সকাল সকাল ঘুমিয়ে পড়ো, সকাল সকাল ওঠো। শৈশব থেকে শুরু করে যৌবন ও বার্ধক্য—সব বয়সে সকালে ঘুম থেকে ওঠাকে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাত্রার একটি অংশ মনে করা হয়। ইদানীং আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় #5AMClub হ্যাশট্যাগটি বেশ জনপ্রিয়। অ্যাপল বা ভার্জিন গ্রুপের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের সিইওদের ভোরে ওঠার গল্প শুনে অনেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভোর ৫টায় ওঠার চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন। বলা হচ্ছে, ৩০ দিন এটি করতে পারলে আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং জীবনে আমূল পরিবর্তন আসবে। ফলে অনেকে ভোরে ওঠাকেই এখন সফলতার সূত্র মানছে। কিন্তু গবেষক ও ঘুম বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন, জানেন?
চ্যালেঞ্জ ও সফল হওয়ার উপায়
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্কাডিয়ান নিউরোসায়েন্সের অধ্যাপক রাসেল ফস্টারের মতে, ভোরে ওঠার সক্ষমতা অনেকটা জেনেটিক বা বংশগত। যাঁরা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে চান, গবেষকেরা তাঁদের জন্য কিছু কৌশলের কথা বলেছেন। কী সেগুলো—
জলদি ঘুমানো: ভোরে ওঠার প্রধান শর্ত হলো রাতে দ্রুত বিছানায় যাওয়া। যেমন অভিনেতা মার্ক ওয়াহলবার্গ রাত ৭টায় ঘুমান এবং রাত ৩টায় ওঠেন।
অ্যালার্মের সঠিক ব্যবহার: অ্যালার্ম ঘড়িটি হাতের নাগালে না রেখে রুমের অন্য প্রান্তে রাখুন, যাতে আপনাকে বিছানা থেকে উঠতে হয়।
সক্রিয় হওয়া: ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি পান করুন। এরপর উঠে ৫ থেকে ১০ মিনিটের জন্য ঘরের বাইরে বা নতুন পরিবেশে যান। এটি মস্তিষ্ককে সজাগ করতে সাহায্য করে।
মুদ্রার উল্টো পিঠ
সবাইকে ভোর ৫টায় উঠতে হবে—এই ধারণাকে ‘বোকামি’ বলে অভিহিত করেছেন স্লিপ ডক্টর মাইকেল ব্রেউস। তাঁর মতে, কর্মক্ষমতা বা প্রোডাক্টিভিটি শুধু ভোরে ওঠার ওপর নির্ভর করে না; বরং ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরের শক্তি বা এনার্জি লেভেলের ওপর নির্ভর করে। সাফল্য শুধু ৫টায় ওঠার ওপর নির্ভর করে না; এটি নিজের শরীরের ঘড়ি বা ক্রনোটাইপ বুঝে পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করার ওপর নির্ভর করে। তাই ট্রেন্ডের পেছনে না ছুটে নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝুন।
শরীরের জিনগত ঘড়ি বা ক্রনোটাইপ
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাসেল ফস্টার জানান, মানুষ মূলত তিন ধরনের জিনগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মায়। এগুলো হলো—
লায়ন বা লার্ক: এরা প্রাকৃতিকভাবেই ভোর ৫টা থেকে সকাল ৬টায় উঠতে অভ্যস্ত এবং সকালে সবচেয়ে বেশি কাজ করতে পারে।
উলফ বা নাইট আউল: এরা রাত জাগতে পছন্দ করে এবং সকাল ১০টার আগে তাদের মস্তিষ্ক পুরোপুরি সক্রিয় হয় না।
বেয়ার: বেশির ভাগ মানুষ এই দলের। এদের শরীর সূর্যের আলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে। এরা সকাল ৭টায় ওঠেন এবং রাত ১১টায় ঘুমাতে যান।
গবেষকদের মতে, একজন ‘উলফ’ যদি জোর করে ভোর ৫টায় ওঠে, তবে তিনি ‘সোশ্যাল জেট লাগ’-এ আক্রান্ত হবেন। এতে তাঁর বিষণ্নতা ও ক্লান্তি বাড়বে।
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
জোর করে ভোরে উঠতে গিয়ে যদি আপনার ঘুম ৭ থেকে ৯ ঘণ্টার কম হয়, তবে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। ভোরে ওঠার সময় আমাদের মস্তিষ্কের আরইএম স্লিপের ব্যাঘাত ঘটে, যা আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং স্মৃতিশক্তির জন্য জরুরি। দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের অভাবে স্থূলতা, হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
নিজেকে যাচাই করুন
যাঁরা বাধ্য হয়ে ভোরে ওঠেন, তাঁদের জন্য টিপস
যাতায়াত বা কাজের চাপে যাঁদের ভোরে উঠতেই হয়, তাঁরা নিচের বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিগুলো মানতে পারেন।
সূত্র: মিডিয়াম, ভিএন এক্সপ্রেস