একসময় রান্নাঘর শুধু রান্না করার সাধারণ জায়গা ছিল। কিন্তু বর্তমানে এটি বাড়ির সদস্যদের রুচি ও আভিজাত্য প্রকাশের এক অনন্য মাধ্যম হয়ে উঠেছে। রান্নাঘরের সজ্জায় বেশি দৃশ্যমান অংশ হলো ক্যাবিনেট। তাই এর সঠিক রং নির্বাচন জরুরি। সময়ের সঙ্গে রুচিতেও বদল আসে। এ বছর কিচেন ট্রেন্ডে ব্যক্তিগত পছন্দ, টেক্সচার এবং চোখের আরাম গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশ্ববিখ্যাত অন্দরসজ্জা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৬ সালে কিচেন ক্যাবিনেটের চিরচেনা কিছু রং সেকেলে বা ‘আউট অব ট্রেন্ড’ হয়ে যাবে। তাঁদের মতে, এ বছর তিনটি নিউট্রাল রঙের আধিপত্য শেষ হতে চলেছে। যাঁরা রান্নাঘর আধুনিক রাখতে চাচ্ছেন, তাঁদের জন্য এই তিন রং এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আমেরিকান লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন ‘গুড হাউস কিপিং’ অবলম্বনে লিখেছেন ফারিয়া রহমান খান।
স্টার্ক হোয়াইট
কয়েক বছর ধরে কিচেন ক্যাবিনেটের ক্ষেত্রে স্টার্ক হোয়াইট বা উজ্জ্বল সাদা রং জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু এ বছর রংটি আবেদন হারাতে শুরু করেছে। এই রং ঘরকে অনেকটা ক্লিনিকের মতো কৃত্রিম, শীতল ও প্রাণহীন করে তোলে। বর্তমানে মানুষ যান্ত্রিকতার ভিড়ে ঘরে একধরনের প্রশান্তি ও কোজি অথবা আরামদায়ক ভাব চায়। ফলে উজ্জ্বল সাদার বদলে ক্রিম হোয়াইট কিংবা ওয়ার্ম বেজের রংগুলো জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে আসছে। এগুলো রান্নাঘরে একটা উষ্ণ ও আরামদায়ক ভাব দেয়, যা দীর্ঘক্ষণ কাজ করার জন্য সহায়ক।
সেইফ গ্রে
প্রায় এক দশক ধরে ধূসর বা গ্রে রং ছিল রান্নাঘরের ক্যাবিনেটের নিরাপদ কিংবা সেফ অপশন। তবে অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ধূসর রং এখন একঘেয়ে হয়ে গেছে। রান্নাঘর বাড়ির প্রাণকেন্দ্র, যেখানে দিনের অনেকটা সময় কাটে, সেসব জায়গায় ধূসর রং বেশ নিস্তেজ দেখায়। সে কারণে একঘেয়ে এই রং সরিয়ে মানুষ এখন নীল, সবুজ কিংবা মাটির রঙের কাছাকাছি কোনো গাঢ় ও সজীব রং ক্যাবিনেটের জন্য বেছে নিচ্ছেন।
অল ব্ল্যাক
সলিড কালো রং একসময় আভিজাত্য এবং আধুনিকতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো। তবে ২০২৬ সালের কিচেন ট্রেন্ডে এই অল ব্ল্যাক বা কুচকুচে কালো রঙের ক্যাবিনেট নিয়ে নতুন করে ভাবছেন ডিজাইনাররা। তাঁদের মতে, সব ক্যাবিনেট কুচকুচে কালো হলে ঘর দেখতে ছোট ও অন্ধকার দেখায়। ফলে একধরনের গুমোট ও নিস্তেজ পরিবেশ তৈরি হতে পারে। সলিড কালো ক্যাবিনেটে আসলে সেই উষ্ণতা থাকে না, যেটা মানুষ পেতে চায়। সে ক্ষেত্রে কালোর পরিবর্তে ডার্ক চারকোল কিংবা গাঢ় কাঠের টেক্সচার ব্যবহার করলে রান্নাঘরে আধুনিকতার পাশাপাশি আভিজাত্যও ফুটে ওঠে।