আমাদের মনের আনন্দের সঙ্গে ত্বকের উজ্জ্বলতার এক গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সৌন্দর্যচর্চার জগতে সাম্প্রতিক এক নতুন বিপ্লব হলো ডোপামিন স্কিন কেয়ার। ডোপামিন হচ্ছে আমাদের মস্তিষ্কের ফিল গুড বা সুখ হরমোন। এটি আমাদের আনন্দিত করে এবং উজ্জীবিত রাখে। আমরা যখন খুশি থাকি, তখনই মূলত শরীর থেকে এই হরমোন নিঃসৃত হয়। ডোপামিন স্কিন কেয়ার এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে ত্বকযত্নের মাধ্যমে মন প্রফুল্ল করা হয় এবং ডোপামিন হরমোনকে উদ্দীপিত করা হয়। এটি শুধু ক্রিম বা সেরাম মাখা নয়, বরং এটি একটি অভিজ্ঞতা; যা আপনার ত্বক সতেজ করার পাশাপাশি মানসিক চাপ কমিয়ে দেয়।
কেন এটি ভালো এবং কীভাবে কাজ করে
কসমেটোলজিস্ট ও শোভন মেকওভারের স্বত্বাধিকারী শোভন সাহা বলেন, মানসিক চাপ বা কর্টিসল হরমোন বেড়ে গেলে ত্বক নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং অকালে বলিরেখা দেখা যায়। ডোপামিন স্কিন কেয়ারে ব্যবহৃত প্রসাধনীর উজ্জ্বল হলুদ, কমলা বা নীল রং এবং প্রাকৃতিক সুবাস সরাসরি মস্তিষ্কে আনন্দদায়ক সংকেত পাঠায়, যা ডোপামিন হরমোনের নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। এই ‘কালার থেরাপি’ স্নায়ুতন্ত্র শান্ত করার পাশাপাশি রক্তসঞ্চালন ও কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে ত্বক ভেতর থেকে প্রাণবন্ত ও টানটান রাখে। অর্থাৎ, আপনার মন ভালো থাকলে ত্বকেও সেই আনন্দের প্রতিফলন ঘটে।
৩টি ঘরোয়া ফেসপ্যাক
শুধু বাজার চলতি ডোপামিন ফেসপ্যাকই যে ব্যবহার করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন কয়েক ধরনের ডোপামিন ফেসপ্যাক। সেগুলোর মধ্যে আছে—
কমলা ও মধুর ফেসপ্যাক: এক টেবিল চামচ কমলার রসের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে ২০ মিনিট মুখে মেখে রাখুন। তারপর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কমলার ভিটামিন সি ও উজ্জ্বল রং ডোপামিন বাড়াতে সহায়ক। এ ছাড়া ত্বকের ক্লান্তি দূর করে।
কফি ও কোকোর ফেসপ্যাক: সমপরিমাণ কফি ও কোকো পাউডার সামান্য টক দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ত্বকে লাগান। কফির সুগন্ধ আপনার মেজাজ ভালো করার পাশাপাশি ত্বকের ফোলা ভাব কমাবে।
হলুদ ও অ্যালোভেরা জেলের ফেসপ্যাক: তাজা কাঁচা হলুদবাটা ও অ্যালোভেরা জেলের মিশ্রণ ত্বক উজ্জ্বল করে। হলুদের রং দৃশ্যমানভাবেই মনে প্রশান্তি আনে।
প্রসাধনী নির্বাচনের ক্ষেত্রে
বাজার থেকে প্রসাধনী কেনার সময় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সেরাম, নিয়াসিনামাইড এবং উজ্জ্বল রঙের প্যাকেজিং বা সুগন্ধিযুক্ত ক্লিনজার বেছে নিতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন, প্রসাধনীটি যেন আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী হয় এবং এতে যেন খুব কড়া কোনো রাসায়নিক না থাকে। এসেনশিয়াল অয়েল, যেমন ল্যাভেন্ডার বা রোজ অয়েলসমৃদ্ধ ক্রিম ডোপামিন স্কিন কেয়ারে দারুণ কাজ করে।
কী কী খাওয়া যেতে পারে
শরীরে ডোপামিনের উৎপাদন বাড়াতে খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনা জরুরি। নিয়মিত কলা, বাদাম, মিষ্টিকুমড়ার বীজ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ মাছ খান। এ ছাড়া ডার্ক চকলেট ডোপামিন বাড়াতে দারুণ কার্যকর। পর্যাপ্ত পানি এবং রঙিন ফলমূল আপনার মন ও ত্বক—দুই-ই ভালো রাখবে।
মনে রাখবেন, রূপচর্চা মানে শুধু বাহ্যিক প্রলেপ লাগানোই নয়; নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করা এবং সেই সময়টুকু উপভোগ করাই হলো ডোপামিন স্কিন কেয়ারের মূলমন্ত্র। ভেতর থেকে আপনি যতটা সুখী থাকবেন, বাইরে আপনার ত্বক ততটাই উজ্জ্বল দেখাবে।
সূত্র: বডিবুম স্কিন কেয়ার, ওয়ান লাভ অরগানিকস ও অন্যান্য