শীতকালে ঘরের বিভিন্ন কাজের মধ্য়ে তিন বেলা থালাবাসন মাজা একটু বেশিই কষ্টকর। তার ওপর বাজার চলতি কড়া রাসায়নিক উপাদানযুক্ত ডিশওয়াশিং লিকুইড দিয়ে বাসন মাজতে গিয়ে হাত আরও শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যায়। অনেকের তো হাতের চামড়া উঠে যাওয়া বা অ্যালার্জির মতো সমস্যাও দেখা দিতে শুরু করে। এসব সমস্যা থেকে মুক্ত থাকতে ডিশওয়াশিং লিকুইডের কিছু প্রাকৃতিক বিকল্প রয়েছে। সেগুলো হাত শুকিয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে অনেকাংশে সহায়ক।
যে কারণে ডিশওয়াশিং লিকুইড এড়িয়ে চলবেন
সাধারণত এগুলোতে থাকে থ্যালেটস, ট্রাইক্লোসান এবং ফরমালডিহাইডের মতো উপাদান। এসব উপাদান শুধু যে আমাদের ত্বকের ক্ষতি করে. তা নয়; বরং নিশ্বাসের সঙ্গে শরীরের ভেতরে ঢুকে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে। আবার সোডিয়াম লরেল সালফেটের মতো উপাদানগুলো পানি দূষণ করে জলজ প্রাণীদের ক্ষতি করে। তাই নিজের ত্বক ও পরিবেশ বাঁচাতে এগুলোর প্রাকৃতিক বিকল্প বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
বাসন মাজার কিছু প্রাকৃতিক ও নিরাপদ উপায়
সবকিছুর বিকল্প থাকে। তাই বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। হাতের কোমলতা বজায় রাখতে এবং বাসন ভালোভাবে পরিষ্কার করতে ডিশওয়াশিং লিকুইডেরও বিকল্প আছে। সুরক্ষিত থাকতে প্রাকৃতিক বিকল্পগুলো ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
ক্যাস্টাইল সোপ
উদ্ভিজ্জ তেল থেকে তৈরি এই সাবান অত্যন্ত মৃদু। ফলে হাতের ক্ষতি না করেও চর্বিযুক্ত বাসন পরিষ্কার করতে সক্ষম।
বেকিং সোডা
এটি খুব ভালোভাবে বাসন পরিষ্কার করতে পারে। পানির সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে বাসন মাজলে নিমেষে বাসনের তেল চিটচিটে ভাব দূর হয়।
সাদা ভিনেগার
ভিনেগারে থাকা প্রাকৃতিক অ্যাসিড সহজে জীবাণু ধ্বংস করে এবং বাসনের পোড়া দাগ খুব সহজে তুলে ফেলে।
লেবুর রস
লেবুর অ্যাসিডিক গুণ বাসন পরিষ্কার করে খুব সুন্দর একটা সুঘ্রাণ ছড়িয়ে দেয়। সঙ্গে হাতেরও কোনো ক্ষতি করে না।
লবণ
কড়াইয়ের নিচে লেগে যাওয়া খাবার পরিষ্কার করতে লবণ প্রাকৃতিক স্ক্রাবার হিসেবে কাজ করে। ফুটন্ত পানিতে লবণ দিয়ে পাত্রে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেললে পাত্র পরিষ্কার হয়ে যায়।
কর্ন স্টার্চ
পানির সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে বাসন মাজলে দাগ দূর হয় এবং উজ্জ্বল ভাব ফিরে আসে।
নারকেল তেল
শুনতে অবাক লাগলেও গাঢ় গ্রিজ বা তেলের আস্তরণ ভাঙতে নারকেল তেল সাহায্য করে। তবে এরপর অন্য কিছু দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
ঘরে তৈরি লিকুইড
গ্রেট করা মৃদু সাবান, পানি আর এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে আপনি নিজেই ঘরে বানিয়ে নিতে পারেন নিরাপদ ডিশওয়াশিং লিকুইড।
পাউডার ডিশ সোপ
লিকুইডের বদলে পরিবেশবান্ধব পাউডার সোপ ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো হাতের চামড়ার ওপর কম প্রভাব ফেলে।
প্রাকৃতিক ট্যাবলেট
প্লাস্টিকমুক্ত ও ক্ষতিকর রাসায়নিকবিহীন অরগানিক ডিশওয়াশার ট্যাবলেট ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো ত্বকের জন্য নিরাপদ।
যেগুলো কখনোই ব্যবহার করবেন না
বাসন মাজার পণ্য ফুরিয়ে গেলে অনেকে হাতের কাছে যা পান, তা দিয়ে মাজার কাজ সারেন। কিন্তু কিছু জিনিস বাসন মাজার বিকল্প হিসেবে কখনোই ব্যবহার করা ঠিক নয়। যেমন
কাপড় কাচার সাবান বা ডিটারজেন্ট
এগুলো কাপড়ের ময়লা তোলার জন্য তৈরি। ফলে বাসনে ব্যবহার করলে এগুলোতে থাকা রাসায়নিক বা তীব্র সুগন্ধি খাবারের মাধ্যমে আপনার শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
শ্যাম্পু
শাম্পুতে থাকা কন্ডিশনিং এজেন্ট বাসনের ওপর একটা পাতলা পিচ্ছিল আস্তরণ তৈরি করে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
হ্যান্ডওয়াশ বা লিকুইড সোপ
এগুলো বাসন মাজার জন্য যথেষ্ট নয়। এগুলোতে থাকা সুগন্ধি ও কেমিক্যাল বাসনে থেকে যায়, যা ক্ষতিকর।
মেশিন ডিশওয়াশিং সোপ
এটি শুধু মেশিনে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত। হাতে ব্যবহার করলে এগুলো ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করে।
পরিবেশবান্ধব ও প্রাকৃতিক উপায়ে বাসন মাজার অভ্যাস গড়লে আপনার রান্নাঘর রাসায়নিকমুক্ত থাকবে এবং শীতের রুক্ষতায় আপনার হাত দুটিও থাকবে কোমল ও সুরক্ষিত। তাই রান্নাঘরের সাধারণ উপাদান দিয়েই নতুনভাবে শুরু করুন বাসন মাজার কাজ।
সূত্র: ব্লুল্যান্ড ও অন্যান্য