শৈশব থেকে সেলাইয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর। স্কুলে সেলাইয়ের কাজ জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে হাতেখড়ি। তারপর দীর্ঘ সময় কেটে গেছে। পরিণত বয়সে বিচারক হয়েছেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শৈশবে শেখা কাজ গেছে হারিয়ে। অনেক অনেক দিন পরে, একটা অখণ্ড অবসর সাদিয়া সুলতানাকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে যায় শৈশবে।
সাদিয়া গত বছর লকডাউনের সময় মনের অস্থিরতা কাটাতে শুরু করেন সুই-সুতার কাজ।
অনলাইনে হুপ আর্ট সম্পর্কে জানার পর আগ্রহ বেড়ে যায় তাঁর। সুই-সুতায় ফ্রিদা কাহলোর ‘সেলফ পোর্ট্রেট উইথ থর্ন নেকলেস অ্যান্ড হামিংবার্ড’ তৈরি করে ফেললেন। সাদিয়া বলেন, ‘প্রতিভাবান ফ্রিদার এই শিল্পকর্ম মনের মতো করে করতে চেয়েছি। যতক্ষণ না করতে পেরেছি, ততক্ষণ পর্যন্ত সেলাইয়ের ফোঁড় বহুবার পরিবর্তন করেছি। করার পর বুঝতে পারলাম, মনের অস্থিরতা আগের তুলনায় অনেকটা কমেছে।’
সোনালী ব্যাংকে কর্মরত নন্দিতা বৈষ্ণব গত বছরের নভেম্বরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আইসোলেশনের সময়টা কাজে লাগাতে করতে শুরু করেন হুপ আর্ট। তাঁর নিজের একটি জামার নকশায় ত্রুটি ছিল। পরতে পারছিলেন না বলে ওই জামার ওপরেই সুই-সুতায় ফুটিয়ে তোলেন নকশা। এরপর প্যাঁচার অবয়ব তোলার চেষ্টা করেন।
নন্দিতা বলেন, ‘জীবনে প্রথম যে স্টিচ করেছি সেটা হলো “বোতাম ফোঁড়”। ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি, বাড়ির বড়রা নিজেদের সেলাইয়ের কাজ করতেন। সেগুলো দেখে দেখে কিছুটা শেখা। কিন্তু সেসব শেখা কখনো কাজ হয়ে ওঠেনি।’ তখন কাজ হয়ে না উঠলেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাসায় থাকার সময় সেটি কাজে লেগেছে বেশ।
নন্দিতা বৈষ্ণব আর সাদিয়া সুলতানা দুজনই হুপ আর্টের কাজ শুরু করেন করোনাকালে। ঘরবন্দী সময়টাকে কাজে লাগিয়ে সুই-সুতা দিয়ে হুপ আর্টের মাধ্যমে নিজেকে নতুনভাবে প্রকাশ করতে পারেন। বন্দী সময়গুলো করে তুলতে পারেন রঙিন আর অর্থবহ। এতে সময়টাও যেমন ভালো কাটবে, তেমনি মানসিকভাবেও থাকতে পারবেন ঝরঝরে।