হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

রোজা রেখে কর্মক্ষেত্রে চাপমুক্ত থাকবেন যেভাবে

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 

সঠিক পরিকল্পনা, পুষ্টিকর খাবার এবং সহকর্মীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ আপনার কর্মজীবনকে রমজানেও আনন্দময় ও চাপমুক্ত রাখতে পারে। প্রতীকী ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি।

পবিত্র রমজান মাস ইবাদত, সংযম আর আত্মশুদ্ধির সময়। তবে কর্মজীবী পেশাজীবীদের জন্য এই মাসে আধ্যাত্মিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অফিসের কাজে পূর্ণ মনোযোগ বজায় রাখা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। সব দিন সমান যাবে না। কিছুদিন অনায়াসে কাটবে, আবার কিছুদিন ধৈর্যের পরীক্ষা নেবে। তবে সঠিক পরিকল্পনা, পুষ্টিকর খাবার এবং সহকর্মীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণই পারে আপনার কর্মজীবনকে রমজানেও আনন্দময় ও চাপমুক্ত রাখতে। খাদ্যাভ্যাস এবং ঘুমের রুটিন বদলে যাওয়ায় অনেক সময় ক্লান্তি ও অবসাদ ভর করে। কিন্তু মনে রাখবেন, রোজা রেখে কাজ করা মানেই কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেওয়া নয়। সঠিক পরিকল্পনা ও মানসিক প্রস্তুতির মাধ্যমে সময়টিকে আরও ফলপ্রসূ করা সম্ভব।

কাজের ধরন ও সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা

  • রোজায় শরীরের শক্তির স্তর সারা দিন এক থাকে না। তাই কাজগুলোকে শক্তির মাত্রার ওপর ভিত্তি করে সাজিয়ে নিন।
  • সেহরির পরের সময়টাতে মস্তিষ্ক সবচেয়ে সজাগ ও তীক্ষ্ণ থাকে। গভীর মনোযোগ প্রয়োজন এমন কাজ বা কঠিন সমস্যা সমাধান এই সময়ে সেরে ফেলুন।
  • দিনের মাঝামাঝি সময়ে শক্তির মাত্রা কমতে শুরু করলে রুটিনমাফিক বা প্রশাসনিক কাজগুলো করুন, যাতে মানসিক চাপ কম লাগে।
  • এই সময়ে শরীর ও মন সবচেয়ে বেশি ক্লান্ত থাকে। তাই এই সময়ে বড় কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে হালকা স্ট্রেচিং বা স্ক্রিন থেকে বিরতি নিন।

সেহরি ও ইফতারে সঠিক পুষ্টি

কর্মক্ষেত্রে শক্তি ধরে রাখতে সেহরি ও ইফতারের গুরুত্ব অপরিসীম। সেহরিতে ওটস, লাল চাল বা আটার মতো জটিল কার্বোহাইড্রেট এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খান। এগুলো শরীরে দীর্ঘক্ষণ শক্তি জোগাবে। পাশাপাশি ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করুন। শসা, তরমুজ ও দইয়ের মতো পানিপূর্ণ খাবার শরীর সতেজ রাখতে সাহায্য করবে। ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার খেলে শরীরে আলস্য আসতে পারে। খেজুর ও পানি দিয়ে রোজা ভেঙে সুষম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বের ৬০ শতাংশ মানুষ কর্মক্ষেত্রে জীবনের বড় একটি সময় কাটায়। তাই কাজের পরিবেশে নিজের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা জরুরি। অফিসের কাজের ফাঁকে পাওয়ার ন্যাপ বা অল্প সময়ের জন্য বিশ্রাম নিন। দিনে অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিতের চেষ্টা করুন। নিজের সক্ষমতার অতিরিক্ত কাজ চাপিয়ে নেবেন না। প্রয়োজনে বসের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত ডেডলাইন নির্ধারণ করুন। কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা টানুন। রমজানে পরিবারের সঙ্গে ইফতারের গুরুত্ব অনেক; তাই অফিস সময় কিছুটা এগিয়ে এনে কাজ শেষ করে হাতে সময় নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করুন।

স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ ও সহকর্মীদের সঙ্গে আচরণ

একটি ইতিবাচক কর্মপরিবেশ আপনার মানসিক চাপ অর্ধেক কমিয়ে দিতে পারে। এ জন্য যে কাজগুলো করতে হবে—

পেশাদারত্ব ও নির্ভরযোগ্যতা: সহকর্মীদের সঙ্গে গসিপ বা পরনিন্দা এড়িয়ে চলুন। অন্যের সময়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং কথা বলার সময় বাধা দেবেন না। সহকর্মীদের ভালো কাজ বা কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করুন।

অনুমান এড়িয়ে চলা: কোনো বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকলে অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কাজ না করে সরাসরি কথা বলে নিন।

মাইক্রোঅ্যাগ্রেশন এড়িয়ে চলুন: অনেক সময় আমরা অবচেতনভাবে কারও প্রতি নেতিবাচক বা বৈষম্যমূলক আচরণ করে ফেলি। এটি কারও মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে। বিষয়টি সরাসরি বর্ণবাদ বা বৈষম্যের মতো স্পষ্ট আক্রমণ নয়; বরং ছোট ছোট দৈনন্দিন কাজ বা মন্তব্যের মাধ্যমে ঘটে। অফিসে একজন সহানুভূতিশীল শ্রোতা হোন এবং কারও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান জানাতে শিখুন। যেকোনো দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে কিছুটা সময় নিন।

রোজার সময় মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে কিছু কৌশল প্রয়োগ করতে পারেন।

গভীর শ্বাস ও সচেতনতা: উচ্চ চাপের পরিস্থিতিতে বা ক্লান্ত লাগলে কয়েকবার বুক ভরে শ্বাস নিন।

ধৈর্য ও সহমর্মিতা: আপনার অমুসলিম সহকর্মীরা হয়তো আপনার রোজার কষ্ট সম্পর্কে সম্যক অবগত না-ও হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরুন এবং নিজের পেশাদারত্ব বজায় রাখুন।

সূত্র: হেলথ লাইন

স্বাস্থ্যকর ইফতারিতে থাকুক রঙিন ফলের সালাদ

এই সময় পাতে কেন শসা রাখবেন, জেনে নিন কারণ

জেনে নিন, রূপচর্চার আরব্য রহস্য

ইফতারের পর গাজরের জুস কেন পান করবেন

ঈদের জন্য সহজ কিছু মেকআপ লুক

ত্বক সতেজ রাখতে রমজানজুড়ে যা খাবেন

আজকের রাশিফল: বানান ভুলে ইমেজ সংকটের শঙ্কা, যত্রতত্র জ্ঞান ঝাড়বেন না

ইফতারিতে নতুনত্ব আনতে তৈরি করুন অ্যাভোকাডো দিয়ে স্যান্ডউইচ

রমজান থেকেই গড়ে তুলুন দারুণ কিছু অভ্যাস

ইফতারের পর কোন চা পান করবেন