কলা আমাদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় খুবই পরিচিত একটি ফল। কিন্তু সমস্যা একটাই—কলা খুব দ্রুত পেকে যায়, খোসা কালচে হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায়। তবে একটু সচেতন হলে এবং কিছু সহজ কৌশল অনুসরণ করলে কলা প্রায় এক মাস পর্যন্ত টাটকা রাখা সম্ভব। এর মধ্যে কার্যকর ও সহজ উপায় হলো লবণপানিতে কলা ধুয়ে সংরক্ষণ করা।
লবণপানিতে কলা ধোয়ার পদ্ধতি
এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে খুব বেশি সময় বা খরচ কিছুই লাগে না।
যা লাগবে—
ধাপে ধাপে করণীয়
কেন লবণপানিতে ধোয়া কার্যকর
এই পদ্ধতির কার্যকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করা যায় তিনভাবে—
ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক ধ্বংস করে: কলার খোসায় স্বাভাবিকভাবে নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের স্পোর থাকে। লবণের হালকা জীবাণুনাশক ক্ষমতা এসব ক্ষতিকর জীবাণু নষ্ট করে। ফলে পচন দেরিতে শুরু হয়।
পাকার গতি কমিয়ে দেয়: কলা পাকার সময় ইথিলিন গ্যাস নির্গত করে, যা ফলকে আরও দ্রুত পাকিয়ে তোলে। লবণ কিছু এনজাইমের কার্যক্রম কমিয়ে দেয়। ফলে ইথিলিন গ্যাসের প্রভাব কমে এবং কলা ধীরে পাকে।
খোসার আর্দ্রতা ধরে রাখে: লবণ পানিতে ধোয়ার ফলে, বিশেষ করে ডাঁটার অংশ পরিষ্কার হলে খোসা দ্রুত শুকিয়ে কুঁচকে যায় না। এতে কলা আগেভাগে কালচে হয়ে ওঠে না।
সংরক্ষণ করতে বাড়তি কিছু টিপস
লবণপানির পদ্ধতির সঙ্গে আরও কিছু কৌশল যুক্ত করলে ফল আরও ভালো হবে। সেগুলো হলো—
ডাঁটা মুড়িয়ে রাখুন: কলার ডাঁটার অংশটি প্লাস্টিক র্যাপ বা অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল দিয়ে শক্ত করে মুড়ে দিন। এতে বাতাস ঢুকতে পারে না এবং ইথিলিন গ্যাস কম ছড়ায়। ফলে কলা অনেক ধীরে পাকে।
কলা ঝুলিয়ে রাখুন: টেবিল বা ঝুড়িতে রাখলে নিচের কলাগুলো চাপ খেয়ে দাগ পড়ে যায়। কিন্তু ঝুলিয়ে রাখলে—
আপেল, অ্যাভোকাডো, টমেটো ইত্যাদি ফল প্রচুর ইথিলিন গ্যাস উৎপন্ন করে। এসব ফলের পাশে রাখলে কলা খুব দ্রুত পেকে যায়। তাই আলাদা জায়গায় কলা রাখুন।
কোথায় রাখবেন
মনে রাখুন
কলা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক হলেও সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে তা সহজে এড়ানো যায়। লবণপানিতে কলা ধুয়ে ভালোভাবে শুকানো, ডাঁটার অংশ ঢেকে রাখা এবং উপযুক্ত জায়গায় সংরক্ষণ—এই কয়েকটি ছোট কিন্তু কার্যকর অভ্যাস কলা পাকার গতি অনেকটা কমিয়ে দেয়। এতে এটি দীর্ঘদিন টাটকা থাকে, অপচয় কমে এবং অর্থের সাশ্রয় হয়। দৈনন্দিন জীবনে এই সহজ কৌশলগুলো মেনে চললে ঘরে রাখা কলা আরও বেশি দিন সুন্দর এবং খাওয়ার উপযোগী থাকবে।
সূত্র: ভিএন এক্সপ্রেস