দিনের ক্লান্তি ভুলে পরম শান্তিতে ঘুমানোর জায়গা হলো শোয়ার ঘর। শুধু আরামদায়ক বিছানা থাকলেই যে সব সময় গভীর ঘুম হবে, এমনটি নয়। ঘরের সাজসজ্জা, আলো, বাতাস ও ছোটখাটো অনেক উপাদান ঘুমে গভীর প্রভাব ফেলে। শোয়ার ঘর কাজের দুশ্চিন্তা ও প্রযুক্তির ব্যস্ততা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রেখে শুধু বিশ্রামের আশ্রয় হিসেবে গড়ে তোলা উচিত। ঘরের পরিবেশ ঘুমের অনুকূল করে সাজাতে পারলে শরীর ও মন দ্রুত সতেজ হয়ে উঠবে। সাজে সামান্য কিছু পরিবর্তন এনে শোয়ার ঘর সহজে প্রশান্তিদায়ক করে তোলা সম্ভব।
শোয়ার ঘরের রং মস্তিষ্কের বিশ্রামে বড় ভূমিকা রাখে। দেয়ালে অতিরিক্ত উজ্জ্বল রঙের বদলে প্যাস্টেল শেড, হালকা নীল, অলিভ গ্রিন, অফ হোয়াইট কিংবা নরম ধূসর রঙের ছোঁয়া রাখুন। এসব শান্ত রং চোখের ক্লান্তি দূর করে এবং স্নায়ু শিথিল রাখতে সাহায্য করে।
প্রখর আলো ঘুমের প্রাকৃতিক হরমোন মেলাটোনিন উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করে। তাই রাতে ঘরের মেইন লাইট বন্ধ করে সফট ওয়ার্ম লাইট কিংবা নাইট ল্যাম্প ব্যবহার করুন। বাইরের কৃত্রিম আলো বা রাস্তার আলো আটকাতে ভারী ডাবল লেয়ার পর্দা বা ব্ল্যাকআউট কার্টেন ঝুলিয়ে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
বিছানার তোশক অতিরিক্ত শক্ত কিংবা বেশি নরম না হয়ে মেরুদণ্ডের জন্য সহনশীল হওয়া চাই। চাদরের ক্ষেত্রে সুতি, লিনেন বা বাঁশের তন্তুতে তৈরি প্রাকৃতিক কাপড় বেছে নিন, যা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রেখে বাতাস চলাচলে সহায়তা করে। এ ছাড়া বালিশের উচ্চতা সঠিক রাখা এবং কভার নিয়মিত ধোয়া জরুরি।
অগোছালো পরিবেশ মনের অজান্তে স্ট্রেস হরমোন বাড়িয়ে দেয়। তাই অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে ঘর পরিষ্কার রাখুন। ঘুমোতে যাওয়ার আধা ঘণ্টা আগে ঘরের ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম দূরে সরিয়ে ল্যাভেন্ডার, ক্যামোমাইল বা চন্দন কাঠের এসেনশিয়াল অয়েলের সুবাস ছড়িয়ে দিতে পারেন, যা মুহূর্তে মন শান্ত করে তোলে।
ঘরের পরিবেশ যেন অতিরিক্ত উষ্ণ বা প্রচণ্ড শীতল না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। ঘুমানোর সময় ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক রাখলে এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকলে ঘুম ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা অনেক কমে যায়।
শোয়ার ঘরে অ্যালোভেরা, স্নেক প্ল্যান্ট বা পিস লিলি রাখতে পারেন। এগুলো রাতে অক্সিজেন ছড়ায় এবং বাতাস পরিষ্কার রাখে। ইনডোর প্ল্যান্টের সবুজ রূপ ক্লান্তি দূর করে মন সতেজ ও শান্ত করে তোলে।
সূত্র: স্লিপ ফাউন্ডেশন