অনেক অভিভাবক মনে করেন, সন্তানকে টয়লেট ট্রেনিং দেওয়া স্কুলের কাজ। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। সন্তানের এই মৌলিক দক্ষতাগুলো তৈরি না হওয়ার অন্যতম কারণ হলো অতিরিক্ত ‘স্ক্রিন টাইম’ এবং বাবা-মায়ের সচেতনতার অভাব। সন্তানকে স্বাবলম্বী করতে হলে তাকে ছোটবেলা থেকে কিছু বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। বিশেষ করে টয়লেট ট্রেনিং বা শৌচাগার ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলা খুবই জরুরি।
কিনড্রেড স্কোয়ার্ড নামে যুক্তরাজ্যের একটি দাতব্য সংস্থা এক হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকের ওপর একটি গবেষণা করেছে। তাতে দেখা গেছে, প্রতি চারজনের মধ্যে একজন শিশু স্কুলে আসার সময়ও পটি-ট্রেইনড বা শৌচাগার ব্যবহারে অভ্যস্ত নয়। অনেক শিশু নিজের হাতে খাবার খেতে বা পানি পান করতে পারে না। স্মার্টফোনের প্রভাবে অনেক শিশু কাগজের বইয়ের পাতা ওলটাতে জানে না, বরং তারা বইয়ের পাতায় ‘সোয়াইপ’ করার চেষ্টা করে। শিক্ষকেরা প্রতিদিন গড়ে দেড় ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন শিশুদের ন্যাপি বদলাতে বা টয়লেট ব্যবহারে সাহায্য করতে, যা সরাসরি পড়াশোনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
কখন শুরু করবেন
সাধারণত ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে শিশুরা নিজেদের কাজ করতে প্রস্তুত হতে শুরু করে। যদি আপনার সন্তান সহজ নির্দেশ বুঝতে পারে, ২ ঘণ্টা শুকনো থাকতে পারে এবং প্যান্ট একা খুলতে পারে, তবেই তাকে টয়লেট ট্রেনিং দেওয়া শুরু করুন। প্রতিটি শিশুর শেখার গতি আলাদা। মানসিক চাপ না দিয়ে একে একটি আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা হিসেবে গড়ে তুলুন। ছোটখাটো বিপত্তি বা কাপড় নষ্ট হওয়া এই প্রক্রিয়ারই অংশ, তাই ধৈর্য হারাবেন না। আপনার সমর্থনই তাকে দ্রুত স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করবে।
কার্যকরী ৩ টিপস
সহজ শব্দ ব্যবহার করুন। প্রস্রাব বা পায়খানার জন্য নির্দিষ্ট শব্দ, যেমন পি বা পুপ জাতীয় শব্দ শেখাতে পারেন। পরিবারের অন্য সদস্য বা দেখাশোনা যাঁরা করেন, তাঁদের সবাইকে একই পদ্ধতি এবং একই শব্দ ব্যবহার করতে বলুন, যাতে শিশু বিভ্রান্ত না হয়।
একটি নিয়মিত রুটিন তৈরি করুন। ঘুম থেকে ওঠার পর বা খাবার খাওয়ার ১৫ থেকে ৩০ মিনিট পর তাকে পটিতে বসার অভ্যাস করান।
সন্তানকে ৩ থেকে ৫ মিনিটের বেশি পটিতে বসিয়ে রাখবেন না। যদি কাজ না হয়, তবে তাকে উঠে যেতে দিন। বেশিক্ষণ বসিয়ে রাখলে সে এটিকে শাস্তি মনে করতে পারে।
সন্তানকে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করার উপায়
প্রশংসা করুন: সন্তান পটিতে বসার চেষ্টা করলে বা সফলভাবে তা ব্যবহার করলে প্রাণ খুলে প্রশংসা করুন। এতে সে উৎসাহিত হবে।
পুরস্কারের ব্যবস্থা: প্রতিবার সফলভাবে পটি বা টয়লেট ব্যবহার করলে তাকে স্টিকার দেওয়া কিংবা প্রিয় কোনো গল্প পড়ে শোনানোর মতো ছোট পুরস্কার দিন। এমন কিছুদিন করলে তার মন ভালো থাকবে। তবে টয়লেট ব্যবহার করলে তাকে মোবাইলে কার্টুন দেখতে দেওয়া হবে, এমন প্রতিশ্রুতি দেবেন না।
বিরক্তি প্রকাশ করবেন না: যদি সে ভুল করে কাপড় নষ্ট করে ফেলে, তবে কোনোভাবেই রাগ বা বিরক্তি দেখাবেন না। বকাঝকা করলে সে ভয় পেয়ে শিখতে আরও দেরি করতে পারে।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি
পরিষ্কার করার সঠিক নিয়ম: সন্তান নিজে না শেখা পর্যন্ত আপনাকে পরিষ্কার করে দিতে হবে। মেয়েশিশুর ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তাই তাদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।
হাত ধোয়ার অভ্যাস: টয়লেট ব্যবহারের পর প্রতিবার সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধোয়ার নিয়মটি ছোটবেলা থেকে তার মজ্জাগত করে দিন।
দুর্ঘটনা এড়ানোর কিছু কৌশল
তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিন। সন্তান বাথরুমে যাওয়ার কথা বলামাত্র দেরি না করে তাকে নিয়ে যান।
অনেক সময় শিশুরা খেলাধুলায় এত মগ্ন থাকে যে বাথরুমে যাওয়ার কথা ভুলে যায়। অনেকক্ষণ প্রস্রাব বা পায়খানা না করলে তাকে মনে করিয়ে দিন।
দীর্ঘ সময়ের জন্য বাইরে যাওয়ার আগে বা ঘুমানোর ঠিক আগে তাকে একবার টয়লেটে যাওয়ার অনুরোধ করুন।
শিশুকে এমন পোশাক পরান, যা সে সহজে নিজে খুলতে পারে। জটিল বোতাম বা জিপারযুক্ত পোশাক এড়িয়ে চলুন।
সূত্র: ডেইলি মেইল, রাইজিং চিলড্রেন ডট নেট, কিডস হেলথ