হোম > চাকরি > ক্যারিয়ার পরামর্শ

১৯তম বিজেএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা: শেষ সময়ের প্রস্তুতি যেমন হবে

শাহ বিলিয়া জুলফিকার

শেষ মুহূর্তের গোছানো প্রস্তুতি একজন পরীক্ষার্থীকে সাফল্যের পথে অনেকটাই এগিয়ে রাখে। ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৯তম বিজেএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। এ পরীক্ষা সামনে রেখে শেষ সময়ের প্রস্তুতি ও করণীয় নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন ১৭তম বিজেএসে সিভিল জজ হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সাদিকুর রহমান। তাঁর অভিজ্ঞতালব্ধ পরামর্শ গ্রন্থনা করেছেন শাহ বিলিয়া জুলফিকার।

গুরুত্ব বুঝে পড়ুন

প্রস্তুতিতে সময়ের সঠিক বণ্টন ও বিষয়ভিত্তিক গুরুত্ব নির্ধারণ জরুরি। দেওয়ানি কার্যবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি, দণ্ডবিধি ও সাক্ষ্য আইন পড়তে যে সময় লাগে, অনেক ক্ষেত্রে সেই সময়ে বা তার চেয়ে কম সময়ে বাকি আইনগুলো আয়ত্ত করা সম্ভব। অথচ বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই চার আইন থেকে সম্মিলিতভাবে প্রায় ১২ থেকে ১৫ নম্বরের প্রশ্ন এসেছে। বাকি নম্বরের প্রশ্ন এসেছে অন্য আইন থেকে। তাই সময়, পরিশ্রম ও সম্ভাব্য নম্বরের অনুপাত বিবেচনা করে অগ্রাধিকার ঠিক করা উচিত। তবে এর অর্থ এই নয় যে এই চারটি আইন বাদ দিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। বরং এগুলোর মৌলিক বিষয় আয়ত্ত করার পাশাপাশি তুলনামূলক সহজ ও বেশি নম্বরের সম্ভাবনাময় আইনে বিশেষ নজর দিতে হবে।

বাংলায় বিশেষ নজর দিন

বাংলায় ৫ নম্বর ব্যাকরণ ও ৫ নম্বর সাহিত্য থেকে প্রশ্ন আসে। ব্যাকরণ অংশে ভাষা, ধ্বনি পরিবর্তন, সমাস, কারক, সন্ধি, উপসর্গ ও শুদ্ধ বানানে জোর দিন। নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বই থেকে উদাহরণসহ অনুশীলন করুন। বাগধারা, বাক্য সংক্ষেপণ, বিপরীত ও সমার্থক শব্দ বাজারের যেকোনো ডাইজেস্ট বা রেফারেন্স বই থেকে অন্তত একবার দেখে নিন। বিখ্যাত লেখকদের সম্পাদিত পত্রিকা, ছদ্মনাম, সাহিত্যকর্ম ও প্রধান চরিত্র মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। বাংলার ব্যাকরণ ও সাহিত্যের প্রিলি ও লিখিত প্রস্তুতি একই।

ইংরেজিভীতি দূর করুন

ইংরেজি গ্রামারের ৫ নম্বরের প্রস্তুতির জন্য Parts of Speech, Right form of Verbs, Degree, Narration, Voice, Transformation of Sentence, Preposition, Article, Gerund, Vocabulary, Idioms & Phrases-এর নিয়ম খাতায় ভালোভাবে গুছিয়ে নোট করুন। অথবা বই থেকে বারবার দেখুন। সঙ্গে বিগত বছরে আসা প্রশ্ন ও যেকোনো বই থেকে অনুশীলন করুন। ইংরেজি সাহিত্য অংশের জন্য Old, Middle, Modern ও Post-modern যুগের কবি-সাহিত্যিকদের হাইলাইটেড অংশের পাশাপাশি literary terms, nationality of poets, famous characters ও famous quotes পড়ুন।

