে ত্বকের যত্ন! জেনে নিন ত্বকযত্নে বাসি রুটির জাদুকরি ভূমিকার কথা

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 

বাসি রুটি হতে পারে আপনার ঝকঝকে ও প্রাণবন্ত ত্বকের রহস্য। ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি

ত্বকের যত্নে মানুষ কী কী করতে পারে? না, হিসাব করতে বসে সময় নষ্ট করবেন না; বরং ত্বকের যত্নের একটি নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নিন। কাজে দিতে পারে ত্বকযত্নে।

আটার তৈরি রুটি! তা-ও আবার বাসি রুটি। অবাক হওয়ার কিছু নেই। সকালের বেঁচে যাওয়া বাসি রুটি অনেক সময় আমরা খাওয়ার অনুপযোগী ভেবে ফেলে দিই কিংবা গৃহপালিত পশুকে খাইয়ে দিই। কিন্তু জেনে নিন, এই বাসি রুটিই হতে পারে আপনার ঝকঝকে ও প্রাণবন্ত ত্বকের রহস্য? রাসায়নিকযুক্ত দামি কসমেটিকসের পেছনে হাজার টাকা খরচ না করে বাসি রুটি দিয়ে ঘরে বসেই সুন্দরভাবে ত্বকের যত্ন নিতে পারেন।

বাসি রুটি কেন ত্বকের জন্য ভালো

বাসি রুটিতে মৃদু ফারমেন্টেশন বা গাঁজন হয় বলে এটি ত্বকের মৃতকোষ দূর করতে এবং ত্বক প্রাকৃতিকভাবে এক্সফোলিয়েট করতে সাহায্য করে। ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি

রুটি বাসি হলে তাতে কিছু প্রাকৃতিক পরিবর্তন আসে, যা ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী বলে মনে করা হয়। এর প্রধান কারণগুলো জেনে রাখুন।

ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি

রুটি কয়েক ঘণ্টা বা সারা রাত রেখে দিলে তাতে মৃদু ফারমেন্টেশন বা গাঁজনপ্রক্রিয়া শুরু হয়। ফলে এতে ল্যাকটিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ে, যা ত্বকের মৃতকোষ দূর করতে এবং ত্বক প্রাকৃতিকভাবে এক্সফোলিয়েট করতে সাহায্য করে।

ভিটামিন ও খনিজে সমৃদ্ধ হয়

গমের রুটিতে রয়েছে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, জিংক, সিলিকা এবং ভিটামিন ই। বাসি রুটিতে এই পুষ্টি উপাদানগুলো ত্বকে সহজে শোষিত হওয়ার মতো অবস্থায় চলে আসে। এগুলো ত্বকের কোষ গঠন ও কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে।

প্রাকৃতিক স্ক্রাবার

বাসি রুটি কিছুটা শক্ত ও দানাদার হয়ে যায়। ফলে এটি যখন গুঁড়া করে ত্বকে লাগানো হয়, তখন এটি কোনো ক্ষতি ছাড়াই ত্বকের গভীর থেকে ময়লা ও ব্ল্যাকহেডস পরিষ্কার করে।

বাসি রুটি দিয়ে রূপচর্চার ৪টি কার্যকর উপায়

ত্বকের ধরন ও সমস্যা অনুযায়ী বাসি রুটি দিয়ে বেশ কিছু ফেসপ্যাক তৈরি করে নেওয়া যায়।

উজ্জ্বল ও নরম ত্বকের জন্য রুটি ও দুধের প্যাক

যাঁদের ত্বক শুষ্ক ও নিস্তেজ হয়ে গেছে, তাঁদের জন্য এই প্যাক দারুণ কাজ করে। একটি বাসি রুটি ছোট ছোট টুকরা করে আধা কাপ কাঁচা দুধে ২০ থেকে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। রুটি নরম হয়ে গেলে চামচ বা ব্লেন্ডারের সাহায্যে একদম মসৃণ পেস্ট বানিয়ে নিন। এই প্যাক পুরো মুখে ও গলায় লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রাখুন। শুকিয়ে এলে হালকা গরম পানি দিয়ে আলতো হাতে ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহারে ত্বক নরম, তুলতুলে ও উজ্জ্বল হবে।

তৈলাক্ত ও ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য রুটি, মধু ও লেবুর রসের প্যাক

লেবুর রস ও মধু ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্রণের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। বাসি রুটি প্রথমে ব্লেন্ডারে বা শিলপাটায় গুঁড়া করে নিন। এবার দুই চামচ রুটির গুঁড়ার সঙ্গে এক চামচ মধু এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে ঘন প্যাক তৈরি করুন। প্রয়োজনে সামান্য গোলাপজল দিতে পারেন। মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রাখুন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের তেলতেলে ভাব দূর করে নিমেষে তরতাজা ভাব ফিরিয়ে আনবে।

ত্বকের দাগছোপ দূর করতে রুটি, টক দই ও হলুদের প্যাক

রোদে পোড়া ও ব্রণের কালো দাগ দূর করতে এই প্যাক অত্যন্ত কার্যকরী। বাসি রুটির পেস্ট বা গুঁড়ার সঙ্গে দুই চামচ টক দই এবং এক চিমটি কাঁচা হলুদের গুঁড়া বা বাটা হলুদ ভালো করে মিশিয়ে নিন। দাগ থাকা জায়গায় বা পুরো মুখে প্যাকটি লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ধুয়ে ফেলার সময় হালকা স্ক্রাব করে নিন। সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার ব্যবহারে ত্বকের রং উন্নত হবে।

ব্ল্যাকহেডস দূর করতে রুটি ও চালের গুঁড়ার স্ক্রাব

নাক ও চিবুকের ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস দূর করতে এটি স্ক্রাব হিসেবে কাজ করে। ১ চা-চামচ বাসি রুটির শুকনা গুঁড়া, ১ চা-চামচ চালের গুঁড়া এবং সামান্য পানি বা গোলাপজল মিশিয়ে একটি স্ক্রাব তৈরি করুন। মুখ হালকা ভিজিয়ে নিয়ে এই স্ক্রাব নাক ও ব্ল্যাকহেডস আক্রান্ত জায়গায় ২-৩ মিনিট আলতো করে বৃত্তাকারভাবে ম্যাসাজ করুন। তারপর ঠান্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে ময়শ্চারাইজার লাগান।

জেনে রাখা ভালো

  • রূপচর্চায় ব্যবহারের আগে নিশ্চিত হয়ে নিন, রুটিতে যেন ফাঙ্গাস না থাকে। সাধারণত ১ থেকে ২ দিনের বাসি রুটি রূপচর্চার জন্য নিরাপদ।
  • রুটিতে আগে থেকে লবণ, তেল বা ঘি মাখানো থাকলে তা ত্বকে ব্যবহার না করাই ভালো। শুধু শুকনা সেঁকা বাসি রুটিই রূপচর্চার জন্য বেছে নিন।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও অন্যান্য

ছবি: এআই ও পেক্সেলস