নতুন বছর মানে পুরোনো জীর্ণতা পেছনে ফেলে নতুন শুরুর অঙ্গীকার। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এ কথাটি চিরন্তন সত্য। বছরের শুরুতে আমরা অনেকেই সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে চিন্তিত থাকি। ব্রিটিশ বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বছরের প্রথম তিন মাসে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন পড়ে সবচেয়ে বেশি। এর মূলে থাকে বড়দিনের উৎসবের সময়কার জমে থাকা মানসিক চাপ ও অমীমাংসিত দ্বন্দ্ব। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ড. ক্যাথি নিকারসন মনে করেন, দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলা বা চুপ থাকা দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষোভ ও দূরত্বের জন্ম দেয়। তাই নতুন বছরে আপনার সঙ্গীর সঙ্গে দূরত্ব কমাতে এবং ভালোবাসা সজীব রাখতে তিনি দিয়েছেন ‘রিলেশনশিপ অডিট’ বা সম্পর্ক পর্যালোচনার পরামর্শ। জেনে নিন নতুন বছর সম্পর্কের স্থবিরতাকে বিদায় জানাতে আপনার সঙ্গীকে কোন ৭টি প্রশ্ন করা জরুরি।
সঙ্গী আপনার মন পড়তে পারে না। তাই মনের ভেতর কথা পুষে রেখে নীরব থাকা মানেই বিচ্ছেদের পথে হাঁটা। সম্পর্কের মজবুত ভিত্তি বড় কোনো ত্যাগে নয়; বরং সেসব কথোপকথনের ওপর ভর করে গড়ে ওঠে, যা আমরা সচরাচর এড়িয়ে যাই। এই নতুন বছরে স্বচ্ছ আলোচনা আর মন দিয়ে শোনার অভ্যাস গড়ে তুলে সম্পর্ককে দিন নতুন প্রাণ।
যে ৭টি প্রশ্ন করতে পারেন সঙ্গীকে
আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে আমরা কি সন্তুষ্ট?
অর্থ নিয়ে মনে জমে থাকা ক্ষোভ অনেক সময় ঘৃণায় রূপ নিতে পারে। নতুন বছরে বসে ঠিক করুন যদি সামনে টাকাপয়সার টান পড়ে, তবে আপনাদের পরিকল্পনা কী হবে। দিনশেষে একে অপরের কাছে কতটা আর্থিক নিরাপত্তা আশা করেন, তা খোলামেলা আলোচনা করুন। এতে ভবিষ্যতের অনাকাঙ্ক্ষিত অশান্তি কমবে।
মানসিক ও শারীরিক ঘনিষ্ঠতা ঠিক আছে কি?
ঝগড়া এড়াতে অনেক সময় আমরা ঘনিষ্ঠতা বা যৌনতা নিয়ে কথা বলা বন্ধ করে দিই। কিন্তু ড. নিকারসনের মতে, এটিই শেষ পর্যন্ত বিচ্ছিন্নতার কারণ হয়। একে অপরকে জিজ্ঞাসা করুন, দুজনের চাহিদা কি পূরণ হচ্ছে? কোথায় উন্নতি করা প্রয়োজন? এ খোলামেলা আলোচনা সম্পর্ককে আরও গভীর করে।
গত বছর মানসিক চাপ বা স্ট্রেস লেভেল কেমন ছিল?
দিনের কাজ শেষে বাসায় ফেরার পর আমরা প্রায়ই ক্লান্ত থাকি এবং তুচ্ছ কারণে সঙ্গীর ওপর মেজাজ হারাই। একে অপরকে ১ থেকে ১০-এর স্কেলে জিজ্ঞাসা করুন, কার মানসিক চাপ কেমন। যদি দেখেন একজন ১০-এর কাছাকাছি চাপে আছেন, তবে অন্যজন তাঁর ওপর থেকে কাজের চাপ কমিয়ে দিয়ে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারেন।
আমাদের ব্যক্তিগত স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাগুলো কী?
সম্পর্ক সচল রাখতে স্বপ্নের কথা বলা সবচেয়ে জরুরি। কারও স্বপ্ন সম্পর্কে অন্য কেউ একা একাই জানতে পারে না। তাই জানাতে না চাইলে অনেক কিছুই অজানা থেকে যায়। সঙ্গীকে জিজ্ঞাসা করুন, এ বছরে তাঁর বিশেষ কোনো ব্যক্তিগত লক্ষ্য আছে কি না। একে অপরের স্বপ্নকে গুরুত্ব দিলে সম্পর্কের একঘেয়েমি দূর হয় এবং ভবিষ্যতের প্রতি আশাবাদ সৃষ্টি হয়।
আমাদের স্বাস্থ্য ও নিজের যত্ন নিয়ে আমরা কতটা সচেতন?
সঙ্গীকে প্রশ্ন করুন, শরীরের যত্ন বা মানসিক প্রশান্তির জন্য তিনি আর কী কী করতে চান? হতে পারে তা পর্যাপ্ত ঘুম, ব্যায়াম বা কাজের সময়ের একটু পরিবর্তন। একে অপরের সুস্থতার অংশীদার হওয়া সম্পর্কের এক বড় শক্তি।
আমাদের ব্যক্তিগত সীমানা বা বাউন্ডারি কি সংরক্ষিত আছে?
প্রত্যেক মানুষের কিছু নিজস্ব সীমানা থাকে, যা সুরক্ষিত রাখা প্রয়োজন। যেমন, একজন হয়তো এখনই সন্তান নিতে প্রস্তুত নন; কিন্তু অন্যজন ক্রমাগত চাপ দিচ্ছেন। এমন ক্ষেত্রে খোলামেলা আলোচনা জরুরি। সম্পর্ক নিরাপদ রাখতে সীমানা নির্ধারণ করা কোনো অপরাধ নয়। বরং এটি সম্মানের প্রতীক।
এ বছর আমাদের ‘শেয়ারড গোল’ বা যৌথ লক্ষ্য কী?
বছরের শুরুতে অন্তত একটি লক্ষ্য ঠিক করুন, যা আপনারা দুজনে মিলে অর্জন করতে চান। এটি হতে পারে কোনো ভ্রমণের পরিকল্পনা বা নতুন কোনো অভ্যাস। ড. নিকারসন বলেন, যখন কোনো দম্পতি একসঙ্গে সফল হয়, তখন তাদের বন্ধন ‘টিমমেট’-এর মতো শক্তিশালী হয়।
সূত্র: ডেইলি মেইল