গণিত ও বিজ্ঞান অংশের প্রস্তুতি

গণিতের সূত্র মুখস্থ রাখা ট্রাম্পকার্ড। অনুশীলনের জন্য সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির বোর্ড বই সেরা। যাঁদের লিখিত প্রস্তুতি ভালো, তাঁদের জন্য গণিতে ভালো নম্বর তোলা সহজ। জ্যামিতি অংশের জন্য মৌলিক বিষয়, যেমন সংজ্ঞা, আয়ত্তে রাখুন।

বিজ্ঞান অংশে ভালো প্রস্তুতির জন্য সপ্তম, অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বই পড়ার সময় ছোট ছোট সূত্র ও অঙ্ক খাতায় টুকে রাখুন। শব্দ, আলো, চুম্বকত্ব, পানি, খাদ্যপুষ্টি, বায়ুমণ্ডল, অম্ল-ক্ষার-লবণ এবং বিভিন্ন রোগ ও প্রতিকারের অধ্যায়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখুন।

বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

এ অংশের প্রস্তুতির জন্য বাজারের প্রচলিত সাম্প্রতিক বিষয়াবলির বই কিনে নিয়মিত পড়ুন। সঙ্গে বাংলা সংবাদপত্র। বিভিন্ন শাসনামল, ১৯০৫-৭১ সালের ইতিহাস, প্রাচীন জনপদ, বিশ্বসভ্যতা, যুদ্ধ, প্রণালি, বাঁধ, খাল, সীমারেখা, গোয়েন্দা সংস্থা, অর্থনৈতিক জোট, দিবস/বর্ষ, বিভিন্ন দেশের রাজধানী, মুদ্রা, ভাষা ও পার্লামেন্ট পড়ুন। আন্তর্জাতিক সংস্থা, প্রটোকল ও কনভেনশনও ভালোভাবে দেখুন। বাংলাদেশের জনসংখ্যা, উপজাতি, জনশুমারি ও অর্থনৈতিক সমীক্ষার সাম্প্রতিক তথ্য জানা দরকার। এই অংশের ১০ নম্বরের মধ্যে সাধারণত ৪-৬ নম্বর আসে সাম্প্রতিক বিষয়াবলি থেকে।

দেওয়ানি আইনের প্রস্তুতি

সাধারণত দেওয়ানি কার্যবিধি (সিপিসি) থেকে ৪ থেকে ৬টি প্রশ্ন আসে। এসআর ও তামাদি আইন, এডিআর ও সিভিল কোর্টস অ্যাক্ট থেকে আসে ১-২টি করে। সিপিসি নোট করে পড়ার বিকল্প নেই। ধারার জন্য একটি ও আদেশের জন্য আরেকটি খাতায় নোট রাখুন। পড়ার সময় পাশাপাশি রেখে পড়লে সহজে আয়ত্তে আসবে। কিছু আদেশ, যেমন: ১ থেকে ৯, ১০, ১৪, ১৫, ১৭, ১৮, ২০, ২১, ২৬, ৩২, ৩৩, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪৩ ও ৪৭ গুরুত্ব সহকারে দেখুন।

এসআর অ্যাক্ট থেকে অধ্যায় ভাগ করে পড়ুন। বিশেষ করে ধারা ৮-১২, ২১, ২১ক, ২২, ২৭ক, ৩১-৪৩ ও ৫২-৫৭। তামাদি আইনের মূল ধারার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তামাদি মেয়াদ খাতায় লিখে পড়লে মনে রাখা সহজ। এডিআর থেকে ধারণা রাখুন কোন আইনের কত ধারায় এডিআর বিধান আছে। সঙ্গে বিগত প্রশ্ন অনুশীলন করুন। সিভিল কোর্টস অ্যাক্টে ধারা ১(২), ৩, ৬, ৮-১৫, ১৮-২৫ ও ৩৬-৪০ দেখুন।

