ধরুন আলমারিতে লাল রঙের দুটি শাড়ি আছে। তবে আপনার আরও একটি শাড়ি ভালো লেগেছে, যা লাল রঙেরই। কিনবেন? আবার ধরুন আপনার বাড়ির দুই গলি পরই একটি স্কুল আছে, আপনার আদরের সন্তানটিকে সেখানে ভর্তি করাবেন। তবে সেই স্কুলটি কাছে হলেও লেখাপড়া সেখানে খুব একটা ভালো হয় না। তাহলে কোথায় ভর্তি করাবেন? এই যে দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট বিষয় থেকে শুরু করে জীবনের অনেক বড় সিদ্ধান্ত পর্যন্ত এসব মানুষকে এক মুহূর্তের জন্য হলেও দ্বিধা ও অস্থিরতায় ফেলে দেয়। কিন্তু সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আমাদের ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেকেই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে ‘ডিসিশন প্যারালাইসিস’ বা সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন। আর তখনই ঘটে বিপত্তি। অনেকেই মনে করেন, প্রতিটি সিদ্ধান্তের একটিই সঠিক পথ থাকে। কিন্তু এটা সব সময় সব ক্ষেত্রেই ঠিক নয়। ফলাফল খারাপ হলে আমরা নিজেদের দোষ দিই। কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন, অনেক প্রভাবক আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মানসিক বাধা
যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অনিশ্চয়তাকে মেনে নিন। কারণ পৃথিবী একটি জটিল জায়গা। এ জায়গাটিতে এমন অনেক জিনিস আছে, যা আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাই সে বিষয়গুলো নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে কেবল সম্ভাব্য ফলাফলের ওপর মনোযোগ দিন। এতে আপনার জীবন কিছুটা হলেও সহজ হবে। কাজ করতে গেলে ভুল হবেই। সেই ভুলকে ভয় না পেয়ে সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়াই সঠিক সমাধান। তাই ভুল করার ভয় ত্যাগ করুন। ভুল হতে পারে এই ভাবনায় কোনো বিষয়কে অমীমাংসিত রাখা কোনো সঠিক সমাধান নয়। কারণ কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া, ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়েও ক্ষতিকর। মনে রাখবেন, ভুল থেকেও শেখার সুযোগ থাকে।
সিদ্ধান্ত গ্রহণের ৫ গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়
তথ্য: পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করুন।
বিনয়: বিশেষজ্ঞ এবং দলের অন্যদের মতামতকে গুরুত্ব দিন।
প্রেক্ষাপট: আবেগীয় ও সাংস্কৃতিক দিকগুলো বিবেচনা করুন।
সহযোগিতা: একতরফা সিদ্ধান্ত না নিয়ে সহযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি করুন।
পরিকল্পনা: একটি খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করুন, যা প্রয়োজনে পরিবর্তন করা যায়।
কর্মক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ৫ প্রধান ধাপ
একটি গোছানো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিলে সেখানে ভুল হওয়ার প্রবণতা কম থাকে।
-সমস্যা খুঁজে বের করুন। প্রথমেই বুঝুন ঠিক কোন বিষয়ে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
-সম্ভাব্য সমাধান খোঁজার চেষ্টা করুন। এরপর গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কয়েকটি বিকল্প পথ বের করুন।
-বিকল্প ব্যবস্থাগুলো নিয়ে ভাবুন। প্রতিটি সমাধানের ভালো ও মন্দ দিকগুলো যাচাই করুন।
-সেরাটি বেছে নেওয়া চেষ্টা করুন। বিশ্লেষণ শেষে সবচেয়ে কার্যকর মনে হওয়া অপশনটি নির্বাচন করুন।
-সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পর দেখুন সেটি কতটা কাজ করল এবং ভবিষ্যতে কী উন্নত করা যায়।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা বাড়ানোর টিপস
মূল লক্ষ্য ঠিক রাখা: ছোটখাটো বিষয়ে সময় নষ্ট না করে আপনার প্রধান লক্ষ্য কী, সেদিকে নজর দিন।
সময়সীমা নির্ধারণ: সিদ্ধান্তহীনতায় ঝুলে না থেকে নিজের জন্য একটি ডেডলাইন বা সময়সীমা ঠিক করুন।
ইনস্টিংক্ট বা সহজাত বুদ্ধিতে বিশ্বাস: অনেক সময় তথ্য বিশ্লেষণের চেয়ে আপনার অভিজ্ঞতা বা ‘গাট ফিলিং’ সঠিক পথ দেখাতে পারে।
পরামর্শ নিন: কোনো মেন্টর বা বিশ্বস্ত বন্ধুর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলে অনেক সময় অস্পষ্টতা কেটে যায়।
অহংকার ত্যাগ করা: নিজের ইগো বা অহংকারকে সরিয়ে রেখে বাস্তবতাকে মেনে সিদ্ধান্ত নিন।
ভালো ঘুম ও বিশ্রাম: মস্তিষ্ক ক্লান্ত থাকলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন। অনেক সময় ‘স্লিপ অন ইট’ বা এক রাত ঘুমিয়ে নিলে পরদিন সকালে বিষয়টি অনেক পরিষ্কার মনে হয়।
সূত্র: মিডিয়াম, উইকিহাউ, ক্যালেন্ডার