অপরাধসংক্রান্ত আইন

ফৌজদারি কার্যবিধিতে উপধারাসহ মুখস্থ রেখে পড়ুন এবং সাম্প্রতিক সংশোধনী গুরুত্ব দিয়ে দেখুন। সেসব ধারা একদম না পড়লেই নয়, ধারা ৬-১২, ২৮-৩৫ক, ৪৬-৫২, ৫৪, ৫৫, ৫৭, ৫৯-৬১, ৬৮-৭৩, ৭৫-৮৬, ৮৭-৮৯, ৯৬, ৯৮, ১০০-১০৩, ১০৬-১১০, ১১৬, ১১৮, ১২৩, ১২৭-১৩৩, ১৪৪, ১৪৫, ১৪৬-১৪৮, ১৫৪-১৫৭, ১৬০-১৬৪, ১৬৭-১৭৬, ১৭৭-১৮৩, ১৯০-২০৫ঘ, ২২১-২৪০, ২৪১ক-২৫০, ২৬০-২৬২, ২৬৫ক-২৬৫ঠ, ৩৩৭-৩৪৫, ৩৪৯, ৩৬৪, ৩৬৬-৩৮৬, ৪০১-৪১৪, ৪১৭, ৪১৭ক, ৪১৯-৪৩৯ক, ৪৯১, ৪৯৪, ৪৯৬-৪৯৮, ৫২৫-৫২৮, ৫৩৯খ, ৫৫৬, ৫৬১ক।

দণ্ডবিধিতে শাস্তি মুখস্থ করার বিকল্প নেই। বারবার রিভিশন দিন এবং শাস্তিগুলো ধারাসহ খাতায় লিখুন। ধারা ৩৪-৩৮, ৫৪-৭০, ৭৩, ৭৪, ৭৬-১০৬, ১০৭-১১৯, ১২০ক, ১২০খ, ১৪১-১৪৯, ১৫৯-১৬৩, ১৭০, ১৮৬-২০১, ২৯৯-৩১৫, ৩১৯-৩২৬ক, ৩৩৯, ৩৪০, ৩৪৯-৩৫২, ৩৫৯-৩৬৪ক, ৩৭৫-৩৭৭, ৩৭৮-৪১১, ৪১৫-৪২০, ৪২৫-৪২৮, ৪৩৫, ৪৪১-৪৫৩, ৪৬৩-৪৬৫, ৪৭০, ৪৭১, ৪৭৮-৪৮২, ৪৮৯ক-ঘ, ৪৯৩-৪৯৮, ৪৯৯, ৫০০, ৫০৩, ৫০৬, ৫০৭, ৫১১ অবশ্যই পড়বেন।

সাক্ষ্য আইনে বিগত প্রশ্নে গুরুত্ব দিন এবং প্রতিটি অপশনের ব্যাখ্যাসহ পড়ুন। যেসব ধারা পড়তেই হবে, ধারা ৩, ৫, ৬-১৪, ১৭-৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪-৪১, ৪৫-৫০, ৫২-৫৪, ৫৬-৫৮, ৫৯-৭১, ৭৩-৭৭, ৭৯-৯০ক, ১০১-১১১, ১১৫-১৫০, ১৫৪, ১৫৫, ১৫৭ ও ১৫৯।

মুসলিম আইনের পারিবারিক ও সম্পত্তি অংশ অধ্যায় ধরে ভাগ করে, আরবি শব্দের বাংলা অর্থসহ পড়ুন, যেন প্রিলি ও লিখিত দুই জায়গাতেই কাজে আসে। গুরুত্ব দিন Introductory অধ্যায়, বিবাহ, দেনমোহর, তালাক, ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব, ওয়াকফ, হেবা, ওসিয়ত, সুফা এবং উত্তরাধিকারে ১২ জন অংশীদার কে কত পায়।

পারিবারিক আইন, MFLO ও DMM থেকে ২-৩ নম্বর আসে। হিন্দু আইনের জন্য শ্রী দীনেশ চন্দ্র দেবনাথ স্যারের বাংলা বইটি প্রিলি ও লিখিত দুই ক্ষেত্রেই প্রস্তুতি সহজ করবে।

সাংবিধানিক আইন

মূল সংবিধানের সব অনুচ্ছেদ বেয়ার অ্যাক্ট থেকে উপ-অনুচ্ছেদসহ পড়ুন। বিখ্যাত মামলা ও নীতি/মতবাদ, যেমন: Doctrine of State Necessity, Efficacy, Eclipse & Severability, Intergenerational Equity, Legitimate Expectations, Proportionality, Constitutional Morality, State immunity, Positive Discrimination ইত্যাদি) কোন অনুচ্ছেদের সঙ্গে সম্পর্কিত, তা জানা দরকার। সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস, সাম্প্রতিক সংশোধনী ও আলোচিত বিষয়েও ধারণা রাখুন। জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট ও আইনের ব্যাখ্যা থেকে সাধারণত ১-২টি প্রশ্ন আসে। তাই এর মৌলিক ধারণা প্রিলির পাশাপাশি লিখিত অংশেও কাজে লাগবে।

সম্পত্তি-সংশ্লিষ্ট আইন

সম্পত্তি-সংশ্লিষ্ট ৫টি আইন থেকে প্রিলিতে ১০টি প্রশ্ন আসে, প্রতিটি থেকে ১-৩টি। তাই ৫টিই গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে, বিশেষ করে মূল আইন। সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ও চুক্তি আইন পড়ার সময় বিভিন্ন ডকট্রিন ধারার সঙ্গে মিলিয়ে নোট করলে প্রিলি ও লিখিত দুই ক্ষেত্রেই কাজে আসবে। প্রতিটি আইন পড়ার সময় বেয়ার অ্যাক্টের সূচিপত্রে প্রতিটি ধারার গুরুত্বপূর্ণ অংশ লিখে রাখুন। সাধারণত প্রিলিতে উদাহরণ থেকে ১টি প্রশ্ন আসে।

ঐচ্ছিক বিষয়ের প্রস্তুতি

ঐচ্ছিক-১ ও ঐচ্ছিক-২ অংশ থেকে ৫টি করে মোট ১০টি প্রশ্ন আসে। প্রিলিতে পাস করতে এই আইনগুলো বড় সহায়ক। বিভিন্ন শাস্তির মেয়াদ, তদন্ত ও মামলা নিষ্পত্তির সময়সীমা, আদালত বা ট্রাইব্যুনাল এবং বিচারক-সংক্রান্ত অংশ খুব গুরুত্ব দিয়ে পড়ুন। ঐচ্ছিক আইন পড়তে গেলে বিভিন্ন আইনে প্রায় একই ধরনের বিধান থাকায় অনেক সময় গোলমাল পাকিয়ে যেতে পারে। এ সমস্যা এড়াতে ঐচ্ছিক-১ ও ২-এর জন্য আলাদা দুটি পৃষ্ঠায় যেখানে মিল পাবেন, তা পাশাপাশি নোট করতে পারেন।

শুধু চিপ ডিজাইন নয়, নিজস্ব প্রযুক্তি ও পণ্য তৈরি করাই লক্ষ্য

‘অভিজ্ঞতা নেই’ ফ্রেশাররা কীভাবে নিজের গুরুত্ব তৈরি করবে

তৃতীয়বারের চেষ্টায় সিভিল জজ শরিফুল

অফিসের কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদ: পরীক্ষার শেষ সময়ের প্রস্তুতি

ক্যারিয়ার নিয়ে সুন্দর পিচাইয়ের পরামর্শ

ডাক্তারি পড়াশোনা বদলে বিচারক হলেন শাওলিন

১৮তম বিজেএস: প্রথমবার ব্যর্থ, দ্বিতীয়বারে প্রথম হলেন সিয়াম

গুণগত গবেষণায় সঠিক প্রশ্নই সঠিক পথ দেখায়: ড. মোহাম্মদ আসিফ কামাল

পরপর দুই বিসিএসে ক্যাডার: মাসুদ আলীর পরামর্শ